kalerkantho


রংপুর সিটি নির্বাচন

সিইসি বললেন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই

রংপুর অফিস   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সিইসি বললেন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই

আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২২ থেকে ২৩ জন করে সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ করা যায় তার জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন-২০১৭ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনাসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর আশঙ্কার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ সঠিক না। অবশ্যই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। এ জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। ’ বিএনপিকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে—দলটির এমন অভিযোগকে অমূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশ মনে করলে অবশ্যই তা করবে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে হয়রানি করার প্রশ্নই আসে না। ’

সিইসি বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণের জন্য ২২টি টিম এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। শুক্রবার থেকে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ শুরু করবেন।

নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে বলেও তিনি জানান।

নুরুল হুদা বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার হলে প্রশাসনিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে নজরদারি করছে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কালো টাকা ব্যবহারের তথ্য পেলে প্রশাসনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’

সিইসি বলেন, ‘আমরা মাত্র একটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করার চিন্তা করছি। তার পরও যে ভোটকেন্দ্রে এটি করা হবে সেখানকার ভোটাররা যদি ওই যন্ত্রের সাহায্যে ভোট দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করে তাহলে আমরা ইভিএম ব্যবহার করব না। ’ অন্যদিকে মাত্র একটি কেন্দ্রে সিসিটিভি পরীক্ষামূলক ব্যবহারের চিন্তাভাবনা চলছে বলেও জানান তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যতটুকু সত্য ততটুকু প্রকাশ করার অনুরোধ জানান তিনি।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহামেদ, রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকারসহ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ফল ঘোষণা কেন্দ্র থেকেই : রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিন কেন্দ্র থেকেই ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। গতকাল বিকেলে তিনি রংপুর জিলা স্কুল অডিটরিয়ামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতবিনিময়সভায় এ কথা জানান। তবে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিইসি আরো বলেন, ‘এবারের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। রংপুর সিটি নির্বাচন হবে মডেল নির্বাচন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। ’ আচরণবিধি লঙ্ঘন না করে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রার্থী ও ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ ছাড়া মেয়র প্রার্থীদের জন্য রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত ছয়টি থানায় ছয়টি অফিস এবং ৩৩টি ওয়ার্ডে একটি করে মাইক ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য তিনটি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একটি করে মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেন সিইসি।

মতবিনিময়সভায় প্রার্থীরা কালো টাকার ব্যবহার বন্ধে ভোটের দুই দিন আগে থেকে টাকা পাঠানোর মোবাইল সেবা বিকাশ বন্ধ, নগদ লেনদেন, প্রভাবশালী প্রার্থীদের হস্তক্ষেপ ও নানা রকম হুমকি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

মতবিনিময়সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্র ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী, ৩৩টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রস্তুতি : রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা এবং আইন-শৃঙ্খলায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে সে জন্য বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিটিতে রয়েছেন রংপুর পুলিশ রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান, বিজিবি সেক্টর কমান্ডার ও রিটার্নিং অফিসার।

রিটার্নিং অফিসার ও রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার এই তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে পারে সে জন্য নিয়োজিত থাকবেন দুই হাজার ২৩১ জন পুলিশ ও ৫১৫ জন আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব সদস্য ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের জন্য ভোটকেন্দ্র ছাড়াও ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

রিটার্নিং অফিসার জানান, এই নির্বাচনে মোট ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটের আগে এবং পরবর্তী সময়ে যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সে লক্ষ্যে পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বিভিন্ন সময় মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, স্ট্যান্ডবাই ফোর্স, মহাসড়কে পাহারা, চেকপোস্টসহ বিভিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরই মধ্যে এই প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার কাজ চলছে।


মন্তব্য