kalerkantho


হাজিরা মিনায় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হজের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



হাজিরা মিনায় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হজের

পবিত্র হজ পালনের জন্য মক্কায় সমবেত হওয়া বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান গতকাল মঙ্গলবার মিনায় পৌঁছেছেন। মক্কার মসজিদুল হারাম (কাবা শরিফ) থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মিনা।

মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। হজের অংশ হিসেবে হাজিরা পাঁচ দিন মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা, মক্কা ও মিনায় অবস্থান করবেন।

স্থানীয় সময় গতকাল সন্ধ্যার পর হজযাত্রীরা নিজ নিজ মুয়াল্লিম কার্যালয় কিংবা মসজিদুল হারাম থেকে হজের ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশে রওনা হন। কেউ কেউ হেঁটে, কেউ কেউ বাসে আবার কেউ কেউ গাড়িতে করে মিনায় পৌঁছেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে হজের নিয়তে তাঁদের মুখে ছিল তালবিয়া ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ানিনমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাকা। ’

হজ পালনকারীদের জন্য মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। সেখানে তাঁদের রাত কাটানোর জন্য আলাদা তাঁবু রয়েছে। মিনায় ৮ জিলহজ সারা দিন (বাংলাদেশে আজ বুধবার) এবং ৯ জিলহজ (বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার) ফজরের নামাজ পর্যন্ত অবস্থান করবেন হাজিরা। তাঁরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করবেন।

আগামীকাল ফজরের নামাজ আদায় করে তাঁরা প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে পৌঁছে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এরপর প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাত যাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরে আসবেন হাজিরা।

মিনায় এসে বড় শয়তানকে পাথর মারা, দমে শোকর বা কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সাঈ করবেন। তাওয়াফ ও সাঈ শেষে আবার মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করবেন। সেখানে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তাঁরা। প্রত্যেক শয়তানকে সাতটি করে পাথর মারতে হয়। মসজিদে খায়েফের দিক থেকে মক্কার দিকে আসার সময় প্রথমে জামারায় সগির বা ছোট শয়তান, তারপর জামারায় ওস্তা বা মেজো শয়তান, এরপর জামারায় আকাবা বা বড় শয়তান। তিন শয়তানকে তাকবিরসহ পাথর নিক্ষেপ করা হজের অপরিহার্য অংশ। শয়তানের প্রতি ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই পাথর নিক্ষেপ করা হয়।

মক্কা থেকে আরাফাতের ময়দানের দিকে যাওয়ার মহাসড়কের পাশে মিনার অবস্থান। এর আয়তন প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার। সেখানে হাজিদের জন্য প্রায় এক লাখ অস্থায়ী তাঁবু রয়েছে। এ জন্য মিনাকে বলা হয় তাঁবুর শহর। হাজিদের অবস্থান, কোরবানি ও শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য এই কয়দিন মিনায় খুব ভিড় থাকে। এই এলাকায়ই বাদশাহর বাড়ি, রাজকীয় অতিথি ভবন, মসজিদ, হাসপাতাল ও বিভিন্ন অফিস রয়েছে।

মিনায় হজযাত্রীদের সহায়তার জন্য ২৪/৬২ নম্বর তাঁবুতে পাঁচ দিন বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হবে। তাঁবু দেখতে একই রকম হওয়ায় অনেকে নিজের তাঁবুতে যাওয়ার পথ হারিয়ে ফেলেন। তাঁদের সহায়তার জন্য সেখানে পর্যাপ্ত স্কাউট ও হজগাইড আছে। বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও হজযাত্রীদের সহায়ক মিনার তাঁবুর নম্বর-সংবলিত মানচিত্র বিতরণ করা হচ্ছে।

হজে যাওয়া মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সৌদি আরবে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দুই বছর আগে মিনায় পদদলিত হয়ে বহু হাজির মৃত্যুর যে ঘটনা ঘটেছিল, তার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যাপারেও সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ফ্লাইট গত সোমবার শেষ হয়েছে। হজযাত্রা নিয়ে নানা জটিলতার পরও শেষ পর্যন্ত প্রায় সব হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছতে পেরেছেন। তবে ভিসা, বিমানের টিকিট ও অন্যান্য জটিলতায় ৩৬৭ জন হজে যেতে পারেননি। এবার এক লাখ ২৭ হাজার ৫৯৬ জন বাংলাদেশি হজে যাওয়ার ভিসা পেয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে এক লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন সৌদি গেছেন। সৌদি আরবের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এ বছর বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ২০ লাখের মতো মুসল্লি পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।


মন্তব্য