kalerkantho


রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সু চিকে ইইউ

দ্রুত ব্যবস্থা নিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



দ্রুত ব্যবস্থা নিন

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি বুধবার রাতে সু চিকে ফোন করে এই আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দুই দিনের মাথায় ইইউয়ের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপ হলো সু চির সঙ্গে।

ইইউর এক্সটার্নাল অ্যাকশন-বিষয়ক ওয়েবসাইট ইইএএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রাতে সু চিকে টেলিফোনে সহিংসতা বন্ধ, রাখাইনে ত্রাণকর্মীদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ আর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের তাগিদ দিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি। চলতি মাসের ১৬ তারিখে এই ফেডেরিকা মোগেরিনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাংসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর আমন্ত্রণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ। ওই দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত এসংক্রান্ত এক প্রস্তাবে বলা হয়, মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা তারা পুনর্মূল্যায়ন করবে। অভ্যন্তরীণ দমননীতিতে ব্যবহারযোগ্য কোনো অস্ত্র মিয়ানমারের কাছে বিক্রি না করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইউরোপীয় কাউন্সিল বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

আগামী মাসে মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় আসেম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের পাশে রোহিঙ্গা বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখবে। এ ছাড়া আসিয়ান জোটভুক্ত ১০টি দেশের মধ্যে যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদার তাদেরও এ বিষয়ে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয় প্রস্তাবে। সু চির সঙ্গে ফোনালাপেও আসিয়ান সম্মেলনের প্রসঙ্গে কথা বলেন মোগেরিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের জন্য মিয়ানমারের সেনা নেতৃত্বই দায়ী : যুক্তরাষ্ট্র

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর অভিযানের জন্য মিয়ানমারের জেনারেলরাই দায়ী। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি টিলারসন।

রয়টার্স জানায়, বুধবার ওয়াশিংটনে টিলারসন বলেন, ‘রাখাইনে যেসব সহিংসতার খবর আসছে, বিশ্ব তা দেখেও চুপ করে থাকতে পারে না। ’ রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘দারুণভাবে উদ্বিগ্ন’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যা ঘটছে সে জন্য আমরা মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বকেই দায়ী করব। ’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ জন আইনপ্রণেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে লেখা এক চিঠিতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। আর রোহিঙ্গা সংকটের জন্য যাঁরা সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী, তাঁদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

টিলারসন বলেন, ‘মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের নিয়ে যে একটি সমস্যা আছে তা ওয়াশিংটন জানে। কিন্তু সেনাবাহিনীকে অবশ্যই সুশৃঙ্খল থাকতে হবে এবং সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সংযমের পরিচয় দিতে হবে। সেই সঙ্গে আমাদের ওই এলাকায় যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে, যাতে আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পেতে পারি। ’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব অভিযোগ এসেছে, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে কাউকে না কাউকে এর দায় নিতে হবে। মিয়ানমারের ভবিষ্যেক তারা কোন পথে ঠেলে দিতে চায়, তা এখন তাদের সেনা নেতৃত্বের ওপরেই নির্ভর করছে। ’

টিলারসন বলেন, ওয়াশিংটন মিয়ানমারকে একটি উদীয়মান গণতন্ত্রের দেশ হিসেবেই দেখে। কিন্তু সেখানে সামরিক-বেসামরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির যে মিশ্র সরকার রয়েছে, তার জন্য এই রোহিঙ্গা সংকট একটি অগ্নিপরীক্ষা।

রয়টার্স লিখেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সেনা কর্তকর্তাদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ও সু চি সরকারের মধ্যে টানাপড়েন বাড়বে কি না, মিয়ানমারের অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে কি না—সে বিষয়গুলোও ভাবতে হচ্ছে।


মন্তব্য