kalerkantho


উখিয়ার কাছে নো ম্যানস ল্যান্ডে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



উখিয়ার কাছে নো ম্যানস ল্যান্ডে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা

উখিয়া সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড বরাবর অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গারা। ছবি : এএফপি

নতুন করে রোহিঙ্গার ঢল নামার এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার নাফ নদ তীর বরাবর নো ম্যানস ল্যান্ডে জড়ো হয়েছে আরো অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গা। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া নামক এলাকার নো ম্যানস ল্যান্ডে তারা জমায়েত হচ্ছিল।

সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি। তুমব্রু সীমান্তের কাছেও নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছে আরো ১২ হাজার রোহিঙ্গা। এ ছাড়া নাফের ওপারেও বাংলাদেশমুখী রয়েছে আরো কমপক্ষে অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা।

গতকাল পালংখালী ইউনিয়ন বরাবর আশ্রয় নেওয়া এই রোহিঙ্গারা রোদে পুড়েছে, ভিজতে হয়েছে একপশলা বৃষ্টিতেও।

সোমবার রাতের দিকে ২০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বালুখালী, কুতুপালংসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়।

গতকাল সকাল থেকেও নাফ নদ পাড়ি দিয়ে রোহিঙ্গার দল অনুপ্রবেশ করতে শুরু করে। তবে বিজিবি সদস্যরা তাদের ঢুকতে বাধা দেন। কক্সবাজারের বিজিবি-৩৪ ব্যাটালিয়নের একজন কর্মকর্তা আঞ্জুমান পারা সীমান্তে সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘আমাদের ছোট এলাকায় এ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার স্থান সংকুলান আর হচ্ছে না। সেই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের।

এসব কারণে আমরা যত্রতত্র আর কাউকে ঢুকতে দিতে পারছি না। ’

তবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে ঢাকা থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, মঙ্গলবার এই রোহিঙ্গারা আটকা পড়ে নাফ নদের ওপারে। মূলত নৌযানের অভাবেই তারা আসতে পারছে না।

নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ (৫৫) জানান, টানা আট দিন বুচিদং মগনাপাড়ার ঘর থেকে বের হয়ে গতকালই সীমান্তে এসে পৌঁছেছেন। তাঁর পরিবারের ৯ সদস্য নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে।   তিনি বলেন, ‘আসতে চাই নাই। একপ্রকার মনের বিরুদ্ধেই ঘর থেকে বের হয়েছি। কেননা মিয়ানমারের সেনারা এখন সেখানে কৃত্রিমভাবে খাদ্য সংকটের সৃষ্টি করেছে। খাদ্যের অভাবে আমরা একপ্রকার কাহিল হয়ে পড়েছি। তাই আসতে বাধ্য হয়েছি। ’

রাখাইনের বুচিদং ওয়াসিলাপাড়ার বাসিন্দা আবু সৈয়দ (৩৫) আট সদস্য নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করেই এত দূর এসেছি। মিয়ানমারের বাহিনী আমাদের একটি কার্ড ধরিয়ে দিচ্ছিল। ওই কার্ডে জোরপূর্বক তারা লিখিয়ে নিতে চাচ্ছিল আমরা বাংলাদেশি। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি কোনোকালেই ছিলাম না এবং এখনো নই। তাই ফরম পূরণ করিনি। আর ফরম পূরণ করিনি যখন তাই আমাদের সেখানে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। ’

রাখাইনের ভুচিদং পতানংপাড়ার মোহাম্মদ জাকির (৪৮) নামের অন্য একজন রোহিঙ্গা বলেন, ‘মিয়ানমার বাহিনী সেখানে ঘর-দুয়ার জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং রোহিঙ্গাদের মারধর করছে। তাই আমরা চলে এসেছি। ’


মন্তব্য