kalerkantho


শীতে শীর্ষ যে গ্রাম

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শীতে শীর্ষ যে গ্রাম

বাংলাদেশে আজ ৫ মাঘ। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে, ৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই শীতেই রীতিমতো কুঁকড়ে যাচ্ছে অনেকে। একবার ভাবুন তো, কোনো এলাকার তাপমাত্রা যদি মাইনাস ৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, সেখানকার মানুষের কী অবস্থা! শুধু কল্পনায় নয়, সত্যি সত্যিই সাইবেরিয়ার ছোট্ট গ্রাম ওইমইয়াকনে তাপমাত্রা এখন মাইনাস ৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে। এই গ্রামকেই বলা হচ্ছে বিশ্বে এই বছরের সবচেয়ে শীতলতম গ্রাম।

এমনই বরফ শীতল ঠাণ্ডা সেই গ্রাম যে মানুষের মুখেও তুষার জমাট বাঁধছে। এমনই একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন সেখানকার এক বাসিন্দা। ছবিতে দেখা যায়, ওই নারীর চোখের পাতা ঠাণ্ডায় জমে তুষারবৃত্তে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি ভ্রু, কপালসহ মুখের ওপরও বরফ জমেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রামটির বাজারে স্থাপন করা ছিল একটি ডিজিটাল থার্মোমিটার। তাপমাত্রা ৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছার পর সেটিও ভেঙে যায়। তবে গ্রামবাসী বলছে, গ্রামের এক বাসিন্দা মাইনাস ৬৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করেছিলেন। এতে সবার ধারণা, কর্তৃপক্ষের জানানো তথ্যের সঙ্গে আসল তাপমাত্রার পার্থক্য রয়েছে। এই গ্রামে জানুয়ারি মাসে গড়ে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। এর মধ্যেই দিব্যি সব কাজকর্ম চালিয়ে যায় সেখানকার মানুষ।

এই গ্রামের বাসিন্দা সব মিলিয়ে ৫০০ জন। সারা গ্রামে বাড়ির ভেতর গরম রাখতে কাঠ বা কয়লার আগুন জ্বালিয়ে রাখা হয়। মূলত বল্গা হরিণ পালন, শিকার ও মাছ ধরা এই গ্রামের বাসিন্দাদের প্রধান পেশা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে এখানকার অধিবাসীরা ফসলের চাষ করতে পারে না। বল্গা হরিণই তাদের খাবারের প্রধান উৎস। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে এই গ্রামের বাসিন্দাদের বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে কলমের কালি জমে যাওয়া কিংবা একবার বন্ধ করার পর গাড়ি আবার চালু হতেই চায় না। এ ছাড়া ঠাণ্ডার কারণে ব্যাটারি দ্রুত তার কার্যক্ষমতা হারায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, গ্রামের কেউ মারা গেলে বরফের কারণে তাকে কবর দেওয়ার জায়গা পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে মৃতদেহভর্তি কফিন সমাধিস্থ করার আগে কবর খননের জন্য আগুন জ্বালিয়ে বরফযুক্ত মাটি কাটা হয়, যা করতে অন্তত তিন দিন সময় লাগে।

তবে এটাও ঠিক, এই তাপমাত্রার কারণেই ওইমইয়াকন গ্রামটি পর্যটকের জন্য আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। কিছু ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘পোল অব কোল্ড’ বা ‘ঠাণ্ডার শেষ সীমানা’ সফরের জন্য নতুন ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

অবশ্য জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস এই গ্রামে তাপমাত্রা মাইনাসে থাকে না। তবে দুই অঙ্কের সংখ্যাও ছাড়ায় না। অর্থাৎ ১০ ডিগ্রির ওপর ওঠে না। দিনের তাপমাত্রাও বেশ মনোরম থাকে। তবে অক্টোবর থেকে এপ্রিল—সাত মাস পুরোটাই বরফে আচ্ছাদিত থাকে। তাপমাত্রা থাকে গড়ে মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূত্র : ডেইলি মেইল, টেলিগ্রাফ।



মন্তব্য