kalerkantho


আ. লীগ ও বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত

শহীদুল হুদা অলক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



আ. লীগ ও বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। বিগত এক দশকের জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় কাছাকাছি অবস্থান আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের।

জেলার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু এ আসনে তিন দলেরই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত দেশের অন্যান্য স্থানে জোটগতভাবে অংশ নিলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে তা হয়নি। এখানে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত। সে অর্থে জামায়াত বড় দুটি দলেরই প্রতিদ্বন্দ্বী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনটি সদর উপজেলা ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এটা জাতীয় সংসদের ৪৫ নম্বর নির্বাচনী এলাকা। সদর উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা জামায়াতের কবজায় রয়েছে।

এদিকে আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপি সংগঠনকে শক্তিশালী করার কর্মসূচির নামে নির্বাচনী তত্পরতা শুরু করেছে। তবে জেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

দলটির সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদসহ অন্তত দুজন মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

জামায়াত তাদের ঘোষিত প্রার্থীকে  সামনে রেখে বহুদিন ধরে গোপনে তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অবস্থান ভোটের হিসাবে আগের চেয়ে অনেক ‘সুসংহত’ হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে অনেক। রয়েছে নতুন-পুরনো দ্বন্দ্ব। এর মধ্যেই বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদসহ দলটির অন্তত চারজন মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন বলে আলোচনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আব্দুল ওদুদ এক লাখ ১২ হাজার ৮০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশীদ ৭৬ হাজার ১৭৮ ভোট এবং জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান ৭২ হাজার ২৯২ ভোট পেয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে দীর্ঘ ৩৫ বছর আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ভালো অবস্থান করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের জন্য ‘অনুন্নত’ এলাকা হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকা হঠাৎ করেই ব্যাপক উজানে ওঠে। এরপর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদটিও দখলে আসে তাদের। আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার গত নির্বাচনে বিএনপিকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় হয় আওয়ামী লীগ। দলের মধ্যে তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান এখন ভালোই।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম সেই সঙ্গে জনগণের একটা বড় অংশ আওয়ামী লীগমুখী হওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এলেও গ্রুপিংয়ের কারণে তারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এখন জেলা সদরে ক্ষমতাসীন দলটি দুটি ধারায় বিভক্ত।

ওই সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ‘ঐকমত্যের’ ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইনুদ্দীন মণ্ডলকে সভাপতি এবং সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ‘ঐকমত্যের’ ভিত্তিতে নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ‘ঐক্য’ বেশিদিন টেকেনি। তাঁরা অবস্থান করছেন বিপরীত ধারায়।

দলীয় সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের হাত ধরে বহুল আলোচিত জামায়াত-বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগে ভিড়েছেন। তাঁরা সংসদ সদস্যের ছত্রচ্ছায়ায় সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করছেন বলে অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীদের। এ নিয়ে দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে নতুন-পুরনো দ্বন্দ্ব।

আগামী নির্বাচন ও প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ওদুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অবস্থান এখন অনেক বেশি ভালো। ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ আওয়ামী লীগমুখী হয়েছে। সংসদ সদস্য হয়ে সপ্তাহে তিন দিন এলাকায় থেকে মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণের চেষ্টা করছি। মানুষের পাশে আছি। সে কারণে আশা করছি দল আমাকেই আবারও মনোনয়ন দেবে এবং আমি নির্বাচিত হব। ’

আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে বেশ আগে থেকেই তত্পরতা শুরু করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রুহুল আমীন। এরই মধ্যে সদর আসনের প্রতিটি এলাকায় সাধারণ মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রচুর বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে করছেন গণসংযোগও।

ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক নেতা রুহুল আমীন দুইবার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। একবার জাতীয় পার্টির নেতা হিসেবে, পরেরবার আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে।

দীর্ঘ সময় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রুহুল আমীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দল ও জনগণের জন্য কাজ করার কারণে আশা করছি দল এবার আমাকে মনোনয়ন দেবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে উপজেলার প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছি। ’

আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের ত্যাগী কর্মীরা তাঁর সঙ্গে আছে দাবি করে রুহুল আমীন বলেন, ‘সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের চেয়ে জনগণের সঙ্গে আমার সম্পর্কই বেশি। ’

গত পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, ব্যবসায়ী সামিউল হক লিটনও আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ নির্বাচন করতে চান। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তিনি জানান দিয়েছেন ‘শুভেচ্ছা’ সংবলিত বিলবোর্ড দিয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বাইরে ইউনিয়ন এলাকায়ও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে লিটনের শুভেচ্ছা বিলবোর্ড। তিনি কালের কণ্ঠ’র কাছে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান বেঞ্জু আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংসদীয় এলাকায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রচার শুরু করেছেন।

