kalerkantho


অভিযানের মুখে ব্যবসায়ীদের আশ্বাস

চালের দাম আরো কমবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চালের দাম আরো কমবে

প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি ও অভিযানের পর বেশ কিছু জেলায় চালের দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন ধরনের চাল কেজিপ্রতি এক থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

গত সোমবার থেকে চালের দাম কমা একই রকম রয়েছে।

তবে ১৫ দিনের মধ্যেই চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ক্রেতারা বলছে, হুট করে চালের দাম যেভাবে বেড়েছে সে তুলনায় কমছে না। তবে বেশির ভাগ স্থানে চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে গাজীপুর সদর ও কালীগঞ্জের সাত চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ক্রয় রসিদ ও রেজিস্টার খাতা দেখাতে না পারা, মূল্যতালিকা না টানানো ও মজুদ করার অপরাধে তাদের জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কুষ্টিয়ায় গতকাল থেকে খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। কুষ্টিয়া বড় বাজার ও পৌর বাজারে গিয়ে দেখা যায় মিনিকেট চাল ৫৯ টাকা, বাসমতী চাল ৬৯ থেকে ৭০ টাকা, আটাশ ও কাজললতা ৫৩-৫৪ টাকা এবং স্বর্ণা মোটা চাল ৪১-৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন গত তিন দিনে সব ধরনের চাল মিলগেটে কেজিতে দুই টাকা কমেছে।

ময়মনসিংহের আড়তে চালের দাম গত দু-তিন দিনের ব্যবধানে পাঁচ টাকার মতো কমেছে। শহরের অন্যতম চালের বাজার মেছুয়ায় খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। তবে শহরের অন্য বাজারগুলোতে এখনো চালের দাম কমার কোনো লক্ষণ চোখে পড়েনি।

শহরের মেছুয়া বাজারে চালের আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ক্রেতারা সাধারণত বিআর ২৮/২৯ জাতের চালই কেনে। এ চালের দর তিন দিন আগে ছিল ৫২ থেকে ৫৭ টাকা কেজি। সর্বশেষ এ চালের দাম প্রায় পাঁচ টাকার মতো কমেছে। এখন তা ৫০-৫৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

বগুড়ায় চালের বাজার নিম্নমুখী হয়েছে। গতকাল খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি এক থেকে দুই টাকা করে দাম কমেছে। বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল মানভেদে ৫১ থেকে ৫২ টাকা বিক্রি হয়, যা আগে ছিল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা। সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। ১৫ দিনের মধ্যেই চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

কালাই ও ক্ষেতলালের পাঁচশিরা ও ইটাখোলা বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা কেজিতে। আর কাটারিভোগ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া জিরাশাইল ৫৫ টাকা, আঠাইশ ৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে মোটা ও চিকন সব জাতের চালের দাম আগের তুলনায় পাঁচ থেকে সাত টাকা কমে গেছে।

নওগাঁয় চালের খুচরা বাজারে দাম কমার প্রভাব পড়েছে। বুধবার সকাল থেকে প্রকারভেদে বিভিন্ন চালের দাম কেজিপ্রতি এক থেকে তিন টাকা কমেছে। কিন্তু গতকাল ওই দামই স্থায়ী ছিল। জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চোকদার বলেন, বর্তমানে পাইকারি বাজারে চালের ক্রেতা নেই। পাইকারি ক্রেতারা মনে করছে দাম আরো কমে যাবে। ফলে তারা শঙ্কিত হয়ে চাল কিনছে না।

কিশোরগঞ্জে গত সপ্তাহের তুলনায় চালের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা কমেছে। তবে বাজারগুলোতে মোটা চালের সংকট রয়েছে। কিন্তু এ দামে চাল কিনতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষ। বাজারে চাল ব্যবসায়ীদের কউ বলছে দাম কমেছে, কেউ আবার বলছে চালের দাম আরো বেড়েছে। ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

শেরপুরে চালের দাম পাইকারি বাজারে মণপ্রতি আরো ৫০-৬০ টাকা করে কমেছে। তিন দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে চালের দাম মণপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা কমেছে। গতকাল বিকেলে শহরের চাল বিক্রির পাইকারি আড়ত বটতলা এলাকায় আড়তদাররা জানায়, পাইকারি বাজারে এখন ক্রেতার অভাব। চাল বিক্রি হচ্ছে না, পাইকাররা আসছে না। দু-তিন দিনের মধ্যে চালের দাম আরো কমবে বলে তারা ধারণা করছে।

অভিযান জরিমানা গ্রেপ্তার : গাজীপুর সদর ও কালীগঞ্জের সাত চাল ব্যবসায়ীকে বৃহস্পতিবার জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ক্রয় রসিদ ও রেজিস্ট্রার খাতা প্রদর্শন করতে না পারা, মূল্য তালিকা না টানানো এবং মজুদ করার অপরাধে তাদের জরিমানা করা হয়।

অধিক চাল মজুদ করার অপরাধে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারের দুই চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কালীগঞ্জ বাজারের গৌরাঙ্গ ভাণ্ডারের মালিক বাদল চন্দ্র দাসকে ৩০ হাজার ও  জামান স্টোরের মালিক মো. জামান মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

(আমাদের আঞ্চলিক অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। )

 


মন্তব্য