kalerkantho


বুয়েটের ভেতরে গণপরিবহন বন্ধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যানজট, সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বুয়েটের ভেতরে গণপরিবহন বন্ধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চানখাঁরপুল ও পলাশীকে যুক্ত করা রাস্তায় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে যাওয়া রাস্তায় গণপরিবহন বেড়ে যাওয়ায় যানজট দেখা দিচ্ছে।

তা ছাড়া ওই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৭ অক্টোবর রাতের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে উভয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংঘর্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করবে এই কমিটি।

এদিকে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের মতো ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করেছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।

গতকাল সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বুয়েটের মধ্য দিয়ে চানখাঁরপুল ও পলাশীকে যুক্ত করা রাস্তাটি বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই পথে কোনো গণপরিবহন চলতে দেওয়া হচ্ছে না। কিছু ব্যক্তিগত গাড়িকে কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতির পর চলতে দেওয়া হচ্ছে।

এতে ওই পথে দিয়ে চলাচলকারী বাস, লেগুনা ও অন্য যানবাহনগুলো বিকল্প হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তায় চলতে বাধ্য হয়। ফলে কার্জন হল, শহীদ মিনার, ফুলার রোড ও পলাশী এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পরদিন ২৮ অক্টোবর থেকে বুয়েট শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা, পলাশী ও বকশীবাজার মোড়ে ফটক নির্মাণ, ফটকে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বুয়েট-শহীদ মিনারসংলগ্ন পদচারী সেতু অপসারণ, স্টাফ কোয়ার্টারের সব মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারকে ক্যাম্পাস থেকে উচ্ছেদ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এ জন্য ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে তারা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর থেকে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, পরিদপ্তরের অধীনে প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পলাশী থেকে বকশীবাজার মোড়ে গেট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে ব্যবস্থা, চকবাজার থানায় জিডি, ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে অতিরিক্ত গার্ড ও ফুট ওভারব্রিজের প্রবেশপথ বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক কারবারে জড়িত থাকা বুয়েটের স্টাফের ছেলেকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তত্পরতা বাড়িয়েছে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক সত্যপ্রসাদ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। উপাচার্য দেশে না থাকায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। যেসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলোর বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা হয়েছে। ’ তবে তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম জানাতে চাননি সত্যপ্রসাদ মজুমদার।

এ বিষয়ে বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম সমন্বয়ক যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ প্রতীম দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ আমরা দেখিনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস ও ল্যাবে ফিরব না। ’

রাস্তা বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের সহকারী কমিশনার (লালবাগ) হারুন অর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাঁরা গণপরিবহনের জন্য ওই রাস্তা বন্ধ করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওই রাস্তা গণপরিবহনের নির্দিষ্ট রুট নয়। মূলত গণপরিবহনের রুট হলো আজিমপুর থেকে শিক্ষা বোর্ড সড়ক হয়ে চানখাঁরপুর ওঠা। কিন্তু অনেক বাস-লেগুনা ওই পথে না গিয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতরের পলাশী-চানখাঁরপুর রাস্তায় চলাচল করত। এ কারণে বুয়েটের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে এটি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এটি করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তবে সংঘর্ষের ঘটনার দিন রাত থেকেই পলাশী যেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ২ নম্বর ফটক বন্ধ রেখেছে হল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো বৈরিতা থাকুক আমরা এটা চাই না। বুয়েট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। ’

প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, জহুরুল হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক আবদুর রহিমদের নেতৃত্বে আরো দুজন আবাসিক শিক্ষককে সদস্য করে তিনি সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে আটকে রেখে মারধর করে। আটক শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও বুয়েটের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়ায়। তখন পলাশীর মার্কেটে জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি মারধরে বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।


মন্তব্য