kalerkantho


নির্বাচনে সেনাবাহিনী কখনো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পায়নি

আগামী দিনেও সম্ভাবনা নেই!

কাজী হাফিজ   

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচনে সেনাবাহিনী কখনো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পায়নি

দেশের কোনো নির্বাচনেই সশস্ত্র বাহিনী কিংবা সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করার দাবিটিও বিচার বিভাগ ও বিচারকাজ সম্পর্কিত প্রচলিত বিধিবিধানের সঙ্গে যায় না।

এমন দাবি বাস্তবায়ন করতে হলে নির্বাচনী আইনসহ  বেশ কিছু আইনে পরিবর্তন আনতে হবে, যা জটিল ও প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিমত পাওয়া গেছে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাঁরা বলছেন ২০০১ সালে এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নিয়োগ করা হয়েছিল তাঁরা  ঠিক বলছেন না। বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও সম্ভব নয়। ওই দুটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। তখনো তাদের বিচারিক ক্ষমতা ছিল না। ’

নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকও এ প্রতিবেদককে বলেন, ওই দুই নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী অপরাধের ক্ষেত্রে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মতোই কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা ছিল। সেই ক্ষমতাকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বলা যায় না। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা হচ্ছে বিচারের মাধ্যম কাউকে শাস্তি দেওয়া।

বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের বাইরে ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আংশিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁরা লঘু শাস্তি দিতে পারেন। আর সামরিক শাসনের কথা বাদ রাখলে সশস্ত্র বাহিনীর নিজেদের জন্য নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থা বেসামরিক পর্যায়ে প্রযোজ্য নয়।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে বেশির ভাগ দলই নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি জানায়। বিএনপিসহ কয়েকটি দল ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ৭২’ বা সংসদ নির্বাচনের আইনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্তি ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানায়। তবে আওয়ামী লীগ ও তাদের ক্ষমতার অংশীদার দলগুলো সেনা নিয়োগ প্রশ্নে বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে আগ্রহী নয়। দলগুলোর ব্যাখ্যা হচ্ছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কিভাবে নিয়োগ করা যাবে তা ১৮৯৮ সালে প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ শিরোনামে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।  

সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বরের জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা নিয়োগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ কেউ বলেন, ২০০১ সালের মতো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা নিয়োগের সুযোগ আর নেই।   নির্বাচনে সেনা নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী

অবস্থানের মধ্যে গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী নির্বাচনে সেনা নিয়োগ হবে. কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় হবে সে সম্পর্কে কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত  হয়নি। অবশ্য পরদিনই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি। সর্বশেষ গত বুধবার সিইসি বলেছেন, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হয়, এটি একটি বাস্তবতা।

এদিকে গত ২৪ অক্টোবরের  নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক নির্বাচনী আইন সংস্কারের জন্য লিখিতভাবে বেশ কিছু প্রস্তাব রাখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তাঁর প্রস্তাবেও নির্বাচনে সেনা নিয়োগের বিষয়টি রয়েছে। মোহাম্মদ আবদুল মোবারকের যুক্তি, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত না করেও কার্যকরভাবে সেনা সহযোগিতা পওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তিনি সিআরপিসির বা  ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩১ ধারা উল্লেখ করে বলেছেন, এই বিধানের বলে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতেও সেনাবাহিনীর একজন কমিশন্ড অফিসার প্রয়োজনে জননিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর অবৈধ সমাবেশ ভঙ্গের নির্দেশ দেওয়ার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের অধিকার রাখেন। এ প্রস্তাবটি কমিশনারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদারও গত মঙ্গলবার ফৌজদারি কার্যবিধির  ১৩১ ধারা অনুযায়ী সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

স্ট্রাইকিং ফোর্স : সর্বশেষ কাজী রকিবের নির্বাচন কমিশন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। কমিশনের পরিপত্রে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনী রিটার্নিং অফিসারদের (মূলত জেলা প্রশাসক) সার্বিক সমন্বয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে এবং সুবিধাজনক স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুসারে উপজেলা/থানায় সশস্ত্র বাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োগ করা হবে। রিটার্নিং অফিসার চাইলে তাঁরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা দেবেন। রিটার্নিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারের চাহিদা ছাড়া সশস্ত্র বাহিনী ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কিংবা ভোট গণনা কক্ষে কোনো প্রকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে না।

কাজী রকিব কমিশন ২০১৫ সালে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশন বলে, ভোটারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরো আশ্বস্ত করতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া  হয়েছে। ঢাকায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট ও পোস্তগোলা ক্যান্টনমেন্ট এবং চট্টগ্রামে হালিশহর, দামপাড়া ও চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সেনাবাহিনী প্রস্তুত থাকবে। রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশ পেলে সেনাবাহিনী গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সেনা সদস্যদের সঙ্গে ১৬ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ভোট গ্রহণের দিন সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হয়নি।

