kalerkantho


সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাল জনসভা

সাংগঠনিক শক্তি জানান দিতে চায় বিএনপি

শফিক সাফি   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সাংগঠনিক শক্তি জানান দিতে চায় বিএনপি

দীর্ঘদিন পর মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের প্রকাশ ঘটাতে চাইছে বিএনপি। আগামীকাল রবিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় দলটি লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ ঘটানোর জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভা সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন অনেকটাই সাজসাজ রব। বিশেষ করে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উত্সাহ দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ঢাকা মহানগর কার্যালয় ঠাসা নেতাকর্মীদের ভিড়ে। ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরাও এরই মধ্যে চলে এসেছে নয়াপল্টনে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঞ্চ তৈরির প্রস্তুতি চলছে। গতকাল বিকেলে ওই কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। ওই সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করতে আমরা সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করব, তারা যেন কোনো রকমের উসকানিমূলক কার্যক্রম না করে এবং আমাদের সহযোগিতা করে। আমরা সরকারের কাছ থেকে রাজনৈতিক আচরণ আশা করব। ’

বিএনপির উদ্যোগে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি সর্বশেষ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছিল বিএনপি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে সমাবেশটি করেছিল দলটি। এবারের সমাবেশ দুই বছর পর হওয়ায় এবং বছরখানেকের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় বিএনপি সমাবেশটি যেকোনো মূল্যে সফল করতে চাইছে।

সমাবেশ ঘিরে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর ওই চিঠি পাঠানো হয়। এ ছাড়া ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার নেতাদের ডেকে নয়াপল্টনে গত বুধবার যৌথ সভাও করেছে দলটি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৭ নভেম্বর উপলক্ষে আমাদের এ সমাবেশ, যেখানে সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত থেকে বর্তমান সরকারের অনাচারের প্রতিবাদ করবে। ’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্সাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সরকারের শোষণ-নিপীড়নের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ। তাই মানুষ ফুঁসে উঠেছে। তারা সমাবেশস্থলে আসতে চায়। ’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘সমাবেশকে কেন্দ্র করে এখনই সরকার আশপাশের জেলাগুলোর পরিবহন সেক্টরে বাধা সৃষ্টি করছে। সে অভিযোগ জেলার নেতারা আমাদের জানাচ্ছেন। সরকারের এসব আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিত। তাদের উচিত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া। ’

জনসভাস্থল পরিদর্শনে দলের নেতারা : গতকাল বিকেলে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেছে একটি প্রতিনিধিদল। ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান, রুহুল কবীর রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার, রফিকুল ইসলাম রাসেল, সাইফুল ইসলাম পটু, মুন্সী বজলুল বাসিত আনজু, আহসানউল্লাহ হাসান, শফিউল বারী বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ, মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

নেতারা সেখানে মাঠের কোথায় মঞ্চ হবে তার একটি সম্ভাব্য নকশা নিয়ে মঞ্চ নির্মাতার সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁরা নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। এতে সমাবেশের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কাল (বৃহস্পতিবার) আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জেনারেল সাহেব বলেছেন, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমি বলতে চাই, বিএনপি কখনো উচ্ছৃঙ্খল দল নয়, অন্তত আওয়ামী লীগের মতো। আমরা বিশৃঙ্খলা পছন্দ করি না। এই কথাটুকু বলে উনি মনে হয় উসকানিমূলক ইঙ্গিত দিলেন। ওনাদের যে মনের ভেতরে কী আছে, তা প্রকাশ করে দিলেন। ওনার কথাটা ইঙ্গিতময় মনে হলো। আমরা স্পষ্ট করতে বলতে চাই, এ জনসভায় সরকারের সহযোগিতা চাইব। ’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটবে।


মন্তব্য