kalerkantho


ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি

আজ রাজধানীর বাইরে কালো পতাকা মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বার্ষিকীতে আজ ৫ জানুয়ারি ঢাকার কোথাও উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, অন্যথায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চেয়েছিল তারা। সে অনুযায়ী দলটির পক্ষ থেকে অনুমতি চেয়ে আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অনুমতি দেয়নি। এ অবস্থায় কোনো সংঘাতে না গিয়ে আজ শুক্রবার রাজধানীর বাইরে কালো পতাকা হাতে শোডাউন করবে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিবাদে প্রতিবছর দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। তবে এর আগেও এই দিনে দলটিকে রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি না পেলেও সংঘাত এড়িয়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আজ ঢাকার বাইরে কালো পতাকা হাতে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে। দলটির সংশ্লিষ্ট নেতারা এই তথ্য জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, আজ সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ডিএমপির কাছে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং পরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল বিএনপি। এ ব্যাপারে জানতে গতকাল বিকেল ৩টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডিএমপিতে যায়। কিন্তু অনুমতি মেলেনি।

এ প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও  প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

 ডিএমপিতে গিয়েছিলাম। ডিএমপির কমিশনার বলেন, ৫ জানুয়ারি বিএনপি চাইলে ইনডোরে যেকোনো সময় কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কর্মসূচি পালন করতে হলে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এখন দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিএমপিকে জানানোর কথা বলে এসেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনা করে আগামীকাল (আজ) নতুন কর্মসূচির বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘৫ জানুয়ারি হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যার দিন। এবারও আমরা দিনটিতে কর্মসূচি পালন করব। তবে এমন কর্মসূচি থাকবে না, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়।’

সরকারের এটা দ্বৈত নীতি—ফখরুল : এদিকে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাজধানীতে জনসমাবেশের অনুমতি নিয়ে সরকার দ্বৈত নীতি অনুসরণ করেছে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে গ্র্যাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলের পরিচিতি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। ৫ জানুয়ারিকে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের এই দিনে নির্বাচনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে তারা (সরকার) দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে।

রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার—রিজভী : সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে সরকার রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে যে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে চাচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারের নির্দেশে ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার-নির্যাতনসহ নানাভাবে হয়রানি শুরু করেছে।’ তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে সেখানে অজানা কোনো সংগঠনকে অনুমতি দিয়ে সরকার যে নাটক করেছে, তা গণতন্ত্রের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে মশকরা।’



মন্তব্য