kalerkantho


আইভীকে দেখতে হাসপাতালে ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ আদর্শের সঙ্গে আপস করে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আওয়ামী লীগ আদর্শের সঙ্গে আপস করে না

অসুস্থ মেয়র আইভীকে দেখতে গতকাল ল্যাবএইড হাসপাতালে যান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ক্ষমতায় আসতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী কৌশল করলেও আদর্শের সঙ্গে আপস করে না। পঁচাত্তরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী ২১ বছরের জাতীয় রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘সে কারণেই ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসতে আমাদের কৌশল গ্রহণ করতে হয়েছে। মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর বদলে সাবের হোসেন চৌধুরীকে, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে বাদ দিয়ে হাজি সেলিমকে মনোনয়ন দিতে হয়েছে। এটা করতে হয়েছে ক্ষমতায় আসার জন্য। এটাকে আপনারা আপস বলবেন না, এটা কৌশল; আদর্শ থেকে সরে আসা নয়।’

গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘২৬ বছরের অভিযাত্রা-নির্বাচনের বছরে নির্মূল কমিটির আন্দোলন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। তাঁকে সে সময় পৃষ্ঠপোষকতা দেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। জাহানারা ইমামের আন্দোলন এখন সফলতার পথে। শেখ হাসিনার মতো অসীম সাহসীর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে বাঘা বাঘা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা? শেখ হাসিনা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।

সাংগঠনিকভাবে জামায়াতের বিচার ও জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের দলে আশ্রয় দেওয়ার বিষয় নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ আদর্শের প্রশ্নে আপস করে না। নির্বাচনে লড়তে আওয়ামী লীগের জামায়াতকর্মীর দরকার হয় না। শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝবেন না। জামায়াতের বিরুদ্ধে যা করার তিনিই করবেন। তিনি বলেন, ‘হেফাজত নিয়ে আজ অনেক কিছু বলা হয়। আমরা হেফাজতের সঙ্গে আপস করিনি, সমঝোতা করিনি। বাস্তবতার নিরিখে তাদের শিক্ষা সনদ দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছি।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংলাপের দরজা খালেদা জিয়া আগেই বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচন হচ্ছে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অধিকার। অধিকার প্রয়োগ করতে কাউকে সংলাপ করে, আদর করে ডেকে আনতে হবে কেন? বিএনপি তো সিইসির প্রশংসায় গদগদ। নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ দিয়েছে, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। জনপ্রিয়তা থাকলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মতো তারা জিতবে, না হলে হারবে। তবে বিএনপি কী চায় এখনো সেটাই তারা ঠিক করতে পারেনি। নানা ঝামেলা আছে তাদের ভেতর। মির্জা ফখরুল একটু নরম ভাষায় কথা বললে দলের অন্যরা তাঁকে দালাল বলে। তারা নেতিবাচক দলে পরিণত হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের কেউ অপরাধ করলে আমরা ছাড় দেই না। এখনো আমাদের এক মন্ত্রীর ছেলে জেলে আছে, একজন এমপিও জেলে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন নারায়ণগঞ্জের বিষয়ে তদন্ত কমিটি করতে। তদন্ত চলছে। যে অপরাধী তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’

বিচারপতি শামসুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মাদ শফিকুর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ, সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর প্রমুখ।

শাহরিয়ার কবির উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, সারা দেশে ৫০টি নির্বাচনী এলাকা আছে, যেখানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের পরিমাণ বেশি। নির্বাচনের আগেই এ বিষয়গুলো নিয়ে ইসির সঙ্গে আলাপ করে পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি জামায়াত ও মৌলবাদের আশ্রয়দাতা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে। অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জে নির্যাতিত পূর্ণিমার মা বাসনা রানীকে পুরস্কৃত করা হয়।

 

আইভীকে দেখতে হাসপাতালে

রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে দেখতে গেলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তিনি আইভীর শয্যাপাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

হাসপাতাল ত্যাগের আগে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেলিনা হায়াত আইভী মাইনর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন আউট অব ডেঞ্জার। তার পরও তাঁকে আরো চার-পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।’

এদিকে ল্যাবএইড হাসপাতালের চিকিৎসক বরেন চক্রবর্তী বলেন, ‘মেয়র আইভীর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে তাঁকে আরো কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হবে। ওনার ব্রেইনে হ্যামারেজ হয়েছে।’

গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে মেয়রের কার্যালয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আইভীকে ওই দিন বিকেলে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।



মন্তব্য