kalerkantho


লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক নিখোঁজ

তুলে নেওয়ার অভিযোগে জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক নিখোঁজ

ফাইল ছবি

জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় অভিযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক (পরিচালক) খালেদ হাসান মতিন তাঁর গুলশানের কার্যালয় থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সাদা পোশাকে সাত-আটজন তাঁকে গুলশানের কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত মতিনের কোনো খোঁজ মেলেনি।

২০০৬ সালে ধানমণ্ডির ৬/এ সড়কে প্রতিষ্ঠিত হয় লেকহেড গ্রামার স্কুল। গুলশানে এ স্কুলের দুটি শাখা আছে। ২০০৯ সালে হিযবুত তাহ্রীর নিষিদ্ধ হওয়ার পর স্কুলটি প্রথম আলোচনায় আসে বলে জানা গেছে। উগ্রবাদী কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে এই স্কুল বন্ধ করে দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ করে স্কুলটি চালুর নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। 

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়া গতকাল রাতে বলেন, ‘লেকহেড গ্রামার স্কুলের কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী প্রতিষ্ঠানটির মালিক খালেদ হাসান মতিনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগে থানায় জিডি করেন। ঘটনা শোনার পর থেকে আমরা তদন্ত করছি। এখনো কিছু জানা যায়নি।’

জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ও পৃষ্ঠপোষক রেজোয়ান হারুন সম্প্রতি লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে লাপাত্তা হয়ে যান। এখন পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রেজোয়ান হারুনের বিরুদ্ধে উগ্রবাদে অর্থায়ন ও মদদের অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে রেজোয়ান হারুনকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ৬ নভেম্বর ধানমণ্ডি ও গুলশানের দুটি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল সিলগালা করে দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালমা জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি সরকারের অনুমোদন নেয়নি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এরপর স্কুলের দুটি শাখাসহ লেকহেড গ্রামার স্কুলের সব কার্যক্রম বন্ধের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে তিনটি রিট করা হয়। স্কুলের নতুন মালিক ও ১২ জন অভিভাবকের পক্ষে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম রিট দায়ের করেন।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, স্কুলটির ১২ জন সাবেক শিক্ষক-কর্মকর্তা সরাসরি জঙ্গিবাদে জড়িত বলে অভিযোগ আছে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং যোগাযোগ আছে এমন অর্ধশত জঙ্গিবাদে জড়িত। এ প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক। এসব বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনও আছে। লেকহেডের প্রতিষ্ঠাকালীন এই স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন জেনিফার আহমেদ, পরবর্তী পরিচালক রেজোয়ান হারুন, শিক্ষক রাজীব করিম, তাঁর ভাই তেহজিম করিম ও তেহজিবের স্ত্রী সিরাত করিম এবং তাঁদের সহযোগী শিক্ষক মাইনুদ্দিন ও শরীফ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গুলশান হামলায় জড়িত জাহিদুল ইসলাম জঙ্গিবাদে জড়িত। পরিচালক রেজোয়ানের সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা কারাবন্দি জসিম উদ্দিন রাহমানী, আনসারুল্লাহর আরেক শীর্ষ নেতা রেজওয়ানুল আজাদ রানা, পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি জঙ্গি ইফতেখার আহমেদ সনি, নিখোঁজ জঙ্গি ফারজাদ হক তুরাজ, জুবায়েদুর রহমান, তাসনুভা হায়দার, ইয়াসিন তালুকদার, আরিফুর রহমানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাঁরা সবাই বিভিন্ন সময়ে লেকহেড গ্রামার স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন।



মন্তব্য