kalerkantho


মনোনয়ন ‘নিশ্চিত’ বীরেনের লড়াইয়ে নিতাই-কামাল

শামীম খান, মাগুরা   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মনোনয়ন ‘নিশ্চিত’ বীরেনের লড়াইয়ে নিতাই-কামাল

শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন, সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাগুরা-২ আসন। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত এ আসনে আগামী নির্বাচন ঘিরে আলোচনার উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে, যার মূল বিষয় মনোনয়ন।

আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদারের মনোনয়ন এক রকম নিশ্চিত বলেই জানিয়েছে দলের নেতাকর্মীরা।

তবে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী ও কাজী সালিমুল হক কামালের মধ্যে লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সেই সময় রাজনীতিতে নতুন মুখ শিল্পপতি সালিমুল হক কামাল জয়লাভ করার পর ভোট ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, সেটা বহুদূর গড়িয়ে ১৯৯৬ সালে দুবার সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

জাতীয় সংসদের ৯২ নম্বর এই নির্বাচনী এলাকায় স্বাধীনতার আগে থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আছাদুজ্জামান পর পর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখনই এটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৯৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ সেই বিতর্কিত উপনির্বাচন হয়।

তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সালিমুল হক আবার সংসদ সদস্য হন।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন বীরেন শিকদার। ২০১৪ সালের দশম সংসদেও তিনি মাগুরা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগ : মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহসভাপতি ড. বীরেন শিকদার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র

তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এলাকার জনগণের সাথে সব সময়ই আমি সম্পৃক্ত রয়েছি। সপ্তাহে দুই দিন নির্বাচনী এলাকায় থেকে জনগণের সুখ-দুঃখে সময় দেওয়াসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছি। মহম্মদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মধুমতী নদীর ওপর শেখ হাসিনা সেতু নির্মিত হয়েছে এবং শালিখা উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। মহম্মদপুর উপজেলা, সদরের চার ইউনিয়নে শতকরা ৮৫ ভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। এ ছাড়া এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করে অনুন্নত শালিখা-মহম্মদপুরকে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ সমৃদ্ধ করেছি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সমানভাবে উন্নয়ন ঘটিয়েছি। গোটা জেলার ক্রীড়া উন্নয়নে আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণসহ একাধিক মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। ’

মনোনয়েনের ব্যাপারে সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার বলেন, ‘নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর যতবার আস্থা রেখেছেন, ততবার আমি সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবার এ আসনটি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব বলে আশা করি। ’

বীরেন শিকদারের পাশাপাশি এ আসনে মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ড. ওহিদুর রহমান টিপু মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন বিষয়ে সাবেক ছাত্রনেতা ওহিদুর রহমান টিপু বলেন, ‘দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এলাকায় এসে নির্বাচনী মাঠে তৎপর থাকতে বলেছেন। এ কারণে অনেক আগে থেকেই আমি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছি। দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি। এলাকার মানুষ আমাকে প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশার আলোকেই আমি নিজেকে আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করছি। ’

বিএনপি : মাগুরা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত মূল আলোচনা চলছে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও জেলা শাখার সাবেক সভাপতি কাজী সালিমুল হক কামালকে ঘিরে। নিতাই রায় নবম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বীরেন শিকদারের কাছে পরাজিত হন।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘মাগুরা-২ আসনের প্রার্থী হিসেবে আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাংগঠনিক ও নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমার সাথে বিজয়ী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল যৎসামান্য। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবার আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। ’

সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দলের তৃণমূল কর্মীসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন জানিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী আরো বলেন, ‘এ আসনটি আমার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা। এ কারণে এখানেই প্রার্থী হতে চাই আমি। ’

নিতাই রায় চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে কথা হয় দলের মাগুরা জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব কিশোরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নিতাই রায় চৌধুরী বিএনপির দুঃসময়ের কাণ্ডারি। এখন পর্যন্ত দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক পর্যায়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। শালিখা-মহম্মদপুর অঞ্চলে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ কারণে তাঁকে প্রার্থী করলে এবং অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসনটিতে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত। ’

বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী সালিমুল হক কামাল বর্তমানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ কারণে নির্বাচনী এলাকাসহ দলের বড় অংশের নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর রয়েছে নিবিড় সাংগঠনিক সম্পর্ক। এ কারণে দলের অনেকেই সালিমুল হক কামালকে আগামী নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

মাগুরা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহেদ হাসান টগর বলেন, ‘কাজী সালিমুল হকের প্রতি তাঁর নির্বাচনী এলাকাসহ সারা জেলার বেশির ভাগ নেতাকর্মীর আন্তরিক ভালোবাসা ও সমর্থন রয়েছে। এ কারণে আমরা চাই মাগুরা-২ আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। এ আসনে তিনি প্রার্থী হলে ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। ’

অন্যান্য : এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে দলের মহম্মদপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খসরুর আলম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মুফতি মোস্তফা কামাল মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। মুফতি মোস্তফা ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন।

জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অন্যতম সদস্য মুফতি মোস্তফা কামাল বলেন, ‘নবম সংসদ নির্বাচনে আমি দলের প্রার্থী হিসেবে প্রায় ১১ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। আগামী নির্বাচনেও আমাদের দল সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। পাশাপাশি মাগুরা-২ আসনে আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী। ’


মন্তব্য