kalerkantho

সড়ক আর সড়ক নেই

হায়দার আলী   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



সড়ক আর সড়ক নেই

মিরপুরের রূপনগর এলাকার অলিগলির অবস্থা এখন এমনই। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

বুধবার দুপুর ১২টা। মিরপুরের বেগম রোকেয়া সরণি। বনফুল নামের একটি রেস্তোরাঁর সামনের সড়কটির মাঝখানে বিশাল এক গর্ত খোড়া। চারপাশে আবার ফিতার বেষ্টনী। ওই গর্তের কারণে যানবাহনগুলো ঠিকঠাক চলতে পারছে না।

গর্তটি দেখিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল হোসেন বললেন, ‘মেট্রো রেলের কাজ তো আছেই! এর জন্য আমাদের যতটা না ভোগান্তি হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে সড়ক মেরামত না করার কারণে। বৃষ্টির কারণে সড়কের চামড়া আর সড়কে নাই। গাড়ির চাকার সাথে মিশে গেছে। ’

পল্লবীর অংশের সড়কের বেশির ভাগেরই বেহাল। আর বেহাল দশার কারণ কেবল সড়ক মেরামতের দীর্ঘ কর্মযজ্ঞই নয়, গ্যাস নেওয়ার জন্য সিএনজি স্টেশনকে কেন্দ্র করে গাড়ির লাইনও যানজটের অন্যতম এক কারণ। নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে ময়লার ভাগাড়ও।

সড়কের এই বেহাল নিয়ে কথা হয় রূপনগরের বাসিন্দা এনামুল হোসেনের সঙ্গে, যাঁকে ব্যবসায়িক কাজে প্রতিদিনিই উত্তরা যেতে হয়। এনামুল বলেন, ‘এ রাস্তার কারণে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এরপর আবার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুটি সিএনজি স্টেশন। গ্যাস নিতে গাড়ির লাইন রাস্তায় ঠেকছে। এতে প্রচণ্ড যানজটের শিকার হচ্ছি আমরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কারা! তাদের দায়িত্ব কী! তাদের কোনো দেখাই নেই!’

মিরপুর মনিপুর এলাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ রকম একটা ব্যস্ত সড়কের অর্ধেকজুড়ে ময়লা ফেলার ভাগাড় বানানো হয়েছে। ময়লার কারণে গাড়ি ঠিকমতো চলতে পারে না। ’

গুলশান, উত্তরা, বনানী, বাড্ডাসহ রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য মিরপুর সিরামিক রোড কালশি ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে র‌্যাডিসন হোটেলের সামনে গিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে গিয়ে ঠেকেছে। সিরামিক সড়ক ও ক্যান্টনমেন্ট যাওয়ার আগের তিন রাস্তার মোড়। রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কটির কয়েক গজ দূরে দূরে বড় বড় গর্ত। মিরপুরের অন্যান্য রাস্তায় দ্রুত গাড়ি চললেও সেখানে গিয়ে ‘কচ্ছপগতি’। এ কারণে প্রতিনিয়তই দেখা যায় দীর্ঘ যানজট।

মিরপুর ১২ নম্বর ডি-ব্লকের বেশির ভাগ সড়কই ভাঙাচোরা। স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুর রহমান বললেন, ‘মহল্লার রাস্তা আর রাস্তা নেই। নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হয়। নইলে পড়ে যেতে হবে। ’

২০ নম্বর রোডের বাসিন্দা আলী আজগর বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা আমাদের কষ্টের খোঁজ নেয় না। এমন ভাঙাচোরা রাস্তায় মানুষ চলতে পারে না। ’

১২ নম্বর রোডের বাসিন্দা আজাহার হোসেন বলেন, ‘ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। ঠিকমতো ময়লাও নেয় না পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। আর ভাঙা রাস্তাই কেবল সমস্যা নয়; পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মিরপুর ১২ নম্বরের সড়কের মতো মিরপুরের রূপনগরের কমার্স কলেজ রোড, মিল্ক ভিটা রোডের অনেক জায়গায় পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। মিরপুর কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন, রেজাউল আলম, কবির হোসেন জানান, কলেজের সামনের সড়কটি সাত থেকে আট মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় আছে, মেরামত হয় না।

ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ হোসেন বলেন, ‘এ বছর বেশি বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তার ক্ষতি একটু বেশি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, যতটা সম্ভব মানুষের ভোগান্তি দূর করার। এ ছাড়া মেট্রো রেলের প্রকল্পের কারণে কার্পেটিংয়ের কাজ এখনো হচ্ছে না। ’

মিরপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. রজ্জব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিরপুর রোকেয়া সরণির শেষ মাথায় পল্লবীর অংশটি মেরামতের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিএনসিসির প্রকৌশলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। যতটা দ্রুত সম্ভব মানুষের ভোগান্তি দূর করার চেষ্টা করছি। ’

 


মন্তব্য