kalerkantho


কক্সবাজারে ওআইসি প্রতিনিধিদল

রাখাইনে গণহত্যা ধর্ষণসহ বর্বর নির্যাতন ঘটেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাখাইনে গণহত্যা ধর্ষণসহ বর্বর নির্যাতন ঘটেছে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণসহ বর্বর নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার স্বতন্ত্র স্থায়ী মানবাধিকার কমিশন (ওআইসি-আইপিএইচআরসি)। কমিশনের ভাইস চেয়ারপারসন ড. রায়হানা আবদুল্লাহ বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর এ নির্যাতন জাতিগত নিধনের শামিল।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ এলাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ওআইসি-আইপিএইচআরসির চেয়ারপারসন ড. রশিদ আল বালুসি বলেন, ‘আমরা দুই দিন ধরে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এতে আমরা যতটুকু জেনেছি রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণসহ বর্বরতার নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ওআইসির কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন পেশ করব।’

চেয়ারপারসন ড. রশিদ আল বালুসির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান মেড এসকে কাগওয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ড. রায়হানা আবদুল্লাহ, রাষ্ট্রদূত ওয়াহাব, মাহমুদ আফিফি ও আদামা নানা ছাড়াও কমিশন ও ওআইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছেন ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি। ওই দিন দুপুরে তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় যোগ দেয়। সভায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিবিরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে গতকাল এক বিবৃতিতে ওআইসি-আইপিএইচআরসি জানায়, রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে নিজ বসতভূমিতে জীবিকার সুযোগসহ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। কমিশন একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা অনতিবিলম্বে বন্ধে দৃঢ় উদ্যোগ গ্রহণ, হামলার হোতাদের বিচারের আওতায় আনতে এবং বৈষম্যমূলক সব নীতি ও চর্চাগুলো বাতিল করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কমিশনের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর নিপীড়নকে আন্তর্জাতিক আইনে জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো উপায়ে মিয়ানমারের এসব অপরাধ সংঘটন বন্ধ করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে ওআইসি-আইপিএইচআরসি রাখাইন রাজ্যে যাওয়ার সুযোগ চেয়ে বারবার অনুরোধ করলেও মিয়ানমার তাতে সাড়া দেয়নি। এরপর পরিস্থিতি জানতে কক্সবাজারে এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে কমিশন যে বর্ণনা শুনেছে তাতে তারা স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই কমিশন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিন দিনের বাংলাদেশ সফর নিয়ে কমিশনের প্রতিবেদন আগামী মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ওঠবে।

প্রতিনিধিদলটির কাছে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নাগরিকত্ব, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার বঞ্চনাসহ ধারাবাহিকভাবে নিপীড়নের শিকার হওয়া ছাড়াও ধর্ষণ, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ভয়ংকর বর্ণনা দিয়েছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধা কেউই মিয়ানমার বাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাদ যায়নি।

গত বছর আগস্ট মাসে দুটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া এবং হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে গুলি করে ও বিভিন্নভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার কথা ওআইসি-আইপিএইচআরসির কাছে তুলে ধরেছে রোহিঙ্গারা। কমিশনের সদস্যরা বলেন, মিয়ানমার কোনোভাবেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করতে পারে না।



মন্তব্য