kalerkantho


পাকিস্তানের দাবি

‘সার্ক সম্মেলন বানচালে বাংলাদেশও জড়িত!’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘সার্ক সম্মেলন বানচালে বাংলাদেশও জড়িত!’

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মদদদাতা হিসেবে ক্রমেই চাপের মুখে ও একঘরে হয়ে পড়া পাকিস্তান এবার সে দেশে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বানচালের জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে। এ ছাড়া দেশটি আবারও প্রকারান্তরে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে তাদের অপরাধের বিচারের বিরোধিতা করছে।

রেডিও পাকিস্তানের খবরের বরাত দিয়ে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কবিষয়ক এক প্রশ্নের উত্তরে ওই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আরিফ ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) শীর্ষ সম্মেলন বানচালে বাংলাদেশও সম্পৃক্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন। ওই বছর ইসলামাবাদে এ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।

এখানে বলে রাখা ভালো, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ, ভারতসহ সার্কের বেশির ভাগ সদস্য ২০১৬ সালে পাকিস্তানে সংস্থাটির শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান নিজেকে না শুধরানোয় এখনো অভিন্ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাকিস্তানের কারণে সার্ক অচল হতে চলেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইসলামাবাদ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কে পাকিস্তান উত্তেজনা চায় না।’

যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে উষ্মা প্রকাশ এবং ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অপব্যাখ্যা করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় পরিষদে বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঘটনায় গত কয়েক বছরে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ঢাকা।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মেনে চলতে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। পাকিস্তান সামনে এগিয়ে যেতে চায়। কিন্তু অন্য পক্ষকেও (বাংলাদেশ) এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, কোনো প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তান জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে দেবে না।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান এর আগেও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অপব্যাখ্যা করে যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তি চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ শুরু থেকেই একে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে এসেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক আলোচনার ষষ্ঠ পর্ব এ বছরের প্রথমার্ধে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার জন্য পাকিস্তান এখনো বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কে স্থবিরতা চলছে। পাকিস্তান এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও ভারতকে দোষারোপ করে। তবে গত ৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, শেখ মুজিবুুর রহমান বিদ্রোহী ছিলেন না। পাকিস্তানের আচরণের কারণেই তাঁকে বিদ্রোহী হতে হয়েছে।

নওয়াজের মতে, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির প্রচেষ্টায় মুখ্য ভূমিকা ছিল বাঙালিদের। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণ করিনি এবং তাদের আলাদা হতে বাধ্য করেছি।’ তিনি বলেন, ‘বিচারপতি হামুদুর রহমান কমিশন বাংলাদেশ সৃষ্টির বিষয়ে অত্যন্ত সত্য ও স্পষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। কিন্তু আমরা তা পড়েও দেখিনি।’



মন্তব্য