kalerkantho


আতঙ্কের তিন কিলোমিটার

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আতঙ্কের তিন কিলোমিটার

রাজশাহী নগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়কটি প্রায় তিন কিলোমিটার। দুই লেনের এ সড়ক এখন যানবাহন চলাচলের অযোগ্য।

খানাখন্দ আর গর্তের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি এ সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একজন মোটরসাইকেল আরোহীও প্রাণ হারিয়েছেন। সে কারণে এ সড়কটি লোকজনের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটির দুই দিকেই বড় বড় গর্ত। শিরোইল বাসস্ট্যান্ডের সামনেই কোথাও গর্তের আকার এমন যেন, কিছু আগেও একটু বৃষ্টিতেই পুকুরের মতো হয়ে যেত। আবার কিছু কিছু জায়গা যানবাহন চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিরোইল বাসস্ট্যান্ডের সামনে ও তালাইমারী মোড় থেকে উত্তর দিকে নর্থবেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত খানাখন্দে ভরা। সে কারণে যানবাহন চলাচল করতে হয় সড়কের এক পাশ দিয়ে।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের শিরোইল বাসস্ট্যান্ডের সামনে বিশালাকার অনেক গর্ত।

যানবাহন চলছে রাস্তার দক্ষিণ পাশের লেন দিয়ে। এতে করে যানবাহন সামনাসামনি হয়ে সংঘর্ষের উপক্রম হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির মুখেই খানাখন্দক থাকায় শিরোইল বাসস্ট্যান্ডজুড়ে যানজট লেগেই থাকছে সব সময়। সড়কটির দক্ষিণ পাশে শিরোইল বাসস্ট্যান্ড। উত্তর পাশে রাজশাহী রেলস্টেশন। বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাওয়া-আসা করে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। কারণ রাস্তায় যানজট লেগেই থাকছে। গর্ত আর খানাখন্দের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হাসনাইন খালেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করে।

কেউ যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে, আবার কেউ যায় অটোরিকশায় চড়ে। এ রাস্তায় চলাচলের সময় মনে হয়—এই বুঝি উল্টে গেল গাড়ি। একটা আতঙ্ক নিয়েই চলতে হয় এই রাস্তা দিয়ে। ’ 

নগরীর ভদ্রা এলাকার বাসিন্দা জুনায়েদ রহমান বলেন, রাজশাহী নগরবাসীর জন্য ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের এই তিন কিলোমিটার অংশটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা রাস্তা। কিন্তু রাস্তাটি এখন মহাদুর্ভোগের নাম। বিশেষ করে নগরীর পূর্ব এলাকার মানুষ যারা এই রাস্তাটি ব্যবহার করে, তাদের জন্য দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে রাস্তাটি। তিন কিলোমিটারের পুরোটাই ভাঙাচুরা, কার্পেটিং উঠে ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ঢাকা-রাজশাহীগামী দ্রুতগতির যানবাহনগুলোও চলছে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে।   

রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটি নগরের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় সড়কটি রাজশাহী সিটি করপোরেশনই দেখভাল করে থাকে। তবে গত বর্ষার পর থেকে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তালাইমারী ও শিরোইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা কোথাও কোথাও হাঁটু সমান গর্ত হয়ে গেছে। এই অবস্থায় এ দুটি এলাকায় যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস, সোনামসজিদ বন্দর হয়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে সড়কের এক পাশ দিয়ে।

বাসচালক হযরত আলী বলেন, শিরোইল বাসস্ট্যান্ডের সামনে সড়কের এমন বেহাল দশা হবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। তালাইমারী মোড়ের সামনে বিশালাকার গর্ত হয়ে আছে বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই। মাঝে কিছুদিন রাস্তার পশ্চিম পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে। তখন এক পাশ দিয়েই যানবাহন চলাচল করছিল। এত কিছুর পরও সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। সড়কটি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনাও।

আরেক বাসের চালক মজিবুর রহমান বলেন, ‘গাড়ি নিয়ে এ রাস্তায় এলে জীবনটা হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয়, এত ভয়ংকর অবস্থা। ’ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি। অবশ্য মজিবুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘সংস্কারের নামে তো আবার শুধু অর্থ লুটপাট হয়। আসল কাজ হয় কই। যার কারণে কয় দিন যেতে না যেতেই যে অবস্থা ছিল, তাই হয়ে যায়। ’

জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই জরুরি। কিন্তু অর্থাভাবে আমরা সেটি করতে পারছি না। তবে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হবে। এবার রাস্তাটি সংস্কারসহ দুই পাশ দিয়ে ড্রেনেজ প্রকল্পও নেওয়া হবে। যাতে করে পানি জমে রাস্তা আর নষ্ট হতে না পারে। ’

এর জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় হবে জানিয়ে প্রকৌশলী আশরাফুল বলেন, ‘আশা করছি আগামী জানুয়ারির মধ্যেই আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজও শুরু করতে পারব। ’

 


মন্তব্য