kalerkantho


মৌলভীবাজারে দুই ছাত্রলীগকর্মী খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মৌলভীবাজারে দুই ছাত্রলীগকর্মী খুন

মৌলভীবাজারে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছাত্রলীগের দুই কর্মী নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মো. আলী সাবাব (২২) শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়ক এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে।

আরেকজন নাহিদ আহমদ মাহী (১৮); সে সদর উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম পাশে দুর্বৃত্তরা তাদের কুপিয়ে হত্যা করে।

তাত্ক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। পুলিশের ধারণা, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে তাদের হত্যা করা হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ কোন্দলের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

সাবাব মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রির ছাত্র। মাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের পশ্চিম অংশে। ঘটনাস্থলের পশ্চিমে উঁচু দেয়াল ঘেরা একটি বাড়ি।

উত্তরে বিদ্যালয়ের ‘এম সাইফুর রহমান অডিটরিয়াম’। দক্ষিণে বেশ দূরে ক্লাব রোড। আর পূর্ব দিকে মাঠের বাকি অংশ। যেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেখানে সন্ধ্যার পর লোকজনের তেমন যাতায়াত থাকে না।

গতকাল সেখানে সাবাব ও মাহীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন। পরে তারা দুজনকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাফি আহমদ খান জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে দুজনকে আনা হয়। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিহত দুজনের শরীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। মনে হয় কেউ অথবা কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে এভাবে আঘাত করে তাদের মেরেছে। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। ’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান রনি গতকাল রাত ১০টার দিকে বলেন, ‘নিহতরা ছাত্রলীগের কেউ না। ছাত্রলীগের কোনো কমিটি বা কোনো কিছুতে এরা জড়িত নয়। ’

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রনি রাত সাড়ে ১০টার দিকে বলেন, ‘সাবাব ছাত্রলীগের কর্মী ছিল। কিন্তু মাহী স্কুলছাত্র। তার বয়স কম। রাজনৈতিক কারণে এটা ঘটেনি। এ ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ক্রিকেট খেলাসংক্রান্ত একটা বিরোধ ছিল। সেই বিরোধ থেকে ঘটনাটি ঘটতে পারে। ’

মৌলভীবাজার থানার ওসি সোহেল আহমদ জানান, ‘সন্ধ্যার পর স্কুলমাঠে দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে এলাকার লোকজন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। কারা নিয়ে যায়, সেটা জানা যায়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ’

ওসি আরো জানান, এরা দুজনই ছাত্রলীগের কর্মী। মাহী স্কুলের ছাত্র হলেও তাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা যেত। ধারণা করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। খুনিদের ধরতে পুলিশের পাঁচটি দল কাজ করছে বলেও জানান ওসি।


মন্তব্য