kalerkantho


আইনমন্ত্রী বললেন

বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় দাবি অবাস্তব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় দাবি অবাস্তব

ফাইল ছবি

বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠন করার দাবি অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় পৃথিবীর কোথাও নেই। বিশ্বের ১৯৩টি গণতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের জন্য সচিবালয় নেই। এ দাবি অবাস্তব। ভবিষ্যতে হবে কি হবে না সেটা বলা যায় না। তবে বর্তমানে এটা অবাস্তব ধারণা।’ গতকাল রবিবার রাজধানীতে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, ‘বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের কথা যেটা বলা হচ্ছে, সেখানে আমি দুটো কথা বলি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করার পর বাংলাদেশে একটা ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছিল। সেটা কিন্তু ২১ বছর বিদ্যমান ছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পরেও কোনো মামলা হয়নি। কেউ স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও রিট দায়ের করেননি। অনেকেই বলেন, ১৯৭২ সালে সংবিধানে যে ১১৬ অনুচ্ছেদ ছিল সেখানে ফিরে যাওয়া এবং আলাদা বিচারিক সচিবালয় করা। এ বিষয়ে প্রথমে আমি বলতে চাই—এই সব প্রেক্ষাপটে আমাদের মনে হয় যে অবস্থা বিদ্যমান আছে সেটাই বিচার বিভাগের জন্য শ্রেয়।’

ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন করার নির্দেশনা ছিল। ওই রায়ের আলোকে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালাও করা হয়েছে।

ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রায়ের রিভিউ আবেদন সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেখেন রিভিউ করার অধিকার কিন্তু সংবিধান প্রত্যেককে দিয়েছে। সেখানে সরকারকে কিন্তু বাদ দেয়নি। সেই অধিকার নিয়ে আমরা রিভিউ করেছি। মাননীয় আপিল বিভাগ যখন মনে করবেন তখন তারা শুনানি গ্রহণ করবেন, তারিখ দেবেন। এখন যেহেতু রিভিউ করেছি সেটা আপিল বিভাগের উপর ছেড়ে দেব। তারা কখন শুনানির সময় দেবেন। সেই ক্ষেত্রে আমরাও চাই এ মামলার বিতর্কের অবসান হোক। এটুকু বলতে পারব, এর চেয়ে বেশি বলা ঠিক হবে না। কারণ মামলাটি এখন সাবজুডিস হয়ে গেছে।’

মন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে যেভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা সেভাবেই করা হয়েছে। অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা নির্ধারণ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টকেও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতির কাছে এই ক্ষমতা থাকবে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। ঠিক সেভাবেই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু এই বিধিমালা করা হয়েছে। আপিল বিভাগ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এই বিধিমালা গ্রহণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘সেই ক্ষেত্রে গায়ে মানে না আপনি মোড়ল তাদের বক্তব্য নিয়ে আমাদের কিছু করতে হবে বলে আমার মনে হয় না। আমরা শৃঙ্খলা বিধিমালা সবার গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে করেছি।’

এর আগে আইনমন্ত্রী বিচারকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক।



মন্তব্য