বিএনপি : প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই ধারার কর্মকাণ্ড থেকে এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি। প্রয়াত সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন ও সুলতানুল ইসলাম মনি ধারায় বিভক্ত জেলা বিএনপি নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে হারুনুর রশীদ ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসে। বিএনপির মূলস্রোত হারুন-পাপিয়ামুখী হলে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে সুলতানুল ইসলাম মনি ধারা। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন জামায়াতের সংসদ সদস্য লতিফুর রহমানকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন হারুনুর রশীদ। এরপর সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে হারুন-পাপিয়ার ‘গোছানো ঘরে’ নতুন করে উত্তাপ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র থেকে জেলা কমিটি ঘোষণা করায় সৃষ্টি হয় নতুন এ উত্তাপের। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম টিপুকে সভাপতি, ২০০৮ সালের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের দলীয় প্রার্থী আমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ও শিবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র শামীম কবির হেলিমকে সাংগঠনকি সম্পাদক করে নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, নতুন এ কমিটি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ পক্ষ ‘আপত্তি’ তোলে এবং কমিটি থেকে হারুন-পাপিয়া অনুসারী ৬৮ জন নেতা পদত্যাগ করেন। রফিকুল ইসলাম টিপু হারুন-পাপিয়া গ্রুপের হয়ে কাজ করলেও নতুন কমিটির সভাপতি হয়ে গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে এসে শামিল হন হারুন-পাপিয়াবিরোধী শিবিরে। বহু বছর বিএনপির রাজনীতিতে ‘কোণঠাসা’ হয়ে থাকা অনেক নেতাই রফিকুল ইসলাম টিপুকে সামনে নিয়ে সাংগঠনিক তত্পরতা শুরু করেন। দেখা দেয় নতুন করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপিতে এ অস্থিরতার পরও সদর উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কর্মসূচির নামে দলের নেতারা নির্বাচনী তত্পরতা শুরু করেছেন। সদর আসনে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ প্রার্থী হচ্ছেন নিশ্চিত জেনেই হারুন-পাপিয়া পক্ষের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে।

হারুনুর রশীদ বলেন, ‘ভোটের পরিবেশের জন্য আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছি। নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। পরিবেশ ঠিক হলে, সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে তিনটি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। ’

জেলা বিএনপিতে কোন্দলের বিষয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘তারা (জেলা বিএনপির নেতারা) যে কার্যক্রম শুরু করেছিল তা সাংগঠনিক ছিল না। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করব না, কেন্দ্রই সিদ্ধান্ত নেবে। আর যারা শহীদ জিয়ার সৈনিক, তারা সংঘবদ্ধই রয়েছে। ’

এদিকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিল্প ও বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদও আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রয়াত বিএনপি নেতা সুলতানুল ইসলাম মনির অনুসারী ছিলেন তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপির মূল কমিটিতে বহু বছর ধরে ঠাঁই না হওয়া এই নেতা বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের মানুষ ‘তাঁদের দুই ভাইয়ের’ (আব্দুল ওদুদ ও হারুনুর রশীদ) ওপর ক্ষিপ্ত। মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে। আমি নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি। মাঠে ছিলাম, মাঠেই আছি, জনগণের সঙ্গেই আছি। কাজেই বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়ন চাইব। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। ”

জামায়াত : আশির দশকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক উত্থান ঘটে। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে দুটি আসন দখলে নেয় জামায়াত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির লতিফুর রহমান। অবশ্য ওই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সদর আসনে আবার নির্বাচিত হন জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে রয়েছে জামায়াতের একটি বিশাল ভোট ব্যাংক। তবে জামায়াতের এই ‘দুর্গে’ তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান নেই। অনেকটাই স্থবির। জামায়াতের আশীর্বাদ নিয়ে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত সোহরাব আলীসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জেলা জামায়াতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। ‘পর্দার আড়ালে’ দলটির অভ্যন্তরীণ এ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে। জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান ও আতাউর রহমানের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হয় তখন। শেষ পর্যন্ত আতাউর রহমান জামায়াতে টিকতেই পারেননি। গত পৌর নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের সহসভাপতিও (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ওই সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থী চূড়ান্তের পর থেকেই সংগঠনের নেতাকর্মীরা তত্পরতা শুরু করেছে। তবে নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তাঁরা গোপনে ব্যাপকহারে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তবে এর বেশির ভাগই করা হচ্ছে ঘরোয়া পরিবেশে।

জানা গেছে, নুরুল ইসলাম বুলবুল সম্প্রতি ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। সে কারণে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জামায়াত নেতানির্ভর সংগঠন নয়, বরং নেতাই সংগঠননির্ভর। এসব বিষয় ভোটের রাজনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না। আমরা ধৈর্য ধরে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কেন্দ্রীয় নিদের্শনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের যথাযথ সাংগঠনিক তত্পরতাও রয়েছে। ’

জাতীয় পার্টি ও জাসদ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির তেমন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চোখে না পড়লেও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সোনা আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে তত্পরতা শুরু করেছেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির জানিয়েছেন, শিগগিরই দলের প্রার্থী নির্ধারণের জন্য বৈঠক করবেন।

 


মন্তব্য