kalerkantho


ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

বিদেশে নতুন বাজার খুঁজে বের করুন

► মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন
► ওষুধশিল্পকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিদেশে নতুন বাজার খুঁজে বের করুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ২৩তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন। ছবি : বাসস

বিদেশে নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করে দেশের রপ্তানি খাতকে সমৃদ্ধ করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের শুধু একদিকে তাকালে চলবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নতুন দেশ, নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করতে হবে, নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। সেসব বাজারে কোন ধরনের পণ্য রপ্তানি করা যায়, সেটাও খুঁজে বের করতে হবে।’

গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি এ বছর ওষুধশিল্পকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেন।

উৎপাদিত পণ্যের মান নিশ্চিত করা, ব্র্যান্ডিং করা এবং এগুলোকে আকর্ষণীয় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যা যা সাহায্য করার তা তাঁর সরকার করে যাচ্ছে এবং করে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, সব সময় মাথায় রাখতে হবে বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। এই প্রতিযোগিতাময় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সেদিকে লক্ষ রেখেই তিনি ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের বলেন, শুধু নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা আনলেই হবে না। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়াতে হবে। আপনাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো একান্তভাবেই প্রয়োজন।

বহির্বিশ্বে বর্তমান সরকারের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরো ১২টি দেশে নতুন দূতাবাস এবং ১৭টি মিশন খোলা হয়েছে। সেসব দেশের অ্যাম্বাসাডর, হাইকমিশনারদের ডেকে ওয়ার্কশপ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং দেশে বিনিয়োগ কিভাবে বাড়ানো যায় সেদিকে লক্ষ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসার দ্বার আরো উন্মুক্ত হবে।

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা তাঁদের নতুন পণ্য প্রদর্শনীর সুযোগ পান। আবার দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদার একটি চিত্রও তাঁরা পেয়ে থাকেন। ফলে পণ্যের মানোন্নয়ন ও বহুমুখী করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বিশ্বের ৪৬তম বৃহত্তম অর্থনীতি। গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.২৮ শতাংশ। এখন আমদানি ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ আয় থেকে মেটানো হচ্ছে। মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬১০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক বেশির ভাগ সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে একই সঙ্গে উন্নয়ন ঘটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রীতিমতো বিস্ময় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স’ বলেছে, ‘নেক্সট ইলেভেনে’র প্রথমে থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৫০ সালে পশ্চিমা দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, “‘সিটি ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস’ বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুত প্রবৃদ্ধির দিক থেকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশগুলোর তালিকায় প্রথম দিকে স্থান দিয়েছে। এভাবে আইএমএফ, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, জেপি মর্গান চেজ ও মর্গান স্ট্যানলি বাংলাদেশকে অপার সম্ভাবনাময় দেশগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে যুক্ত করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত বড় অর্জন।”

‘আমাদের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই একটা দেশকে উন্নয়ন করতে হলে শিল্পায়নে যেতে হবে। কিন্তু কৃষিকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। কৃষিটা অত্যন্ত জরুরি। কারণ কৃষির মধ্য দিয়েই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। অর্থনীতি ত্বরান্বিত করতে শিল্পায়নটাও করতে হবে। আবার রপ্তানিও করতে হবে।’ চামড়া খাতের উন্নয়নে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০১৭ সালে আমরা চামড়া খাতকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছিলাম। সেই সঙ্গে চামড়াশিল্পের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছি।” এ বছর ওষুধশিল্পকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প একটি উচ্চ প্রযুক্তির শিল্প। দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ জোগান দিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকাসহ শতাধিক দেশে ওষুধ রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ওষুধশিল্পের উন্নতির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে এ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু করেছি।’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং নতুন বছর সবার জন্য আরো উন্নতি এবং প্রগতি নিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। অন্যান্যের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সুভাশীষ বোস ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বক্তব্য দেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য স্বাগত বক্তব্য দেন। সূত্র : বাসস।



মন্তব্য