kalerkantho


ক্রিকেট

মন তাদের বিশ্বকাপে

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মন তাদের বিশ্বকাপে

দেশ ছাড়ার আগে গতকাল বিমানবন্দরে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন জাতীয় ক্রিকেট দল। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাশরাফি বিন মর্তুজারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিলেন গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে এটাই সেরা প্রাপ্তি বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ক্রিকেট দলের লক্ষ্যটা আরো বড়। ৮ জানুয়ারি থেকে পাকিস্তান ও আরব আমিরাতে শুরু হতে যাওয়া পঞ্চম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে চায় তারা। ছয় দল নিয়ে হতে যাওয়া এক দিবসীয় ক্রিকেটের এই বিশ্বকাপে অংশ নিতে গতকাল পাকিস্তান গেছে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন জাতীয় ক্রিকেট দল। বিমানবন্দরে দলের অধিনায়ক তানজিলুর রহমান জানালেন সেমিফাইনালে খেলার প্রত্যয়, ‘আমাদের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে। এই বিশ্বকাপের যা ফরম্যাট তাতে অন্তত দুটি ম্যাচ জিতলে সম্ভাবনা থাকে সেমিফাইনালে খেলার। সেই স্বপ্ন নিয়েই আমরা খেলব বিশ্বকাপে।’

বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। এই বিশ্বকাপেও তানজিলুর রহমানের দলের সঙ্গে জড়িয়ে বসুন্ধরার নাম। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পাশে পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানালেন বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার মোহাম্মদ তাইজ উদ্দিন, ‘বাংলাদেশের শীর্ষ এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান পাশে দাঁড়ানোয় কৃতজ্ঞ আমরা। তাদের সাহায্য আরো অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে আমাদের।’ গত বছর নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, রংপুর রাইডার্সের স্বত্বাধিকারী ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সভাপতি সাফওয়ান সোবহান। সমাপনী বক্তব্যে এই সংস্থার সঙ্গে থাকতে পেরে সম্মানিত ও আনন্দিত হওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দেন সাফওয়ান সোবহান।

৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ও গতবারের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা খেলছে না এবার। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপের এটা পঞ্চম আসর। প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০০২ ও ২০০৬ সালে পাকিস্তান আর ২০১৪ সালে হওয়া সবশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত। পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ দিয়ে লাহোরে ৮ জানুয়ারি উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল এবারের বিশ্বকাপের। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতীয় সরকার তাদের দলকে ছাড়পত্র দেয়নি পাকিস্তান যাওয়ার। তাই গত পরশু বদলে গেছে সূচি। ৮ জানুয়ারি লাহোরে বাংলাদেশে-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে এই ওয়ানডে বিশ্বকাপের পঞ্চম আসরের। ভারত তাদের সব ম্যাচগুলো খেলবে আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। বাংলাদেশ ১২ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আর ১৪ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে দুবাইয়ে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১০ জানুয়ারি হতে যাওয়া ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিও খেলতে হবে দুবাইয়ে।

ছয় দলের বিশ্বকাপে পয়েন্টে এগিয়ে থাকা চার দল খেলবে সেমিফাইনালে। ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি দুটি সেমিফাইনালের ভেন্যুই দুবাই। ২১ জানুয়ারি ফাইনাল মাঠে গড়াবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। তবে ভারত ফাইনালে পৌঁছলে বদলে যেতে পারে ফাইনালের ভেন্যু। নিরাপত্তার শঙ্কা থাকলেও গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছে পাকিস্তানে। সরফরাজ আহমেদদের বিপক্ষে লাহোরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে বিশ্ব একাদশ। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলও একটি টি-টোয়েন্টি খেলতে এসেছিল লাহোরে। তাই নিরাপত্তা নিয়ে না ভেবে নিজেদের খেলায় মনোযোগী হতে চান বাংলাদেশের অধিনায়ক তানজিলুর রহমান, ‘আমরা দেশবাসীর দোয়া চাই। ছয় দলের মধ্যে ভারতই সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে তাদেরও হারাতে পারি আমরা।’

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের খেলার নিয়ম স্বাভাবিকভাবে কিছুটা আলাদা। একাদশ সাজাতে বি-১ ক্যাটাগরির চারজন, বি-২ ক্যাটাগরির তিনজন আর বি-৩ ক্যাটাগরির চারজন নিতে হয়। বি-১ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা চোখে কিছুই দেখেন না, তাই বিশেষ সুবিধা পান তাঁরা। এই ক্রিকেটাররা ১ রান নিলে হয় ২, তেমনি বাউন্ডারি মারলে হয় ৮ রান আর ছক্কায় ১২। বি-২ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা দেখতে পান ৫ মিটার দূরের বস্তু আর বি-৩ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা ১৫ মিটার দূরের বস্তু। তবে তারা ১, ২, ৪ বা ৬ রানের শট নিলে বাড়তি কোনো রান যোগ হয় না। অন্য রকম নিয়মের বলে দৃষ্টিহীনদের এই খেলার আইসিসির স্বীকৃতি নেই।



মন্তব্য