kalerkantho


সাঁকো থেকে খালে পড়ে যাওয়া শিশু ২৪ ঘণ্টা পরও উদ্ধার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



সাঁকো থেকে খালে পড়ে যাওয়া শিশু ২৪ ঘণ্টা পরও উদ্ধার হয়নি

ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি এলাকাবাসীর চেষ্টায়ও ত্রুটি ছিল না। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর মুগদা এলাকায় খালে পড়ে যাওয়া শিশু হৃদয়ের খোঁজ মেলেনি। ছবি : কালের কণ্ঠ

এক দিন পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর মুগদা এলাকায় খালে পড়ে যাওয়া তিন বছরের শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশু হৃদয় সাঁকো থেকে নিচের খালে পড়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধারে চেষ্টা চালান।

গতকাল সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত শিশুটির কোনো খোঁজ মেলেনি।

চব্বিশ ঘণ্টা পরও শিশু হৃদয়ের হদিস না মেলায় মা-বাবাসহ পরিবারের লোকজন খালের পাড়ে আহাজারি করছে। শত শত মানুষ অপেক্ষা করছে শিশুটির জন্য।

ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও র‌্যাব শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য  এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন এরই মধ্যে খালে জনবল নিয়োগ করে ময়লা কেটে পরিষ্কার করেছে। তবে গতকাল রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত শিশুটি উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মোহাম্মদ আলী।

গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মুগদার মদিনাবাগ লাগোয়া খালের ওপর দিয়ে যাওয়া বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছিল শিশু হৃদয়। ওই সময় সাঁকো থেকে নিচে খালের নর্দমায় পড়ে যায় শিশুটি।

নিচে পড়ার পরপরই হৃদয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হয়। স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করার আগেই ময়লার নিচে পানিতে তলিয়ে যায়। এর পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধারে চেষ্টা চালান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মুগদা থানাধীন উত্তর মাণ্ডার সুখনগর এলাকায় একটি টিনশেড বাড়িতে দিনমজুর কামাল তাঁর পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তাঁদের সন্তান হূদয়। তাঁদের বাসার সঙ্গেই খাল। বাসা থেকে বেরিয়ে অন্য এলাকায় যেতে হলে সাঁকো পেরিয়ে যেতে হয়। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হূদয় ও আরেক শিশু সাঁকো পেরোতে যায়। হঠাৎ হূদয় ভারসাম্য হারিয়ে খালের পানিতে পড়ে যায়। পরে হূদয়ের পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে খালটির ওপর একটি ছোট সেতুর আবেদন জানিয়ে আসছে প্রশাসনের কাছে। সেতুটি হলে হয়তো শিশুটির এই পরিণতি হতো না। তাই আর কোনো শিশু যেন এভাবে নিখোঁজ না হয় সে জন্য প্রশাসনের উচিত এই খালের ওপর দ্রুত একটি সেতু তৈরি করা।  

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মোহাম্মদ আলী গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের পাঁচজন ডুবুরি শিশুটিকে উদ্ধারে নিরলসভাবে চেষ্টা করছেন। পুলিশ, র‌্যাব ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তাদের সহযোগিতা করছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর অভিযান শেষ করা হবে।

মুগদা থানার ওসি এনামুল হক বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু খালের পানির ওপর ময়লা আর তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

 


মন্তব্য