kalerkantho


গত বছর সড়কে ঝরেছে ৪ হাজার ২৮৪ প্রাণ

► ২০১৬ সালের তুলনায় ২৫.৫৬ শতাংশ বেশি
► দুর্ঘটনার ৯টি প্রধান কারণ চিহ্নিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গত বছর সড়কে ঝরেছে ৪ হাজার ২৮৪ প্রাণ

বিদায়ী বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে সারা দেশে তিন হাজার ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় চার হাজার ২৮৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৯ হাজার ১১২ জন। ২০১৬ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ২৫.৫৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে গত বছর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৫.৮১ শতাংশ বেশি। এটাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর)।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ঘটা দুর্ঘটনা ও হতাহতের জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে কমিটি এসব তথ্য দিয়েছে।

কমিটির দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৬ সালে দুই হাজার ৯৯৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭০ নারী ও ৪৫৩ শিশুসহ তিন হাজার ৪১২ জন নিহত এবং আট হাজার ৫৭২ জন আহত হয়েছে। তবে আগের বছর ২০১৫ সালে চার হাজার ৫৯২টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ছয় হাজার ৮২৩ ও ১৪ হাজার ২৬।

কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সর্বাধিক ৩৭২টি দুর্ঘটনায় ৫৬ নারী ও ৫৮ শিশুসহ মোট ৪৭২ জন নিহত এবং এক হাজার ৯৪ জন আহত হয়েছে। একই বছর আগস্টে সর্বনিম্ন ২১৭টি দুর্ঘটনায় ২৫ নারী ও ৩১ শিশুসহ ২৭৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। আর আহত হয় ৫০৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে ৩৫০টি দুর্ঘটনায় ৫৪ নারী ও ৫৫ শিশুসহ ৪১৬ জন নিহত হয়। আহত হয় এক হাজার ১২ জন। মার্চে ৩৩০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৬২ জন; যার মধ্যে ৪৯ নারী ও ৫৪ শিশু রয়েছে। আহত হয়েছে ৮৬৫ জন। এপ্রিলে ৩২০টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৮ শিশুসহ ৩৪৯ জন নিহত এবং ৮৬১ জন আহত হয়েছে। মে মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৪৬টি; এতে ৫২ নারী ও ৫৮ শিশুসহ ৪১০ জন নিহত ও এক হাজার ১৬ জন আহত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে ২৬৫টি দুর্ঘটনায় ৩৪ নারী ও ৪২ শিশুসহ ৩৩৩ জন নিহত ও ৬৩২ জন আহত হয়েছে। জুলাইয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২১৯টি; এতে নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ২৭৯ ও ৫১৭ জন। নিহতদের মধ্যে ২৭ নারী ও ৩৫ শিশু রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ২৪৯টি দুর্ঘটনায় ৩৮ নারী ও ৩৯ শিশুসহ ৩৫৬ জন নিহত এবং ৬০৫ জন আহত হয়েছে। অক্টোবরে ২৫৮টি দুর্ঘটনায় ৩৭৯ জন নিহত ও ৬৮১ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ৪১ নারী ও ৪৫ শিশু রয়েছে। নভেম্বরে ২৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯ নারী ও ৪২ শিশুসহ ৩৪১ জন নিহত ও ৬০৯ জন আহত হয়েছে। ডিসেম্বরে ৩১০টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৩৫ ও ৭১৭। নিহতদের মধ্যে ৫৪ নারী ও ৩২ শিশু রয়েছে।

জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২২টি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র, আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। বছরব্যাপী পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনা বাড়ার জন্য ৯টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে জাতীয় কমিটি। এর মধ্যে বেপরোয়াগতিতে গাড়ি চালানো, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি, স্থানীয়ভাবে তৈরি দেশীয় ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং, জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও বেহাল সড়ক, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ উল্লেখযোগ্য।

এ বিষয়ে জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর যথাযথ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবই দায়ী। দুর্ঘটনা সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে হলে গণপরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে হবে।’ সে ক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র ও উপযুক্ত বেতন-ভাতা দেওয়া এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।



মন্তব্য