kalerkantho


আগামী সপ্তাহেই ফোরজি লাইসেন্স নিলামের সূচি

চলতি বছরেই চালুর প্রত্যাশা

কাজী হাফিজ   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আগামী সপ্তাহেই ফোরজি লাইসেন্স নিলামের সূচি

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর অবশেষে বহুল প্রত্যাশিত ফোরজি/এলটিই মোবাইল ফোন সেবার নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। এই নীতিমালার আলোকে দ্রুত এর লাইসেন্স নিলামের পর চলতি বছরেই এ সেবা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকায় তিনটি পৃথক ব্যান্ডের ৪৬ দশমিক ৪ মোগাহার্জ স্পেকট্রাম বা তরঙ্গও নিলাম হতে যাচ্ছে। সাধারণত টুজি ও থ্রিজি মোবাইল সেবায় ব্যবহৃত এসব তরঙ্গ প্রযুক্তিনিরপেক্ষতার মাধ্যমে ফোরজি/এলটিই সেবায় ব্যবহার করা যাবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ফোরজি/এলটিই লাইসেন্স নিলামের সময়সূচি নির্ধারণ হতে পারে।

চূড়ান্ত নীতিমালা অনুসারে ফোরজি/এলটিই লাইসেন্স পেতে হলে মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তিনিরপেক্ষ তরঙ্গ থাকতে হবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার ফোরজি/এলটিই লাইসেন্সের নীতিমালা অনুমোদন করেন। পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অনুমোদন দেশে ফোরজি/এলটিই সেবা চালুর প্রক্রিয়ায় অন্যতম অগ্রগতি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাভের পর তা বিটিআরসিকে পাঠিয়ে দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমরা আশা করছি, দু-এক মাসের মধ্যেই বিটিআরসি ফোরজি/এলটিই লাইসেন্স নিলামের আয়োজন করতে সক্ষম হবে।

এই লাইসেন্সের সঙ্গে প্রযুক্তিনিরপেক্ষ তিনটি পৃথক ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলাম হবে। ’ তিনি বলেন, ‘চলতি বছরেই দেশে ফোরজি/এলটিই মোবাইল ফোন সেবা চালু হবে বলে আমরা আশা করছি। অপারেটররাও প্রস্তুত রয়েছে বলে জেনেছি।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ গতকাল বুধবার বলেন, ‘কবে নাগাদ ফোরজি/এলটিই লাইসেন্সের নিলাম সম্পন্ন হকে তা এখনো নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে। এর সাথে অর্থ মন্ত্রণালয়েরও সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এর সময়সূচি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। নিলামের তারিখটি ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই নির্ধারণ হতে পারে। ’

চূড়ান্ত নীতিমালায় এই লাইসেন্সের জন্য আবেদন ফি পাঁচ লাখ টাকা, লাইসেন্স অ্যাকুইজিশন ফি ১০ কোটি টাকা, প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন ফি পাঁচ কোটি টাকা, রাজস্ব ভাগ মোট রাজস্ব আয়ের ৫.৫ শতাংশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ১ শতাংশ এবং ব্যাংক গ্যারান্টি ১৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন ও লাইসেন্স ফির সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাটও যুক্ত হবে। এর আগে খসড়া নীতিমালায় লাইসেন্স অ্যাকুইজিশন ফি ছিল ১৫ কোটি টাকা এবং লাইসেন্স নবায়ন ফি ছিল সাত কোটি টাকা।

একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের আগে বরাদ্দ দেওয়া স্পেকট্রাম ফোরজি/এলটিইতে ব্যবহারযোগ্যভাবে প্রযুক্তিনিরপেক্ষ করার কনভারসেশন ফিও খসড়া নীতিমালার তুলনায় কমানো হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় এই ফি ছিল মেগাহার্জপ্রতি এক কোটি ডলার। চূড়ান্ত নীতিমালায় তা ৭৫ লাখ ডলার করা হয়েছে। নিলামের মাধ্যমে নতুনভাবে নেওয়া স্পেকট্রামের ক্ষেত্রে খসড়া নীতিমালার ভিত্তিমূল্যেও আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, তিন পৃথক ব্যান্ডের তরঙ্গের মধ্যে ই-জিএম বা ৯০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গের পরিমাণ ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্জ। মোবাইল অপারেটর রবি ও এয়ারটেল একীভূত হওয়ার পর এই তরঙ্গ সমর্পণ করে। নীতিমালায় নিলামে এর ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে প্রতি মেগাহার্জ ৩০ মিলিয়ন ডলার। ১৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গের পরিমাণ ৩৩ মেগাহার্জ। ওয়ার্ল্ডটেলকে বরাদ্দ দেওয়া এই ব্যান্ডের ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ বাতিল করায় নিলামযোগ্য এই তরঙ্গের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ মেগাহার্জ। উন্নত ইকোসিস্টেম ও প্রযুক্তিনিরপেক্ষতার মাধ্যমে এর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব বলে এর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মেগাহার্জপ্রতি ৩০ মিলিয়ন ডলার। খসড়া নীতিমালায় এটি ছিল ৩৫ মিলিয়ন ডলার। আর থ্রিজিতে ব্যবহৃত ২১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের মোট ২৫ মেগাহার্জ তরঙ্গ নিলাম হবে। এর আগে এই ব্যান্ডের ১৫ মেগাহার্জ তরঙ্গ অবিক্রীত ছিল এবং ১০ মেগাহার্জ প্রতিবন্ধকতা সমাধানের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকায় সংরক্ষিত ওই ১০ মেগাহার্জ তরঙ্গও নিলামের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই তরঙ্গের নিলামে ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২৭ মিলিয়ন ডলার।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল প্রযুক্তিনিরপেক্ষতা ছাড়াই টুজির ১৮০০ ও থ্রিজির ২১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলাম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। ওই সময় নিলামে প্রযুক্তিনিরপেক্ষতা ছাড়াই ২১০০ ব্যান্ডের জন্য প্রতি মেগাহার্জের ভিত্তিমূল্য ২০ মিলয়ন ডলার এবং ১৮০০ ব্যান্ডের জন্য ৩০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দেশের চার শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরের প্রধান অংশীদারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই নিলামের জন্য বিনিয়োগ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে বিটিআরসি সূত্র জানায়, স্পেকট্রাম নিলামে তিনটি ব্র্যান্ডের জন্যই আবেদন ফি পাঁচ লাখ টাকা ও বিড আর্নেস্ট মানি ১৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


মন্তব্য