kalerkantho


শিক্ষকদের অনশন চলছে

আরো অনেকে অসুস্থ, শীতে কাহিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আরো অনেকে অসুস্থ, শীতে কাহিল

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনরত নন-এমপিও শিক্ষকদের কয়েকজন গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুপুরে অসুস্থ একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য শিক্ষকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের আমরণ অনশনের পঞ্চম দিনে গতকাল আরো অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শীত বাড়ায় তাঁদের কষ্টও বেড়েছে। গতকাল জবুথবু অবস্থায় তাঁরা শুয়ে-বসে ছিলেন। দাবিতে অনড় শিক্ষকরা বলছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চলবে। যৌক্তিক দাবিতেই তাঁদের এই আন্দোলন। এদিকে অনশনরত শিক্ষকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনরা।

গত রবিবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার আরো ২৪ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ দিনে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে। সারা দেশ থেকে শিক্ষকরা ঢাকায় এসে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় অনশন করছেন। নিজেদের এমপিও ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে শিক্ষকরা প্রথমে ২৬ ডিসেম্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কিন্তু কোনো আশ্বাস না পেয়ে তাঁরা আমরণ অনশন শুরু করেন। অনশনের পঞ্চম দিন পার হলেও কোনো আশ্বাস মেলেনি।

গতকাল দুপুর ২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তার পাশে বসে আছেন শিক্ষকরা। কারো মাথায় পতাকা আবার কারো হাতে প্ল্যাকার্ড। দুর্বল শরীরে কেউ কেউ গা এলিয়ে শুয়ে আছেন। কারো চোখ ছলছল করছে, নেই কোনো উচ্চবাচ্য কিংবা চিৎকার। তবে মাইকে অনবরত জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের দাবি। সংহতি জানাতে এসে বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও বিশিষ্টজনরা বক্তব্য দিচ্ছেন। অনশনরতদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ দুর্বল গলায় বক্তব্য দিচ্ছেন। চিকিৎসকরা অসুস্থ শিক্ষকদের শরীরে স্যালাইন দিচ্ছেন।

গতকাল খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন, মোসাইদা সুলতানা ও ফাহমিদুল হক; সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা,  শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাসসহ অনেকে এসে সংহতি প্রকাশ করেন।

দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি উপেক্ষা করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব নয়। ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। সেখানে শিক্ষকদের জন্য এক হাজার কোটি টাকা কোনো ব্যাপার নয়। আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন আর শিক্ষকদের অনশন ভাঙাবেন।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০১০ সালে। কিন্তু কেন এখনো এর বাস্তবায়ন হচ্ছে না? আর এটার দায় কে নেবে? শিক্ষামন্ত্রী কিভাবে বলেন টাকা নাই? সরকারের মন্ত্রী ও আমলাদের গাড়ি-বাড়ি ও বিদেশে যাওয়ার পেছনে কত টাকা খরচ হয়? শুধু গাড়ি পরিচালনার পেছনে যে টাকা খরচ হয় তার অর্ধেক টাকাও শিক্ষকদের অধিকার বাস্তবায়নে খরচ হয় না। অর্থ পাচার হলে সরকারের তরফ থেকে বলা হয় তুচ্ছ ঘটনা। শিক্ষকরা টাকা চাইলে বলেন টাকা নাই।’ 

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য শিক্ষক বা সমাজের জন্য সুখকর নয়। শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আবেদন, শিক্ষকদের দাবি পুনরায় বিবেচনা করুন।’

বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন যৌক্তিক। তাঁদের দাবি মেনে নিতে হবে সরকারকে। শিক্ষকদের বঞ্চিত করে কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না।’

রাজশাহীর বাঘা থেকে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে তহুরুল ইসলাম। তিনি একটি মাদরাসার শিক্ষক। গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা এসেছেন। অনশনরত অবস্থায় তিনি বলেন, ‘এক দাবিতেই আন্দোলন করছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরছি না। আর কত অবহেলিত অবস্থায় থাকব আমরা?’

 

 



মন্তব্য