kalerkantho


পর্যটন

নতুন গন্তব্য চরফ্যাশন

আবদুল্লাহ আল মামুন, চরফ্যাশন (ভোলা) থেকে ফিরে   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নতুন গন্তব্য চরফ্যাশন

ভোলার চরফ্যাশনে উদ্বোধনের অপেক্ষায় জ্যাকব টাওয়ার। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে পর্যটনের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠেছে দ্বীপ জেলা ভোলার চরফ্যাশন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই দ্বীপে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে জ্যাকব টাওয়ার। প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের আদলে নির্মিত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ারটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে এরই মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। উদ্বোধনের আগেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ টাওয়ারটি দেখতে সেখানে ভিড় করছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আগামী ২৪ জানুয়ারি এটি উদ্বোধন করবেন। ১৯ তলাবিশিষ্ট ২২৫ ফুট উচ্চতার টাওয়ারটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ভোলায় পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বীপ জেলা ভোলার দক্ষিণের উপজেলা চরফ্যাশনের চরকুকরিমুকরি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এর কাছেই বঙ্গোপসাগরের মধ্যে তারুয়া সৈকত পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে নতুন করে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও ম্যানগ্রোভ বনের টানে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ছুটে আসে চরকুকরিমুকরিতে। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা চরকুকরিমুকরিতে রয়েছে দেশের অন্যতম বড় অভয়ারণ্য। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, সর্পিল লেক, বালুকাময় তীর, সাগরসৈকত, সামুদ্রিক নির্মল হাওয়া, তরঙ্গ গর্জন—সব কিছুর দেখা মেলে চরকুকরিমুকরির বালুর ধুমে। সুযোগ রয়েছে হরিণসহ নানা বন্য প্রাণী দর্শনের। পর্যটকদের জন্য এই চরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ১৮টি কক্ষ, সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট ও হেলিপ্যাডসমৃদ্ধ আধুনিক রেস্টহাউস নির্মাণ করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। রয়েছে ‘মিনি এয়ারপোর্ট’ নির্মাণের পরিকল্পনাও।

মিনি এয়ারপোর্ট নির্মাণ করা হলে ছোট ছোট বিমানে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সরাসরি চরকুকরিমুকরিতে আসতে পারবে। সেখান থেকে তারুয়া চরে যাওয়া আরো সহজ হবে। পর্যটনশিল্পের এই সম্ভাবনায় চরফ্যাশন সদরে যুক্ত হয়েছে ২২৫ ফুট উচ্চতার ‘জ্যাকব টাওয়ার’। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই টাওয়ার। টাওয়ারের স্বপ্নদ্রষ্টা পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গত বছরের ১৮ মে নির্মাণাধীন টাওয়ার পরিদর্শন করে মুগ্ধ হয়ে এর নামকরণ করেন ‘জ্যাকব টাওয়ার’। টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে চরফ্যাশন পৌরসভা।

আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব কালের কণ্ঠকে বলেন, শহরের প্রাণকেন্দ্র দৃষ্টিনন্দন ফ্যাশন স্কয়ারের পাশে নির্মিত টাওয়ারটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন পরিচিতি এনে দেবে। এই টাওয়ার হতে পারে পর্যটক আকর্ষণের বড় একটি মাধ্যম। সে সুবাদে চরফ্যাশন হয়ে উঠতে পারে পর্যটনের নতুন গন্তব্য।  

টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মাটির ৭৫ ফুট নিচ থেকে ঢালাই-পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর সম্পূর্ণ ইস্পাত দিয়ে নির্মিত টাওয়ারটি আট মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে পাঁচ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ কাচ। চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির সঙ্গে রয়েছে ১৩ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাপসুল লিফট। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিশেষভাবে ডিজাইন করে আনা হয়েছে এই ট্রান্সপারেন্ট লিফট ও টাওয়ারের গ্লাস।

ওয়াচ টাওয়ারটিতে রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বাইনোকুলার। এর সাহায্যে পর্যটকরা চরকুকরিমুকরি, তারুয়া সৈকত এবং বঙ্গোপসাগরের একটি অংশসহ চারপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ ও উপভোগ করতে পারবে। টাওয়ারে উঠতে জনপ্রতি প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। চরফ্যাশন পৌরসভা টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় আরো ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছে দেশের বৃহত্তম সুইমিংপুল, ২০ হাজার লোকের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ফ্যাশন স্কয়ার ও আধুনিক মানসম্পন্ন একটি শিশু পার্ক।



মন্তব্য