kalerkantho


র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফেনী ও নেত্রকোনায় নিহত ২

হবিগঞ্জে যুবদল নেতা নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফেনী ও নেত্রকোনায় নিহত ২

প্রতীকী ছবি

ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আনোয়ার হোসেন রাজু (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। নেত্রকোনোর মোহনগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন রিপুল (৪০) নামের এক ব্যক্তি। তিনি আন্ত জেলা ডাকাতদলের সর্দার বলে জানিয়েছে পুলিশ। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশকে ‘ছুরিকাঘাত করার সময়’ পুলিশের আত্মরক্ষায় চালানো পাল্টাগুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ইউনুছ আলী (৪০), যাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

ফেনী : ফেনীর সদরের ধর্মপুরে গত রবিবার গভীর রাতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান আনোয়ার হোসেন রাজু। তিনি ইউনিয়নের মুজিববাড়ির জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

ফেনীর র‌্যাব-৭-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়েত জামিল ফাহিম গতকাল সোমবার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ধর্মপুরের হাফেজিয়া মাদরাসা এলাকার একটি বাড়িতে মাদক কারবারিরা মাদকসহ অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালান র‌্যাব সদস্যরা। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়তে থাকে মাদক কারবারিরা। র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টাগুলি চালান। একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেন রাজু গুলিবিদ্ধ হলে তাঁকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকালে তিনি মারা যান। গোলাগুলির সময় ‘অন্যরা’ পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটারগান, একটি দেশি বন্দুক, সাত রাউন্ড গুলি, পাঁচটি খালি খোসা উদ্ধার করে। নিহত রাজুর বিরুদ্ধে মাদক, ধর্ষণ, চোরাচালান, ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

হাওরাঞ্চল : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আন্ত জেলা ডাকাতদলের সর্দার রিপুল ওরফে রিপুল্যা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই আফজাল, জহিরুল ও কনস্টেবল তফাজ্জল গুরুতর আহত হন। তাঁদের মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ডাকাতদের কাছ থেকে একটি দেশি শাটারগান, দুই রাউন্ড গুলিসহ বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

গত রবিবার রাত ১টার দিকে পুলিশ আটক রিপুল ডাকাতকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর দেওয়া তথ্য মতে নিজ বাড়ি উপজেলার চানপুর গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে মোহনগঞ্জ-গাগলাজুর সড়কের নয়াপাড়ার কাছে পুলিশের গাড়িটি যাওয়া মাত্রই রিপুল ডাকাতের সহযোগীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশও পাল্টাগুলি ছোড়ে। এ সময় ডাকাতদের ছোড়া গুলিতেই রিপুল নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। নিহত ডাকাত সর্দার রিপুল উপজেলার চানপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালিবের ছেলে।

পুলিশ জানায়, রিপুল ওরফে রিপুল্যা ডাকাতের নামে নেত্রকোনার মডেল থানা, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন থানায় পাঁচটি ডাকাতি মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন।

গত শনিবার রাত থেকেই পুলিশ রিপুলকে ধরার জন্য ওত পেতে থাকে। একপর্যায়ে রবিবার দুপুর ১টার দিকে রিপুল উপজেলার গাগলাজুর বাজারে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাজার সংলগ্ন মরা কংস নদ দিয়ে সাঁতার কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রায় ৪০ মিনিট চেষ্টার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি আনসারী জিন্নাৎ আলী জানান, গতকাল দুপুরে রিপুল ডাকাতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দ্বি-মাগুরুণ্ডা এলাকায় পুলিশের গুলিতে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা ইউনুছ আলী নিহত হন গত রবিবার গভীর রাতে। ইউনুছ আলী চুনারুঘাট শহরের দক্ষিণ হাতুণ্ডা গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বি-মাগুরুণ্ডা গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে অটোরিকশাচালক জসিম উদ্দিন (২২) চুনারুঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, দ্বি-মাগুরুণ্ডা গ্রামের আ. নুরের ছেলে কাউসার মিয়া জোরপূর্বক মাদক পরিবহনের জন্য তাঁকে চাপ দিচ্ছেন। এ অভিযোগ পেয়ে থানার এসআই আতাউর রহমান ঘটনাস্থল দ্বি-মাগুরুণ্ডা এলাকায় গেলে একটি ঘরে কয়েকজন মাদক কারবারিকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ওই ঘরে থাকা ইউনুছ আলী পুলিশকে দেখে মনে করেন, তাঁকে ধরার জন্য পুলিশ এসেছে। তিনি তাঁর হাতে থাকা ক্ষুর দিয়ে এসআই আতাউর রহমানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। পরে এসআই আতাউর রহমান তাঁর কোমরে থাকা রিভলবার বের করে আত্মরক্ষার জন্য তিনটি গুলি করলে তিনি গুরুতর আহত হন। রাত পৌনে ১২টায় আহত অবস্থায় তাঁকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে এলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

চুনারুঘাট থানার ওসি কে এম আজমিরুজ্জামান জানান, ইউনুছ আলী চুনারুঘাট উপজেলার কুখ্যাত মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মাদক ও একটি পুলিশকে অ্যাসল্ট মামলা রয়েছে। কয়েক মাস আগে তিনি চুনারুঘাট থানার এসআই দেলোয়ারকে আক্রমণ করে আহত করেছিলেন।

চুনারুঘাট পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুছ মিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে একবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। গত ১ আগস্ট পৌর শহরের সিনেমা হল এলাকায় পুলিশ মাদক আটক করতে গেলে তিনি পুলিশের ওপর আক্রমণ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে তিনি কিছুদিন জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পান।


মন্তব্য