kalerkantho


বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪%

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪%

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬.৪ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেওয়া এই পূর্বাভাস সরকারের নেওয়া লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ শতাংশ কম। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭.৪ শতাংশ জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আশা করছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বিশ্বব্যাংক একই সঙ্গে বলেছে, কেবল চলতি অর্থবছরই নয়, আগামী দুই অর্থবছরেও বাংলাদেশ জিডিপির ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে না। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছর ও এর পরের অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৭ শতাংশ হারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস সঠিক হলে চলতি অর্থবছরসহ আগামী দুই অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারের চেয়েও অনেক কম হবে।

তবে সরকারের তথ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের তথ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.২৮ শতাংশ। ওই অর্থবছরে ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। চূড়ান্ত হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ও বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের মধ্যে এই ব্যবধানের কারণ সম্পর্কে জানতে গতকাল বুধবার ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের হার সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম নির্ধারণ করলেও বিশ্বব্যাংক বলছে, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো হবে। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ৬.৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ঋণের সুদহার কমে যাওয়া ও অবকাঠামো পরিস্থিতির উন্নয়নের কারণে বিনিয়োগ বাড়বে। এ ছাড়া গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ওই সব দেশে মানুষের চাহিদা বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সও বাড়বে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা। জিডিপির অনুপাতে কম হারে রাজস্ব আদায়কেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় দুর্বলতা বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ ছাড়া উচ্চহারে

খেলাপি ঋণ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পরিশোধ করতে না পারাও বড় দুর্বলতা বলে জানিয়েছে তারা।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূলত রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেড়ে গেলে এই ঘাটতি দেখা দেয়। মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ ও ভারতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি, মোট ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ।



মন্তব্য