kalerkantho


পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে আজ

সন্ত্রাস দমন আইনের সংশোধন চায় পুলিশ

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সন্ত্রাস দমন আইনের সংশোধন চায় পুলিশ

ফাইল ছবি

সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করতে হলে পুলিশকে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন নিতে হয়। আবার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। এই দুই অনুমোদনের জটে পড়ে যাচ্ছে অনেক গুরুতর অভিযোগ। বড় ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য এক ধরনের অনুমোদন ছাড়াই মামলা ও তদন্ত শেষ করার ক্ষমতা চাইছে পুলিশ। আজ সোমবার শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহে কর্মকর্তাদের দাবির মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পোশক দেওয়া, হেফাজতে মৃত্যুর আইন শিথিল করা এবং মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনসহ আরো বেশ কিছু দাবি জানাবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বর্তমান সরকারের আমলে শেষ পুলিশ সপ্তাহে গত চার বছরের কাজের মূল্যায়ন এবং নির্বাচনপূর্ব আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হবে এবারের পুলিশ সপ্তাহে।

উৎসাহ-উদ্দীপনা আর আনন্দমুখর পরিবেশে আজ শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮। এবারের সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে এই সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি সারা দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করবেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বিগত ২০১৭ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩০ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ৭১ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জনকে ‘বিপিএম-সেবা’ ও ৫৩ জনকে ‘পিপিএম-সেবা’ পদক দেওয়া হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় শহীদ লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, ইন্সপেক্টর মরহুম চৌধুরী মো. আবু কয়ছর এবং ইন্সপেক্টর মরহুম মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে বিপিএম-মরণোত্তর পদক দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এই পদক প্রদান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়াম উদ্বোধন, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেবেন। পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে প্যারেডে অংশ নেবেন সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সপ্তাহে বিভিন্ন কর্মসূচিতে কাজের মূল্যায়নের পাশাপাশি তাঁদের বেশ কিছু দাবিও আলোচনায় আসবে। তবে এবার বড় ধরনের দাবি আলোচিত হচ্ছে না। সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অনুমোদন এবং চার্জশিট দিতে গেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ কারণে জট তৈরি হয়। এ থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে কথা বলবেন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁরা এই আইনের সংশোধন করার দাবিও জানাবেন। হেফাজতে আসামির মৃত্যুর জন্য প্রচলিত আইন শিথিল করার দাবিও উঠতে পারে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সরকারিভাবে পোশাক চাইবেন। পুলিশের জন্য আলাদা মেডিক্যাল কলেজ এবং এভিয়েশন করে হেলিকপ্টার দেওয়ার দাবিও থাকবে সামনে। এ ছাড়া ব্যাংকের অনুমোদন মিললেও ব্যাংক চালুর জন্য তহবিলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। পুলিশ সপ্তাহের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কিছু বাছাই করা দাবি উপস্থাপন করবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সূত্র মতে, এবার বর্তমান সরকারের শেষ পুলিশ সপ্তাহ হওয়ায় নির্বাচনকেন্দ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিকল্পনাও আলোচনায় থাকবে। পাশাপাশি চার বছরের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করবেন সারা দেশ থেকে অংশ নেওয়া পুলিশ সুপাররা। সীমাবদ্ধতা ও চাহিদাগুলো তুলে ধরবেন বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। পৃথকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও ইন্সপেক্টর জেনারেল বাংলাদেশ পুলিশও বাণী দিয়েছেন। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেছেন, “‘শৃঙ্খলা নিরাপত্তা প্রগতি’ মন্ত্রে দীক্ষিত পুলিশের প্রত্যেক সদস্য দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য ভূমিকা রাখছেন। দেশকে মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়ে যাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে পুলিশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।

এবারের পুলিশ সপ্তাহের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মেলন, অফিসারদের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সম্মেলন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ, পুরস্কার বিতরণ (আইজি’জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র/মাদক উদ্ধার প্রভৃতি), অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কর্মরত পুলিশ অফিসারদের পুনর্মিলনী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইজিপির সম্মেলন এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা।

আগামী ১২ জানুয়ারি শুক্রবার আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধসংক্রান্ত মতবিনিময়সভার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এবারের পুলিশ সপ্তাহের নানা আয়োজনের।

আইজিপি ব্যাজ পাচ্ছেন ৩২৯ জন : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তাবিধান, সেবামূলক কর্মকাণ্ড, মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ভালো পুলিশিং সেবা, সরকারি ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড দিয়ে পুলিশ বাহিনীর ইমেজ বৃদ্ধি করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রাখায় আইজিপি ব্যাজ পাচ্ছেন ৩২৯ জন সদস্য।

জানা যায়, ২০১৭ সালে পুলিশি সেবার মাধ্যমে ভালো কাজ করায় আজ শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহে ‘আইজিপি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ’ পাবেন মনোনীত পুলিশ সদস্যরা। ভালো কাজের মানদণ্ড বিবেচনা করে ছয়টি ক্যাটাগরিতে ৩২৯ জন পুলিশ সদস্যকে আগামী ১০ জানুয়ারি রাজারবাগ প্যারেড গ্রাউন্ডে পরিয়ে দেওয়া হবে এই ব্যাজ।

‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৭৭, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ১০৬, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৬৭, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ২৩, ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ২৮ ও ‘এফ’ ক্যাটাগরিতে ২৮ পুলিশ সদস্য আইজিপি ব্যাজ পাচ্ছেন। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্যারেড গ্রাউন্ডে শিল্ড প্যারেড পুরস্কার বিতরণী শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্টদের ব্যাজ পরিয়ে দেবেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক।



মন্তব্য

saad commented 12 days ago
shudu sontras ayner songsudon noy policear gush kawer ayn o poriborton kora akento proyozon