kalerkantho


ঢাকায় ওএমএসের ‘ট্রাক সেল’ ১০৯ থেকে ২৩

কোনো ঘোষণা ছাড়াই চাল বিক্রিতে রাশ টানায় নিম্নবিত্তরা হতাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকায় ওএমএসের ‘ট্রাক সেল’ ১০৯ থেকে ২৩

ফাইল ছবি

চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে শুরু হওয়া খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল-আটা বিক্রি কর্মসূচি এক সপ্তাহেই আবার ছোট করে ফেলা হয়েছে। ফলে আতপ চাল এবং বেশি দাম সত্ত্বেও নিম্নবিত্তের যেসব মানুষ এর ক্রেতা ছিল, তারাও হতাশ হয়েছে।

ঢাকা রেশনিং প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওএমএস চালুর প্রথম দিন ঢাকার ১০৯টি স্পটে চাল-আটা বিক্রি শুরু হয়েছিল। অথচ গতকাল রবিবার ঢাকার ২৩টি স্পটে ট্রাক সেলের ডিলাররা চাল-আটা বিক্রি করেন।

ওএমএসে চাল-আটা বিক্রি কর্মসূচি ছোট করে ফেলার ঘোষণা অনেক ক্রেতাই জানত না। তাই গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি ‘ট্রাক সেল’ স্পটে ট্রাকের দেখা না পেয়ে হতাশ হয়েছে অনেক ক্রেতা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ট্রাকের অপেক্ষায় থেকে তারা খালি হাতে ফিরে যায়।  

চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহ থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে শুরু হয় খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রি কর্মসূচি। এবার চালের দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা করা হলেও সিদ্ধ চালের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে আতপ চাল। দেশের বেশির ভাগ মানুষ আতপ চালের ভাত খেতে অভ্যস্ত না হওয়ায় ন্যায্য মূল্যের এই চাল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অনেক ক্রেতাই। এর পরও গার্মেন্টকর্মী, রিকশা-ভ্যানচালক, ফুটপাতের চা ও পিঠা বিক্রেতাদের অনেকে বাধ্য হয়ে আতপ চালই কিনছিল বিভিন্ন স্পট থেকে।

গতকাল ঢাকার আরামবাগ, তেজগাঁওয়ের বিটাকসংলগ্ন ও কুনিপাড়া স্পটে কোনো ট্রাক সেল দেখা যায়নি। বিজয় সরণি, মতিঝিল, দিলকুশাসহ আগে যেসব স্পটে ট্রাক সেল হতো এমন কয়েকটি স্পটেও কোনো ট্রাক দেখা যায়নি।

বিটাকসংলগ্ন স্পটে ট্রাক না থাকায় চাল কিনতে এসে ফিরে যাওয়ার সময় রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৯টার পর থেকে কিছুক্ষণ পরপরই আসতাসি। আইজকা তো কোনো ট্রাক আইলো না। চাইল কি আর দিব না? কেউ তো কিছু কইতে পারতাছে না। খ্যাপ ফালাইয়া কয়বার আহন যায়?’

রফিকুলের মতো নাম না জানা আরো কয়েকজন ক্রেতা তখন বাজারের থলে হাতে দাঁড়িয়ে ছিল ওই স্পটে।

আরামবাগে রাস্তার ওপর ট্রাক থামিয়ে বিক্রি করা হতো চাল-আটা। গতকাল ওই স্পটটিও ছিল ফাঁকা। তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া স্পটটিও ফাঁকা ছিল।

গতকাল যেসব স্পটে চাল-আটা পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো ধলপুর বাজার, জুরাইন বাজার, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, কাজলা ভাঙ্গা প্রেস ডিএমআরসি কলেজসংলগ্ন এলাকা, কুতুবখালী, আইজি গেট, দয়াগঞ্জের জেলেপাড়া, কাঠের পুল, শ্যামবাজারের লালকুঠি, সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার, ধূপখোলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, গোসাইবাড়ী, ধোলাইখাল, কাপ্তান বাজার, আজিমপুর কাঁচাবাজার, আনসার ক্যাম্প বাসস্ট্যান্ড, সোয়ারীঘাট মাছবাজার, ইসলামবাগ পানির পাম্প, মাণ্ডা ইথিক্যাল গার্মেন্টসংলগ্ন এলাকা, খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া ত্রিমোহনী, কচুক্ষেত বাজার স্বাধীনতা চত্বর, মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এবং দক্ষিণ কাফরুলের গির্জা স্পট।

কর্মসূচি কাটছাঁট করে ঢাকা রেশনিং প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে গত বৃহস্পতিবার ওই ২৩টি স্পটে চাল-আটা বিক্রির ডিলার এবং তদারককারীদের নামসহ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।


মন্তব্য