kalerkantho


আ. লীগ ও বিএনপিতে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগ ও বিএনপিতে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনটি এককভাবে কেউ দীর্ঘদিন দখলে রাখতে পারেনি। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এখানে আওয়ামী লীগেরই দাপট বেশি। বিএনপিও ভাগ বসিয়েছে এ আসনে। বিগত ১০টি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছয়বার, বিএনপি প্রার্থী দুবার, জাসদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার করে বিজয়ী হন। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ বলছে, দলটি আসন ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির লক্ষ্য আসনটি পুনরুদ্ধার করা।

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৩টি আসন পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। কিন্তু এ আসনটি তাদের হাতছাড়া হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহেন্দ্র লাল বর্মণকে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মো. আবদুস সাত্তার।

জাতীয় সংসদের ১৩০ নম্বর নির্বাচনী এলাকা মধুপুর ও ধনবাড়ী ২০০১ সাল থেকে দখলে রেখেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তিনিই পাবেন—এটা প্রায় চূড়ান্ত। তার পরও দলের আরো কয়েকজন মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত অনেক মজবুত। নেতাদের মধ্যে গোপনে বিরোধ থাকলেও তা প্রকাশ্যে দেখা দেয়নি। আব্দুর রাজ্জাকের মনোনয়নের প্রশ্নে দলের স্থানীয় নেতারা এক হয়েই কাজ করেন। আব্দুর রাজ্জাকের নাম জোরেশোরে শোনা গেলেও এ কথাও শোনা যাচ্ছে যে তাঁকে ঢাকা অথবা জামালপুরের কোনো একটি আসন দিয়ে এখানে শামসুন নাহার চাঁপাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তবে যদি তা-ই হয়, তাহলে হয়তো দুটি আসনই আওয়ামী লীগকে হারাতে হতে পারে বলে মনে করছে দলের বেশির ভাগ স্থানীয় নেতাকর্মী। তারা মনে করে, টাঙ্গাইল-১ আসনে আব্দুর রাজ্জাকই নির্বাচিত হওয়ার জন্য উপযুক্ত।

অন্যদিকে বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন আব্দুর রাজ্জাকের কাছে পরাজিত হন। দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি পরাজিত হন বলে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করে। তবে এবার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে বিএনপির প্রার্থী আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন বলে তাদের বিশ্বাস।

বিএনপির শাসনামলে ফকির মাহবুব আনাম স্বপন নির্বাচনী এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এবারও নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন, প্রচার চালাচ্ছেন। তবে তিনি ছাড়াও বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন এ আসনে।

আওয়ামী লীগ : আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ছাড়াও দলের একাধিক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য। মধুপুর-ধনবাড়ীতে তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপাও এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মিজানুর রহমান দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় এক বছর আগে থেকেই এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি গণসংযোগ করছেন। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে, প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিচ্ছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি একজন সফল ব্যবসায়ী। রাজনীতি করি টাকা উপার্জনের জন্য নয়, মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। এমপি হলে মানুষের খুব কাছে গিয়ে জনসেবা করা সহজ হয়। এ জন্য আমি আশাবাদী দল বিষয়টি বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দেবে।’

এ ছাড়া মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম খান আবু ও স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. সানোয়ার হোসেনের নামও আলোচনায় আছে। তাঁরা প্রত্যেকেই এলাকায় পোস্টার-ব্যানার টানিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিমের নামও শোনা যাচ্ছে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে।

বিএনপি : এ আসনটি একসময় বিএনপির দখলে থাকলেও স্থানীয় ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর অভাবে তা আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা যায়। তিনি এর আগেও একাধিকবার এই আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর ভালো যোগাযোগ রয়েছে।

ফকির মাহবুব বলেন, ‘এলাকায় কাজ করতে গিয়ে অনেক ঝড়ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছে। মানুষের জন্য সুস্থ রাজনীতির চর্চা করি। ম্যাডাম আমাকে জানেন। আমি বিশ্বাস করি, এবারও দল আমাকে মনোনয়ন দেবে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হব।’

ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ছাড়াও আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তিনবারের সাবেক পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম সরকার শহিদ ও কানাডা প্রবাসী প্রকৌশলী ভূঁইয়া মাহবুব লতিফ। তাঁরা প্রত্যেকেই নানাভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মোহাম্মদ আলী ছাত্র রাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গেছেন। মোহাম্মদ আলী মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর সঙ্গে তুমুল প্রতিযোগিতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দলের প্রতি অনেক ত্যাগ রয়েছে। একাধিকবার জেল খেটেছি। মধুপুর শহরের বাসিন্দা হিসেবে মধুপুরের ভোটব্যাংকের ভোটগুলো আমার ঝুলিতে আসবে বলে আমি মনে করি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, ডাকসুর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আনোয়ারুল হকও এবার দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করার জন্য গণসংযোগ করছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হওয়ার পর এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এরপর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন পর আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

অন্যান্য : জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা আবু সাঈদ মন্টু দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগেও তিনি এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগদানকারী সরকার শহিদের বড় ভাই চলচ্চিত্রকার নূরুল ইসলাম রাজ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধুপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা জহিরুল ইসলাম দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।



মন্তব্য