kalerkantho


‘বিস্ফোরণ ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মৃত্যু’

ইরানি জাহাজে ছিলেন রাজবাড়ীর সজিব ও চট্টগ্রামের হারুন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইরানি জাহাজে ছিলেন রাজবাড়ীর সজিব ও চট্টগ্রামের হারুন

উত্তর চীন সাগরে বিস্ফোরণের পর ডুবে যাওয়া তেলবাহী ইরানি জাহাজ ‘সাঁচি’র ৩২ ক্রুর মধ্যে বাংলাদেশি দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন রাজবাড়ীর সজিব আল মৃধা ও চট্টগ্রামের হারুন-অর-রশিদ। গত ৬ জানুয়ারি দুর্ঘটনার পর তিন ক্রুর মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তাঁদের এখনো শনাক্ত করা হয়নি। বাকিদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

ইরান কর্তৃপক্ষ গত রবিবার বলেছে, জাহাজটি আগুনে বিস্ফোরিত হয়ে ডুবে যাওয়ার পর তাঁদের বেঁচে থাকার আর সম্ভাবনা নেই। বিপুল পরিমাণ তেল থেকে সৃষ্ট আগুনে যে তাপ সৃষ্টি হয়েছিল তাতে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। ইরান কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে শোক ও সমবেদনা এবং ক্রুদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিবৃতি দিয়েছে।

জানা গেছে, সজিব আল মৃধা সাঁচি জাহাজের ‘থার্ড মেট’ (বাণিজ্যিক জাহাজে চতুর্থ শীর্ষ কর্মকর্তা) ছিলেন। চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৪৭তম ব্যাচের ক্যাডেট সজিব মেরিটাইম এডুকেশনে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি পড়ালেখা করেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে।

সাঁচি জাহাজে অন্য বাংলাদেশি হারুন-অর-রশিদ পাম্পম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিষয়ে আর তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনায় গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ডুবে যাওয়ার  আগে উদ্ধার করা দুটি মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সাংহাইয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জাহাজটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আরো একটি মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সাংহাইয়ে পাঠানো হয়েছিল।

ইরানের বন্দর ও মেরিটাইম সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ রাশতাদ বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, ‘তেলবাহী ইরানি জাহাজ সাঁচিতে দুই বাংলাদেশি ও ৩০ জন ইরানি ক্রু ছিলেন। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিশাল আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁদের সবাই নিহত হয়েছেন।’

ইরানের শ্রমমন্ত্রী বলেছেন, তেলবাহী ওই জাহাজটিতে ১১ হাজার ৫১০ টন কনডেনসেট, এক হাজার ৯৫৬ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও ১১৮ টন ডিজেল ছিল। বিস্ফোরণের ফলে আগুন ধরে জাহাজটির কিছু অংশে তাপমাত্রা ৯০০ ডিগ্রিতে উঠেছিল। এর ফলে উদ্ধারকারীদের পক্ষে জাহাজের ভেতরে ঢোকাই অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।

মেরিটাইম বুলেটিন নামের একটি অনলাইনের প্রকাশক রুশ মেরিটাইম পেশাজীবী মিখাইল ভয়তেংকো লিখেছেন, সাঁচি জাহাজটি ছিল একটি তেলবাহী ট্যাংকার। এ ধরনের ট্যাংকারের পানিতে ভেসে থাকার রেকর্ড সবচেয়ে বেশি। কোন প্রেক্ষাপটে অন্য একটি জাহাজের ধাক্কায় ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে গেল এবং তা বিস্ফোরিত হলো তার ব্যাখ্যা হয়তো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাই বলতে পারবেন। তবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জাহাজটি আগুনে জ্বলায় বেশির ভাগ তেল পুড়ে গেছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় কম হবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি হংকংয়ের একটি মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় ইরানি জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। সে সময় থেকেই ওই জাহাজের ৩২ আরোহীর খোঁজ মিলছিল না। চীনা পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনের সময় ৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) ইয়াংসি নদীর মোহনা থেকে সাগরের দিকে ১৬০ মাইল পূর্বে পানামায় নিবন্ধিত ইরানি তেল ট্যাংকারের সঙ্গে হংকংয়ে নিবন্ধিত মালবাহী জাহাজের সংঘর্ষ হয়। নিখোঁজ ৩২ ক্রুর সবাই তেলবাহী ট্যাংকারের আরোহী ছিলেন। অন্যদিকে মালবাহী জাহাজের ৩১ জন ক্রুর সবাই ছিলেন চীনা নাগরিক। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

২৭৪ মিটার দীর্ঘ তেল ট্যাংকার ‘সাঁচি’ তেল নিয়ে ইরান থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছিল। অন্যদিকে ২২৫ মিটার দীর্ঘ মালবাহী জাহাজ ‘সিএফ ক্রিস্টাল’ও সংঘর্ষে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬৪ হাজার টন খাদ্যশস্য নিয়ে চীনা শিপিং কম্পানির মালিকানাধীন জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের গুয়াংদং যাচ্ছিল।



মন্তব্য