kalerkantho


রংপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ

বাড়িতে হামলাকালে পুলিশি বাধা, সংঘর্ষে নিহত ১

রংপুর অফিস   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাড়িতে হামলাকালে পুলিশি বাধা, সংঘর্ষে নিহত ১

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত একটি পোস্টের জের ধরে বিক্ষোভের সময় রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের শলেয়া শাহ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ জনতা ওই এলাকার ঠাকুরপাড়ার কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করেছে।

নিহত যুবকের নাম হামিদুল (২৭), বাড়ি উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উত্তেজিত জনতা ধর্ম অবমাননাকারী হিসেবে অভিযোগ তুলে স্থানীয় এক যুবকের বাড়িতে হামলা করতে গেলে

পুলিশ বাধা দেয়। ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় গুরুতর আহত হামিদুল পরে মারা যায়।

ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লার একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করেন উপজেলার পাগলাপীর ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা টিটু রায়। এই তরুণ থাকেনও ফতুল্লায়।

কয়েক দিন আগে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে ধর্ম অবমাননাকর একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে গ্রামবাসী। এ নিয়ে আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ফেসবুকে দেখা গেছে, অবমাননাকর পোস্টটি দেওয়া হয়েছে ‘এমডি টিটু’ নামের একটি আইডি থেকে। পরে অন্যরা সেটি শেয়ার করেছেন ‘টিটু রায়ের’ নামে।

স্থানীয়রা বলছে, টিটু রায় কয়েক দিন আগে তাঁর আইডি থেকে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা করে একটি পোস্ট দেন। এর প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার পাগলাপীর বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্থানীয়রা। সমাবেশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু তিন দিনেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় গতকাল জুমার নামাজের পর স্থানীয় লোকজন একজোট হয়ে পাগলাপীর বাজারে মানববন্ধন করে। সংহতি জানিয়ে আশপাশের লোকজনও কর্মসূচিতে সমবেত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ঠাকুরপাড়ায় টিটু রায়ের বাড়িতে হামলা চালানোর উদ্যোগ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় মাহাবুল, জামিল, আলিমসহ ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়াও আহত হয় অন্তত ২৫ জন। গুরুতর আহতদের মধ্যে পরে হামিদুল মারা যান। আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় চার ঘণ্টা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

রংপুর মেডিক্যালের জরুরি মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুজন বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গুলিবিদ্ধ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন) মোকতারুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মো. রফিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাঁদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়ছে।


মন্তব্য