kalerkantho


গণমাধ্যমের সঙ্গে ইসির সংলাপ

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান

সেনা নিয়োগ ও না ভোট প্রশ্নে সবাই একমত নন

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়সভা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক ক্ষমতা কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে চাইবে, সেইভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

ভোটারদের আস্থা অর্জনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য এখন থেকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। তাঁরা বলেন, বর্তমান কমিশন এখন মাত্র টেস্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জনে তাদের আরো অনেক পথ যেতে হবে।

নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রশ্নে তাঁরা অবশ্য তিন ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। চারজন সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। পক্ষে বলেছেন ছয়জন। নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে সেনা মোতায়েন করা যেতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন পাঁচজন। আর আটজন এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি।

‘না’ ভোটের পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত এসেছে। আগামী নির্বাচন কিভাবে করা হবে সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসা জরুরি বলেও মত দিয়েছেন তাঁরা।

গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ে ‘নির্বাচন ভবনে’ সংলাপে প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা  এসব প্রস্তাব ও মতামত দেন।

সংলাপে ঋণখেলাপি ও খারাপ লোকরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে বিষয়ে ইসিকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া জামায়াত বা স্বাধীনতাবিরোধী কোনো দল ইসিতে যাতে নিবন্ধন না পায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। নির্বাচনের আগে-পরে নারী, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণে বড় পরিবর্তন না আনা, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ১৯৯৪ সালের মাগুরার মতো নির্বাচনের আয়োজন না করা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে সাবধানতা অবলম্বনের কথা বলেন সাংবাদিকরা। এ ছাড়া যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনী ব্যয়সীমা নিয়ন্ত্রণ এবং আইন ও আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগ, অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধ, প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার বন্ধ, প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা, নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ ও প্রচারের উদ্যোগ, নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে মিডিয়ার ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে চারজন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে তা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংলাপে ৩৮ জন সিনিয়র সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২৬ জন অংশ নিলেও বাকি ১২ জনের কেউ বিদেশে, কেউ অসুস্থ ও অন্যান্য কারণে আসেননি। তাঁরা হলেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, আমাদের সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার, দিনকালের সম্পাদক ড. রিজওয়ান সিদ্দিকী, সকালের খবরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কমলেশ রায়, আফসান চৌধুরী, পীর হাবিবুর রহমান, কলামিস্ট আবেদ খান।

আর যে ২৬ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর, ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের যুগ্ম সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিষ সৈকত, সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, বিএফইউজের আরেক অংশের মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মাহফুজ উল্লাহ, কাজী সিরাজ, প্রথম আলোর উপসম্পাদক আনিসুল হক, আমানুল্লাহ কবির, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তুজা, কলাম লেখক বিভু রঞ্জন সরকার, যুগান্তরের মাহবুব কামাল, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, দৈনিক মানবকণ্ঠের সাবেক সম্পাদক আনিস আলমগীর, যায়যায়দিনের সম্পাদক কাজী রুকুনউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ। আজ ইলেকট্রনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রশংসা করেন। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসের ওপর জোর দেন তিনি।

সংলাপ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের নঈম নিজাম বলেন, মানুষ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচনে কালো টাকা বন্ধ ও সন্ত্রাসী, মাস্তান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভারতের নির্বাচন কমিশনের তুলনায় আমাদের কমিশন সাংবিধানিকভাবে কম শক্তিশালী নয়। মেরুদণ্ড সোজা করে দেখানোর দরকার নেই। কমিশনকে রিয়েল রোল প্লে করতে হবে। ’

যুগান্তরের মাহবুব কামাল সংলাপে বলেন, সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। এটা গণতন্ত্র ও রাজনীতিকদের জন্য লজ্জার। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করার ওপর জোর দিতে হবে।

কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, “আমাদের সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ঠ ক্ষমতা দিয়েছে। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য। একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে ১২৬ অনুচ্ছেদের এই ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে ইসিকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই সব দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা স্পষ্ট হলে কমিশন জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আমাদের তুলনায় ক্ষমতা কম থাকার পরেও ভারতের নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে দক্ষতা দেখাতে পারলে আমরা কেন পারব না?  আমাদের দেশেও তো অনেক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ” তিনি আরো বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে কী ধরনের বাধা আসে, তা নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ভালো জানেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করেছে বলে আমরা জেনেছি। এখন সেসব মতামত বা সুপারিশ কমিশনের এখতিয়ারবহির্ভূত বলে উপেক্ষা না করে বিবেচনায় নিতে হবে। ’ তিনি ‘না’ ভোটের বিধান চালু, ভোট পুনর্গণনার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা এবং জোটভুক্ত হলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার পক্ষে মত দেন। এ ছাড়া নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