‘শো অব ফোর্স’ : কমিশন সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী ও রক্ষীবাহিনী নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৯, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ  সংসদ নির্বাচন হয় সামরিক শাসকদের অধীনেই। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সে সময় এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯/১৩০ ধারা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু সিভিল পাওয়ারের’ সপ্তম ও দশম অনুচ্ছেদ অনুসারে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সেনা ও নৌবাহিনী ব্যবহার করতে পারবেন। সেনা ও নৌবাহিনীকে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত শুধু ‘শো অব ফোর্স’-এর জন্য ব্যবহার করা হবে। পুলিশই আইন-শৃঙ্খলাজনিত ঘটনাগুলো প্রচলিত বিধান অনুসারে মোকাবেলা করবে। ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

আরপিও সংশোধন : ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ, একই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯/১৩০ ধারা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু সিভিল পাওয়ার’ অনুযায়ী সেনা ও নৌবাহিনী নিয়োগ করা হয়।  

তবে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়। সংশোধিত আরপিওতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে আনসার, ব্যাটালিয়ন আনসার, বিডিআর, কোস্ট গার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আরপিওর ৮৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য একজন পুলিশ কর্মকর্তা না হয়েও নির্বাচনী  অপরাধের জন্য কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন। সে সময় আওয়ামী লীগ এ ধরনের আইন সংশোধনের বিরোধিতা করে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরও এ বিরোধিতা বহাল রাখে।

‘বিচারিক ক্ষমতা’র ভ্রম : সংশ্লিষ্টরা জানান, আরপিও সংশোধন করে সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীকে  পুলিশি ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি ভুলভাবে ‘বিচারিক ক্ষমতা’ হিসেবে প্রচার পায়। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনীব্যবস্থা সংস্কার প্রস্তাবে বলে, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞা পরিবর্তন ও তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করে এর পূর্বেকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার (বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার) আরপিওর ৮৭ ও ৮৯ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন বাতিল করতে হবে এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনকালে সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ক্ষমতা পালনের যে এখতিয়ার ছিল তা পুনর্বহাল করতে হবে। অবশ্য ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে নির্বাচনী আইন সংস্কার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা সম্পর্কে তাদের বিরোধিতা থেকে সরে আসে। এ সময় র‌্যাবকেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, আরপিওর ৮৯ অনুচ্ছেদে যে বিচারিক ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে তা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বা অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জন্য নয়। আরপিওর এ বিধান বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত প্রশাসনিক ক্যাডারের সদস্যদের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।  

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নয়, অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনগুলোতেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠন হলে ওই সংসদে আরপিওর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনগুলোর সংশোধনের সময়ও একই সংশোধনী আনা হয়। এ অবস্থায় বিভিন্ন মহলের দাবি থাকার পরও কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে আবারও অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিতে পারেনি। কমিশনের যুক্তি ছিল, সংসদই যখন এ সংজ্ঞা থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে  বাদ দিয়েছে তখন এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া যুক্তিসংগত হবে না।

সূত্র জানায়, কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কমিশন বিদ্যমান আরপিওর ৫ (১) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন বা সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা চেয়েছিল। এ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কমিশন যেকোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে এই আদেশের (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো দায়িত্ব পালন বা সহায়তা করার নির্দেশ দিতে পারবে। ’ রকিব কমিশন এই অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে ‘কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গে ‘শৃঙ্খলা বাহিনী’ যুক্ত করতে চেয়েছিল। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শৃঙ্খলা বাহিনীর অর্থ স্থল, নৌ বা বিমানবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী। এ ধরনের সংশোধন কেন প্রয়োজন তার ব্যাখ্যায় রকিব কমিশন উল্লেখ করে, ‘বাস্তবতার আলোকে এই ধরনের সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। ’ কিন্তু পরে রকিব কমিশন এ প্রস্তাব থেকে সরে আসে।

ড. এ টি এম শামসুল হুদার কমিশন মেয়াদের শেষ দিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে পুনর্বহালের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেও তাদের আরপিও সংস্কারের চূড়ান্ত প্রস্তাব থেকে বিষয়টি বাদ রাখা হয়।

কাজী রকিব কমিশনের আমলেও সংসদীয় আসনের সীমনা পুনর্বিন্যাস নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ নিয়ে একমত হতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন কমিশনকে বলেন, ‘তারা (সেনাবাহিনী) নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এলে কিভাবে তার প্রভাব পড়ে তা আমরা জানি। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীকে না রাখাই ভালো। ’ অন্যদিকে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি জাতীয় সংসদসহ সব নির্বাচনেই সেনাবাহিনীর পক্ষে মত দেয়। মহাজোটের বাইরে অন্য দলগুলো সেনা নিয়োগের পক্ষে মত দেয়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ওই সংলাপে অংশ না নিলেও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা নিয়োগের দাবি জানায়।


মন্তব্য