kalerkantho


ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর গর্ভপাতের সময় মৃত্যু

লাশ গুমের চেষ্টা গ্রেপ্তার ২

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর গর্ভপাতের সময় মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ধর্ষণের কারণে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক স্কুলছাত্রী মারা গেছে। ধর্ষকের স্ত্রী ও বোন গোপনে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গর্ভপাতের সময় তার মৃত্যু হয়। পরে লাশ গুম করার সময় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মারা যাওয়া স্কুলছাত্রীর নাম তাসলিমা আক্তার (১৩)। সে গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামের ইউসুফ খাঁর মেয়ে। এ বছর স্থানীয় চরমহিষকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, মহিষকান্দি গ্রামের মৃত সাবুত আলী মাতবরের ছেলে নূর ইসলাম মাতবর (৬০) প্রতিবেশী তাসলিমাকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে প্রায়ই ধর্ষণ করত। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে সোমবার নূর ইসলাম মাতবরের স্ত্রী আয়শা বেগম ও বোন নাসিমা বেগম বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তাসলিমাকে গোপনে উপজেলার কুচাপট্টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে মাজেদা বেগম নামে এক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তাসলিমাকে তার নিজ বাড়ি কোদালপুর বুলু সরদারপাড়ায় নিয়ে যায়। সেখানে গর্ভপাতের সময় মেয়েটি মারা যায়। পরে ধর্ষকের পরিবারের যোগসাজশে পরিদর্শিকা মাজেদা ও তার ভাই আমিরুল ওরফে আমিন ছৈয়াল বুধবার রাত ১০টার দিকে লাশ গুমের চেষ্টা চালায়। সে উদ্দেশ্যে তারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে কবর খোঁড়ার সময় গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয়রা ঘটনা জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং মাজেদা ও আমিন ছৈয়ালকে আটক করে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাসলিমার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার পর থেকে নূর ইসলাম মাতবর ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক। এ ঘটনায় তাসলিমার বাবা ইউসুফ খান বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ইউসুফ খান বলেন, ‘আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার নাম করে আমার মেয়েকে গত সোমবার নিয়ে যায় প্রতিবেশী নূর ইসলাম মাতবর ও তার স্ত্রী আয়শা বেগম। বুধবার রাতে জানতে পারি যে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার এহসানুল ইসলাম জানান, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মা ও বাচ্চার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

শরীয়তপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) থান্দার খায়রুল হাসান জানান, এরই মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 



মন্তব্য