kalerkantho


উদ্যোগ

ব্র্যাকের ক্রীড়া উৎসব

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্র্যাকের ক্রীড়া উৎসব

মেয়েদের সিনিয়র ক্রিকেটে শিরোপাজয়ী রাজশাহীর খেলোয়াড়দের উল্লাস। ছবি : সৌজন্য

শুরুটা ১৯৯৩ সালে। মানিকগঞ্জে ১৫ বছর আগে পথচলা শুরু ব্র্যাক কিশোরী ক্লাবের। এরপর দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে এর শাখা। সারা দেশে ব্র্যাকের রয়েছে পাঁচ হাজার কিশোরী ক্লাব ও প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার খেলোয়াড়। গতকাল মহাখালীর টি অ্যান্ড টি মাঠে হয়ে গেল সংস্থাটির ক্রীড়া উৎসব। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি সাধুবাদ জানালেন সংস্থাটির এমন উদ্যোগকে, ‘কিশোর-কিশোরীদের ক্রীড়ামুখী করে প্রশংসনীয় কাজ করছে ব্র্যাক। বাংলাদেশ সরকারও কাজ করছে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে কিশোর-কিশোরী ক্লাব গঠনের। সেখানে ব্র্যাকসহ অন্য এনজিওরা আমাদের সাহায্য করলে নিশ্চিতভাবে সফল হব আমরা।’ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির প্রধান মনোয়ার হোসেন খন্দকারসহ সংস্থাটির অন্য কর্মকর্তারা।

নামে কিশোরী ক্লাব হলেও কিশোররাও খেলে এখানে। ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ব্র্যাক প্রাথমিক স্কুল ও কিশোরী ক্লাব নিয়ে করে আসছে ক্রীড়া উৎসব। এবার এই আয়োজনে ছিল ফুটবল ও ক্রিকেট। গত বছরের জুলাই থেকে বাছাই পর্ব শুরু উপজেলা পর্যায়ে। এরপর জেলা পর্যায় শেষে দুটি অঞ্চলে ভাগ হয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিভাগীয় পর্যায়ের খেলা। গতকাল মহাখালীর টি অ্যান্ড টি মাঠে হওয়া ফাইনালে মেয়েদের ফুটবলে সিলেটকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে নারায়ণগঞ্জ। মেয়েদের জুনিয়র ক্রিকেটেও খুলনাকে হারিয়ে শিরোপা নারায়ণগঞ্জের। মেয়েদের সিনিয়র ক্রিকেটে ময়মনসিংহকে ২ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে রাজশাহী। ছেলেদের ফুটবলে ময়মনসিংহকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা রংপুরের। ছেলেদের জুনিয়র ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ।

ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির অধীনে কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে স্পোর্টস ফর ডেভেলপমেন্ট উল্লেখযোগ্য। এর উদ্দেশ্য তাদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করে তোলা। এ জন্যই একটা সময় ৬৪ জেলায় ৯ হাজার কিশোরী ক্লাব গঠন করেছিল ব্র্যাক। সেটা কমে এখন পাঁচ হাজারে। এর পরও নিজেদের এই উদ্যোগ নিয়ে সন্তুষ্টি জানালেন সংস্থাটির সিনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট আইরিন পারভিন, ‘আসলে আমাদের স্টাফ কিছু কমে এসেছে। এ জন্য ৯ হাজার থেকে কিশোরী ক্লাব এখন পাঁচ হাজার। এর পরও প্রায় দুই লাখ খেলোয়াড় নিয়ে দেশব্যাপী যে কার্যক্রম চলছে সেটার প্রশংসা করছে সবাই। আমাদের এখানে শুরু করে জাতীয় ক্রিকেট ও ফুটবল দলে সুযোগ পেয়েছে চারজন। জাতীয় লিগ ও প্রিমিয়ার লিগেও খেলছে অনেকে। আশা করছি আগামীতে আরো ভালো খেলোয়াড় উপহার দিতে পারব দেশকে।’

জাতীয় ক্রিকেট দলে ২০০৯ সাল থেকেই খেলছেন ব্র্যাক থেকে উঠে আসা জ্যোতি ও ছন্দা। মেয়েদের ফুটবল দলে রয়েছেন খাদিজা আর মনিকা। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখছেন গতকাল সিনিয়র ক্রিকেটে শিরোপা জেতা রাজশাহীর অধিনায়ক সাবিকুন্নাহার চুমকিও, ‘আমার মা ব্র্যাকের কর্মী। সেই সুবাদে এখানকার কিশোরী ক্লাবে আমার ক্রিকেটে হাতেখড়ি। এখন নিয়মিত জাতীয় লিগে খেলি আমি। স্বপ্ন দেখছি জাতীয় দলেও খেলব কোনো একদিন।’ চুমকির মতো এমন স্বপ্ন ব্র্যাকের লাখো কিশোর-কিশোরী খেলোয়াড়েরও।



মন্তব্য