kalerkantho


নাজমুল হুদার চার বছরের কারাদণ্ড

ঘুষের অভিযোগ হাইকোর্টেও প্রমাণিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নাজমুল হুদার চার বছরের কারাদণ্ড

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও তাঁর স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ হাইকোর্টেও প্রমাণিত হয়েছে। তবে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজার মেয়াদ কমিয়েছেন।

আদালত নাজমুল হুদাকে চার বছর কারাদণ্ড এবং সিগমা হুদাকে তাঁর কারাভোগের সময়কে সাজা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আদালত রায়ের কপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রায় দেন। গতকাল এ রায় ঘোষণাকালে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন নাজমুল হুদা দম্পতি। তবে নাজমুল হুদাকে আপিল করার আগে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

আকতার হোসেন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর জাহির হোসেনের কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদক নাজমুল হুদা দম্পতির বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করে। এ মামলায় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন এমপি হোস্টেলে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত নাজমুল হুদাকে সাত বছর এবং সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন।

এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই দম্পতি হাইকোর্টে আপিল করেন। এ আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২০ মার্চ এক রায়ে হাইকোর্ট তাঁদের খালাস দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করে দুদক। আপিল বিভাগ ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন এবং পুনরায় হাইকোর্টে বিচার করার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশে হাইকোর্টে পুনরায় শুনানি হয়। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা নিজেই শুনানি করেন। তবে সিগমা হুদার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

আদালত গতকাল রায় দেন। রায়ে বলা হয়, নাজমুল হুদা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে আদালত নাজমুল হুদার সাজার পরিমাণ সাত বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করেছেন। আর সিগমা হুদার সাজার পরিমাণ তিন বছর থেকে কমিয়ে দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় সিগমা হুদা যত দিন কারাগারে ছিলেন সেটাই তাঁর সাজা। দুদকের আইনজীবী জানান, সিগমা হুদা প্রায় দেড় বছর কারাগারে ছিলেন।


মন্তব্য