kalerkantho


আসামের নাগরিক তালিকা নিয়ে লোকসভায় উদ্বেগ

আশ্বস্ত করলেন রাজনাথ মমতার বিরুদ্ধে মামলা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আসামের নাগরিক তালিকা নিয়ে লোকসভায় উদ্বেগ

ভারতের আসাম রাজ্যের হালনাগাদ ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি)’ তালিকা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় আলোচনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের দমদম আসন থেকে নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি অধ্যাপক সৌগত রায় আসামের এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে উদ্বেগের কথা জানান।

তা ছাড়া অধিবেশন শুরুর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপিরা পার্লামেন্ট ভবনের সামনে কর্মসূচিও পালন করেছেন।

তবে এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আশ্বস্ত করে বলেছেন, কারো উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা ট্রাইব্যুনালে যেতে পারে।

এদিকে আসামের এনআরসির সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গতকাল আসাম পুলিশের কাছে মামলার আবেদন হিসেবে ‘ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর)’ দিয়েছে একটি সংগঠন। পরে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামে নাগরিক তালিকা থেকে এক কোটিরও বেশি ব্যক্তির নাম বাদ পড়ার বিষয়টিকে ওই রাজ্য থেকে বাঙালিদের খেদানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে লোকসভায় অভিহিত করেন এমপি অধ্যাপক সৌগত রায়। লোকসভায় আসামের ধুবরি আসন থেকে নির্বাচিত এমপি বদরুদ্দিন আজমলের নামও বাদ পড়েছে ওই তালিকায়।

সৌগত রায় বলেন, ‘প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ নাম বাদ পড়েছে। এটি তাদের তাড়ানোর ষড়যন্ত্র। আমরা চাই তাদের আসাম রাজ্যে থাকার সুযোগ দেওয়া হোক। তারা সাধারণ নাগরিক।’

সৌগত রায় আরো বলেন, ‘কয়েক প্রজন্ম ধরে আসামে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষীদের সেই রাজ্যে থাকতে দেওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এরই মধ্যে বলেছেন যে এটি একটি ষড়যন্ত্র। আর আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যে তাদের আসামে কোনো অধিকার নেই। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।’

তবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে এনআরসির কাজ চলছে। এ বিষয়ে কারো উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা ট্রাইব্যুনালে যেতে পারে।

গত রবিবার রাতে এনআরসির প্রথম খসড়ায় আসামের তিন কোটি ২৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে এক কোটি ৩৯ লাখের নামই বাদ পড়েছে। তাদের আবেদনগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের পূর্বপুরুষদের নাম ১৯৫১ সালের এনআরসিতে বা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের আগের কোনো ভোটার তালিকায় ছিল।

এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের সরকার ও বিরোধীপক্ষ সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে এক সুরে সমালোচনা করছে। আসামের গুয়াহাটির দিসপুর থানায় কৃষক শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলেছে। একই সঙ্গে আসামে জাতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে কৃষক শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ মমতাকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে করা এফআইআর পরবর্তীতে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার হিরেন নাথ। তিনি বলেন, পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত বুধবার আসামের এনআরসির সমালোচনা করে বলেছিলেন, আসামের ওই তালিকা প্রণয়নের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের ওপরও পড়তে পারে। বাঙালিদের আসাম থেকে খেদানোর চেষ্টা চলছে। বাঙালিদের গায়ে হাত পড়লে তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না বলেও হুমকি দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় আসামের গুয়াহাটিতে মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে বলে শিলং টাইমসের অনলাইনে গতকাল সন্ধ্যায় খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

আসামে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত ও বিতাড়নের লক্ষ্যে এনআরসি তালিকা প্রকাশকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি রাখছে বাংলাদেশ। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো ওই তালিকা প্রণয়নকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছে।

 



মন্তব্য