kalerkantho


যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ভাইকে মারধর

খুলনায় ফাঁড়ির ১২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

খুলনা অফিস   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খুলনায় ফাঁড়ির ১২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

খুলনায় একস্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার ভাইকে মারধরের ঘটনায় একটি পুলিশ ফাঁড়ির ১২ সদস্যকেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বটিয়াঘাটা থানার বাইনতলা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পাঁচ কনস্টেবল হলেন—নাঈম, মামুন, রিয়াজ, আবির ও জাহিদ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার নারায়ণখালী গ্রামের মুজিবুর রহমানের মেয়ে বাইনতলা খারাবাদ কলেজিয়েট স্কুলে যাওয়ার পথে কনস্টেবল নাঈম তাকে উত্ত্যক্ত করেন। ছাত্রীটির ভাই তরিকুল এর প্রতিবাদ করলে কনস্টেবল নাঈম তাকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে হাজতে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে গ্রামবাসী ফাঁড়িতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা ফাঁড়ি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মোজাম্মেল হক মামুন ও স্থানীয় আমীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার মিলন সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অভিভাবক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার মেয়ে খারাবাদ-বাইনতলা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার সময় কনস্টেবল নাঈম, মামুন, রিয়াজ, আবির ও নায়েব জাহিদ প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত। আজও (মঙ্গলবার) ওরা একই আচরণ শুরু করলে আমার মেয়ে ফাঁড়ির সামনে আমার দোকানে বসা ওর ভাই তারেক মাহমুদকে বিষয়টি জানায়। তারেক ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই তারেকুজ্জামানকে বিষয়টি জানানোর উদ্দেশ্যে ফাঁড়িতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে দোকানে ফিরে আসে। পরে অভিযুক্ত ওই পাঁচ পুলিশ দোকানে এসে তাকে মারধর করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। তারা আমার দোকানও ভাঙচুর করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার আমার ছেলেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি মামলা করব।’

ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বলেন, ‘খবর পেয়ে ফাঁড়িতে পৌঁছে ঘটনাটি ওসিকে জানাই। পরে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা হয়।’

ওসি মোজাম্মেল হক মামুন বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ সত্য নয়। তবে তরিকুল নামের এক ছাত্র পুলিশের সঙ্গে তর্ক করলে তার সঙ্গে একজন কনস্টেবলের হাতাহাতি হয়। পরে তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে মারধরের অভিযোগ পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ফাঁড়ির ১২ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে।’

খুলনার পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা বলেন, ‘ওই ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ১২ জন পুলিশ সদস্যকেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। উত্ত্যক্তের অভিযোগ প্রমাণ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমকে ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য