kalerkantho


ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার কম্বল বিতরণ

‘ঠাণ্ডার হাত থাকি মোক বাঁচাইনেন বাহে’

রংপুর অফিস ও লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘ঠাণ্ডার হাত থাকি মোক বাঁচাইনেন বাহে’

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে গতকাল লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ এলাকায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘বুড়া বয়সে এই ঠাণ্ডায় গাও (শরীর) খালি থরথর করি কাঁপে। রাইতোত নিন ধরে না। তোমরা এই কম্বল দিয়া ঠাণ্ডার হাত থাকি মোক বাঁচাইনেন বাহে। দোয়া করোং আল্লায় তোমার ভালো করবে।’ কম্বল পেয়ে এমন অনুভূতি ব্যক্ত করেন রংপুরের অভাবী

এলাকা বলে পরিচিত গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চরের ৭০ বছর বয়সের আলীমুন্নেছা। দেশের বৃহত্তম শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে গতকাল সকালে গঙ্গাচড়ায় তিস্তা-তীরবর্তী এলাকায় আলীমুন্নেছার মতো ৪০০ শীতার্ত মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়। উপজেলার লক্ষ্মীটারী, গজঘণ্টা ও গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের অসহায় শীতার্তদের মধ্যে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।

এ ছাড়া লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা-তীরবর্তী খুনিয়াগাছে গতকাল বিকেলে ২০০ শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেরও ২০০ জন দুস্থ শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম, নিউজটোয়েন্টিফোর ও ডেইলি সানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই কম্বল পেয়ে অসহায় শীতার্ত মানুষরা উষ্ণতা পেল।

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পক্ষে রংপুর বিভাগের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলায় শীতার্তদের মধ্যে দুই হাজার কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।

গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কম্বল বিতরণ করেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের উপদেষ্টা খন্দকার কামরুল হক শামীম। এ সময় গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এনামুল কবির, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী, মহিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান, তালুক হাবু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমল কান্ত রায়, বাংলাদেশ প্রতিদিনের রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাজাদা মিয়া আজাদ, কালের কণ্ঠ’র রংপুর অফিস প্রধান স্বপন চৌধুরী ও আলোকচিত্র সাংবাদিক আদর রহমান এবং কালের কণ্ঠ শুভসংঘের রংপুর জেলা সম্পাদক জারিফ আনসারীসহ শুভসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর লালমনিরহাট সদরের খুনিয়াগাছ বাজারে ২০০ শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। এ সময় কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের উপদেষ্টা খন্দকার কামরুল হক শামীম ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান মমিনুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের লালমনিরহাট প্রতিনিধি রেজাউল করিম মানিক ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের প্রতিনিধি খোরশেদ আলম সাগর উপস্থিত ছিলেন।

এরপর হাতীবান্ধা প্রেস ক্লাব মাঠ লাগোয়া হেলিপ্যাড মাঠে গতকাল বিকেলে কম্বল বিতরণ করা হয়। কালের কণ্ঠ’র পাঠক সংগঠন শুভসংঘের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কম্বল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন লাভলু, ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম বসুনীয়া, হাতীবান্ধা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস বসুনীয়া পবন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান সোহেল, যুগান্তরের লালমনিরহাট প্রতিনিধি মিজানুর রহমান দুলাল, জাগোনিউজের রবিউল ইসলাম, পূর্বপশ্চিমবিডির রবি ইসলাম, খোলা কাগজের নিয়াজ আহমেদ শিপন ও দ্য রিপোর্টের হাসান মাহমুদ এবং কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধি হায়দার আলী বাবু।

এ ছাড়া সেখানে উপস্থিত থেকে ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করেন শুভসংঘের সদস্য রিয়াজ মোর্শেদ রানা, মাহফুজার রহমান শুভ, আবু শামীম, মিজানুর রহমান ও সুরুজ্জামান আহমেদ সবুজ।

শীতে কাঁপা পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধ খলিলুর রহমান কম্বল পেয়ে সেটি তৎক্ষণাৎ গায়ে জড়িয়ে নেন এবং দোয়া করতে থাকেন। তিনি বলছিলেন, ‘এবারের ঠাণ্ডাত কোনো রকমে বাঁচি আছি। কিন্তু টাকার অভাবে গরম কাপড় কিনির (কিনতে) পাই না। তোমার কম্বল পেয়া (পেয়ে) অ্যাল্যা ভালোভাবে ঠাণ্ডার দিনগুলো কাটপার (কাটাবার) পামো।’

হাতীবান্ধার কানিপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা আতরুন্নেছা একটি কম্বল পেয়ে জানান, ছেলে রিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালায়। তাই প্রয়োজনীয় গরম কাপড় কিনে দিতে পারে না। গতকাল যে কম্বলটি পেলেন, সেটি দিয়ে এখন তাঁর দিনগুলো অনেক ভালোভাবে কেটে যাবে।

পশ্চিম বেজগ্রামের আরেক বৃদ্ধা গোলেজন বেগম জানান, তাঁর স্বামী নেই, ছেলের আলাদা সংসার। তিনি মানুষের দেওয়া খাবারে বেঁচে আছেন। যেখানে খাবার জোটাতেই হিমশিম খান, সেখানে গরম কাপড় কিভাবে কিনবেন। এই কম্বল দিয়ে এখন তাঁর কষ্ট দূর হবে বলে কৃতজ্ঞতা জানান।

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে দেওয়া কম্বল পেয়ে তাঁদের মতো সবারই হাসিমুখ ছিল উষ্ণতায় ভরা।

 

বানিয়াচংয়ের হাওরবাসী পেল বসুন্ধরা কিংসের কম্বল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হাওর এলাকা কাগাপাশা গ্রামের ২০০ দুস্থ শীতার্তের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছে বসুন্ধরা গ্রুপের ফুটবল টিম বসুন্ধরা কিংস। গতকাল সকালে ওই গ্রামে বসুন্ধরা কিংস ফ্যানস ক্লাব এবং বসুন্ধরা গ্রুপের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার মামুন চৌধুরীর উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে এ কম্বল বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা কিংস ফ্যানস ক্লাবের সদস্য দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, নাজমুল চৌধুরী, সালেহ চৌধুরী, কলিন চৌধুরী, বাপ্পি চৌধুরী ও আবেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু ব্যবসা নয়, দেশ ও জনগণের কল্যাণে বসুন্ধরা গ্রুপ সারা দেশে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে অবহেলিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তাদের এই কর্মসূচি সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে ক্রীড়াঙ্গনে এই গ্রুপের অবদান সবচেয়ে বেশি। একটি ফুটবল টিম করেই তাদের কাজ শেষ হয়নি। বরং ওই টিম থেকে সামাজিক কল্যাণে কাজ করা হচ্ছে।



মন্তব্য