যুগান্তরের সাইফুল আলম লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, সেনাবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করে মোতায়েন করতে বলেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ ইসিকে নিতে হবে। তিনি বলেন, সংসদীয় আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অখণ্ডতা বজায় রাখা দরকার। যাতে একটি উপজেলায় দুজন এমপির সংসদীয় এলাকা না থাকে।

বিভু রঞ্জন সরকার বলেন, মেরুদণ্ডহীন ইসি চাই না, সবাইকে সমানভাবে দেখতে হবে। সেনাবাহিনী সম্পর্কে কোনো মতামত দেননি তিনি।

গোলাম মোর্তুজা নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি, অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ, মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধ এবং প্রয়োজন মনে করলে সেনা মোতায়েন করতে বলেন।

এম আবদুল্লাহ ইসি কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের অবাধ পর্যবেক্ষণ সুবিধা দেওয়া, ৫৭ ধারাসহ গণমাধ্যমবিরোধী কালো আইন বাতিল এবং বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিতে সরকারকে তাগিদ দেওয়ার আহ্বান জানান।

শ্যামল দত্ত বলেন, ইসির ওপর বিএনপির আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংলাপ থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে ইসিকে এমন আচরণ করতে হবে, যাতে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হয়। সেনাবাহিনী নিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, আসল কথা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন। বহু দেশে সেনাবাহিনী ছাড়াই নির্বাচন হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, সেনা মোতায়েন ঠিক হবে না। পুলিশ-র‌্যাবই যথেষ্ট। বিশেষ শক্তির ক্রীড়নক বিদেশি অর্থপুষ্ট পর্যবেক্ষক দরকার নেই।

সোহরাব হোসেন বলেন, ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের বাধা কোন অপশক্তি, তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে যেকোনো পর্যায়ে নির্বাচন বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সবাইকে নির্বাচনে নিয়ে আসা প্রথম দায়িত্ব। বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে সেনা মোতায়েন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। যেকোনো মূল্যে নিজের পক্ষে ফল নেওয়ার অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, কারচুপি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সেনা নিয়োগ করতে হবে। রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তিনি বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, ইসিকে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

আনিসুল হক সংলাপ অনুষ্ঠানে বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণের মতামতের প্রতিফলন ফলাফলে থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি প্রচুর নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক থাকা জরুরি।

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ইসিকে বিএনপির আস্থা অর্জন করতে হবে। প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিলে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। ২০০ কর্মকর্তার তালিকা করে সেখান থেকে ৬০ জন ভালো কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করতে হবে। তিনি সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, নির্বাচন ও মিডিয়া দুটিই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনের ইতিহাস রক্তারক্তির। ইসি রেফারি। লাল কার্ড দেখানোর সাহস থাকতে হবে। ম্যারাডোনাকেও লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করার নজির আছে। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে কথা বলা হয়েছে, তা দেখতে হবে।

নুরুল কবির বলেন, কমিশনের ক্ষমতা আছে, তার প্রয়োগ জরুরি। ডিসি ও ইউএনওকে নির্বাচনী দায়িত্ব না দিয়ে নিজস্ব কর্মকর্তা দিতে হবে। ক্ষমতাসীনরা যেভাবেই হোক জয়লাভ করতে চায় বলে ম্যাকানিজম করে। আইন-শৃঙ্খলার প্রয়োজনে নির্বাচনকালে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রেখে লাভ নেই। নারায়ণগঞ্জে সেনাবাহিনী ছাড়াই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। ভালো নির্বাচনের জন্য, ভালো ভোটার তালিকা, ভোট দেওয়ার সুযোগ ও ভোট শেষে সঠিক ফলাফল বেশি জরুরি। ‘না’ ভোট সম্পর্কে আমি বলেছি, এটি একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ইসি প্রয়োজন মনে করলে একেবারে শেষ দিকে সেনা মোতায়েন করতে পারে। প্রথমে দরকার নেই। নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আমানুল্লাহ কবীর বলেন, জনগণ ও রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জনই ইসির বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

শামসুল হক জাহিদ বলেন, ইসিকে প্রমাণ করতে হবে তারা সরকারের নয়।

আনিস আলমগীর বলেন, নির্বাচনের এত আগে ইসির তত্পরতা কাল হতে পারে।

কাজী সিরাজ বলেন, নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্যের মধ্যে সমমর্যাদা থাকা চাই।


মন্তব্য