kalerkantho


তথ্য মন্ত্রণালয়ে চাকরি হলো সেই পূর্ণিমার

‘প্রধানমন্ত্রী মামণি ও তারানাদির প্রতি কৃতজ্ঞ’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তথ্য মন্ত্রণালয়ে চাকরি হলো সেই পূর্ণিমার

সেই কৈশোরে মানুষ নামধারী কিছু পিশাচের পাশবিকতা তাঁর জীবনের ছন্দ কেড়ে নিয়েছিল। তারপর গ্লানি ও কষ্টের ১৬ বছর মাড়িয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে একটি চাকরি অনেক জরুরি হয়ে উঠেছিল। সোনার সে হরিণের সন্ধান তাঁর জুটল গতকাল বুধবার। পূর্ণিমা শীল এখন থেকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গতকাল তথ্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণিমার হাতে তুলে দিয়েছেন নিয়োগপত্র। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি থেকে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী পূর্ণিমা আজ বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিচ্ছেন।

গতকাল কালের কণ্ঠকে পূর্ণিমা বলেন, ‘২০০১ সালের সেই ভয়ংকর ঘটনার পর আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মামণি। নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মামণি এবং তারানা দিদির প্রতি আমি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।’ ধর্ষণ ও অন্যভাবে অন্ধকার নেমে আসা মেয়েদের আলো দিতে পূর্ণিমা গড়ে তুলেছেন ‘পূর্ণিমা ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’।

২০০১ সাল। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নামে সংখ্যালঘু অনেক পরিবারে। কলঙ্কের সেই সময়টায় ৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দেলুয়া গ্রামের এক বাড়িতে যেন নরক নেমে আসে। বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা অনিল শীলের ছোট মেয়ে পূর্ণিমা শীলকে গণধর্ষণ করে। ঘটনার তিন-চার দিন পর ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি মেয়েটি ও তাঁর পরিবারকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করলে লজ্জায় যেন সভ্যতারও মাথা নুয়ে আসে। এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা নিন্দার ঝড় তোলে।

গতকাল সেই পূর্ণিমা নিয়োগপত্র পাওয়ার পর একান্ত সাক্ষাৎকারে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘আমার সরকারি চাকরি হয়েছে, এখন মাথার বোঝা যেন হালকা হয়েছে। আর চাকরির ব্যবস্থা করেছেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম দিদি। এ কাজে জয়দেব নন্দী দাদাও সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের কাছে আমি আর আমার পরিবার সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। আর বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই প্রধানমন্ত্রী মামণিকে।’

তারানা হালিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পূর্ণিমাকে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন। নিজে ডেকে নিয়ে খাইয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাজ তো আমাদের এগিয়ে নিতে হবে। একটি মেয়ে প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। সে এই সমাজের বাইরের কেউ নয়। সে আমাদের সমাজেরই, সে আজ মাথা তুলে কাজ করবে। আমি তার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছি তার অনুমতি নিয়ে। সে বলেছে, আমি সব হারিয়েছি, এখন আমার পাওয়ার পালা।’

তারানা হালিম গতকাল ফেসবুকে পূর্ণিমা শীলের সঙ্গে আন্তরিকতাপূর্ণ ছবিসহ একটি পোস্টও দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন : “মনে পড়ে সেই পূর্ণিমাকে? ২০০১-এর ১ অক্টোবর নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপি জামায়াতের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কিশোরী পূর্ণিমা। হ্যাঁ, আমি সিরাজগঞ্জের সেই পূর্ণিমা শীলের কথা বলছি। আজ আমি গর্বিত আমি পূর্ণিমাকে আমার ‘পার্সোনাল অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দিলাম। পূর্ণিমা, তোমাকে আমরা ভুলে যাইনি। জীবনের অন্ধকার রূপ তুমি দেখেছ, আলোর জগতে তোমায় স্বাগতম, শুরু হোক নতুন পথচলা। তোমাকে অভিবাদন প্রিয় পূর্ণিমা।”

জানা যায়, সিরাজগঞ্জের সাপ্তাহিক পত্রিকা জনতার সংগ্রামের রিয়াজুল ইসলামের মাধ্যমে তারানা হালিমের ব্যক্তিগত সহকারী জয়দেব নন্দীর সঙ্গে পূর্ণিমার যোগাযোগ হয়। পূর্ণিমা কালের কণ্ঠকে আরো বলেছেন, ‘অফিসে কী কাজ করতে হবে এখনো কিছু জানি না। কিন্তু তারানা দিদির মতো আন্তরিক মানুষের কাছাকাছি কাজ করব—এটাই এখন অনেক বড় কিছু।’

পূর্ণিমা বলেন, ‘আমার মা চেয়েছিলেন যেন একটি সরকারি চাকরি করি। মায়ের স্বপ্ন পূরণ হলো আজ। এই চাকরির কথা শুনে মা অনেক খুশি হবেন। এখনো বাসায় যাওয়া হয়নি। মাকে আমি নিজে বলতে পারিনি। ছোট ভাই মাকে বলেছে। চাকরির খবর পেয়ে মা খুশিতে নাকি কান্না করেছেন।’



মন্তব্য