kalerkantho


সিবিএ নেতাসহ শতাধিক কর্মচারী ফেঁসে যাচ্ছেন!

বলাকায় সমাবেশের ফুটেজ সংগ্রহ

সরোয়ার আলম   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সিবিএ নেতাসহ শতাধিক কর্মচারী ফেঁসে যাচ্ছেন!

৪ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকার বলাকা ভবনের ভেতরে সমাবেশ করার ঘটনায় বিমান শ্রমিক লীগ (সিবিএ) নেতাসহ শতাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিমান কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, সমাবেশে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে তাঁদের তালিকা করা হচ্ছে। সিবিএ নেতাসহ অন্তত শতাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে চাকরিচ্যুতও করা হতে পারে।

গত ৪ জানুয়ারি ছিল বিমান বাংলাদেশের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সেদিন চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে আন্দোলনে নামেন বিমানের ক্যাজুয়াল (চুক্তিভিত্তিক) শ্রমিকরা। বিমান শ্রমিক লীগের (সিবিএ) ব্যানারে বলাকা ভবনের ভেতরে তাঁরা মিছিল-সমাবেশ করেন। ফলে বিমানের সার্ভিসের বড় রকমের ব্যাঘাত ঘটে। বিমানের একজন ডিজিএম নাম না প্রকাশ করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনার কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হ্যান্ডলিং সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম মোসাদ্দিক আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইউসুফ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ বিমান শ্রমিক লীগকে কেক কাটার অনুমতি দিয়েছিল। কেক কাটার অনুষ্ঠান শেষে শ্রমিকরা সমাবেশ করেন।

এদিকে বিমানের ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা বলছেন, অস্থায়ী হলেও স্থায়ী শ্রমিকদের চেয়ে বেশি কাজ করতে হচ্ছে। ২৫ বছর ধরে চাকরি করলেও অনেকে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন ক্যাজুয়াল শ্রমিক দিন হাজিরায় ৫০০ টাকা মজুরি পান। ছুটিতে বা কর্মস্থলে হাজির না থাকলে কোনো মজুরি পাওয়া যায় না। স্থায়ী শ্রমিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। মারা গেলে দাফনের টাকা কিংবা লাশ বহনের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স খরচ পর্যন্ত পাওয়া যায় না।

বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মশিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৩১ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের দাবি মানতে হবে। না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো ওভারটাইম করা হবে না। কোনো ক্যাজুয়াল নিয়োগ দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বঙ্গবন্ধু যেই নামে বিমানের নাম রেখেছিলেন, তা-ই রাখতে হবে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বলা যাবে না।  

বিমান সূত্র জানায়, বিমানে চাকরি এসেনশিয়াল সার্ভিস (সেকেন্ড) অর্ডিন্যান্স) ১৯৫৮, প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে বিমান শ্রমিক লীগের ব্যানারে কর্মচারীরা সমাবেশ করেন।



মন্তব্য