kalerkantho


আওয়ামী লীগে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী, ঝামেলামুক্ত বিএনপি

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আওয়ামী লীগে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী, ঝামেলামুক্ত বিএনপি

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার নির্বাচনী আসন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল)। তিনি ওই মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হন ডা. মতিউর রহমান। তিনি মারা যাওয়ায় এ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন চান টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমানুর রহমান খান রানা। কিন্তু দল মনোনয়ন দেয় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম লেবুকে। রানা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হন। এ সময় দল তাঁকে বহিষ্কার করলেও নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হওয়ার পর দল তাঁকে গ্রহণ করে। পরবর্তী নির্বাচন অর্থাৎ ২০১৪ সালে আমানুর রহমান খান রানাকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য হন।

আমানুর রহমান খান রানার কারণে এ আসনটি আলোচিত। দলীয় নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি রানাকে দল থেকে আবার মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে ঘাটাইল ও টাঙ্গাইলে আলোচনা রয়েছে।

অন্যদিকে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু এর আগে মনোনয়ন পেয়ে রানার কাছে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আমানুর রহমান খান রানা এলাকায় না থাকলেও মাঠ দখল করতে পারেননি লেবু। রানার নেতাকর্মী ও অনুসারীরা এখনো অনেক চাঙ্গা। শহিদুল ইসলাম লেবু ও তাঁর অনুসারীদের একাধিক কর্মসূচি রানার অনুসারীদের পাল্টা কর্মসূচির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার ১৪৪ ধারাও জারি করে।

রানা ও লেবু পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে তৃতীয় কেউ মনোনয়ন পেয়ে যেতে পারেন বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মতিউর রহমানের ছেলে তানভীর রহমান। তিনি বাবার আসন ফিরে পেতে এবার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠ গোছাচ্ছেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

তানভীর প্রতি সপ্তাহে এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনুদান দিচ্ছেন।

এদিকে বিএনপিতে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। একাধিক নেতার মধ্যে মনোনয়নের প্রতিযোগিতা থাকলেও দলে কোন্দল খুব বেশি নেই। এ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দলের কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। আজাদ ছাড়াও এবার জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এ আসনে এর আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী সমান চারবার এবং জাসদ (সিরাজ) প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী একবার করে বিজয়ী হন। এটি জাতীয় সংসদের ১৩২ নম্বর আসন। এখানে আওয়ামী লীগে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। এদিকে বিএনপি আছে ঝামেলামুক্ত।

আওয়ামী লীগ : দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আমানুর রহমান খান রানা কারাগারে থাকলেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু এবারও মনোনয়ন চাইবেন। রানার অনুপস্থিতিতে মাঠ পুরোপুরি দখলে নিতে না পারায় তীব্র সমালোচনা রয়েছে শহিদুল ইসলাম লেবুর বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় দলের মনোনয়ন পেতে একাধিক নেতা সরব হয়ে উঠেছেন। মনোনয়নের প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি সৈয়দ আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ তুহিন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। ঘাটাইলে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তালিকায় আছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস আকবার খান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শহিদুল ইসলাম।

এদিকে বাবার আসন পেতে মাঠে নেমেছেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ডা. মতিউর রহমানের ছেলে তানভীর রহমান। মতিউর রহমানা মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে তাঁর স্ত্রী বা ছেলে আসবেন বলে অনেকে মনে করেছিল। কিন্তু তখন না এলেও এবার ছেলে তানভীর রহমান মাঠে নেমে পড়েছেন। তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দলের কোন্দল ও বিরোধের ফসল গিয়ে উঠতে পারে তানভীরের ঘরে। তরুণ প্রজন্মকে তিনি কাছে টানছেন। এরই মধ্যে তিনি ঘাটাইলে সাড়াও ফেলেছেন।

তানভীর রহমান বলেন, ‘তরুণ, উদ্যমীদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) নির্বাচনী মাঠে দেখতে চান। তাঁর দিকনির্দেশনা শতভাগ পালন করার চেষ্টা করছি। আমি জনগণের কর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করতে চাই। যদি মনোনয়ন পাই, আশা করি ব্যক্তি ইমেজের কারণে অন্য দলেরও অনেক ভোট আমার বাক্সে আসবে।’

বিএনপি : এবারের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এই আসনের চারবারের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ। তারপরে জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে জেলা বিএনপির  কোষাধ্যক্ষ শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের নাম। মনোনয়নের প্রত্যাশায় তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন, মসজিদ-মাদরাসাসহ সামাজিক সংগঠনে ও নানা অনুষ্ঠানে অনুদান দিচ্ছেন। ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ভদ্র মানুষ এবং সক্রিয় ও দায়িত্বশীল নেতা হিসেবেও তাঁকে অনেকে চেনে। তিনি এলাকায় নিয়মিত যাচ্ছেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন।

মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘এবার দল থেকে তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে আমি আশাবাদী। এলাকার দল-মত-নির্বিশেষে আমাকে চাচ্ছে। তবে আমি দলের মধ্যে কোনো বিভেদ চাই না। দলের প্রতি আমি আস্থাশীল।’

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা এস এম এ খলিলও বিএনপির মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। 

অন্যান্য : জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে অ্যাডভোকেট সুজাত আলী ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রার্থী হিসেবে আতোয়ার রহমান খান নির্বাচন করতে পারেন বলে এলাকায় শোনা যাচ্ছে।



মন্তব্য