kalerkantho


মুক্তামণির হাত থেকে তিন কেজি টিউমার কর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



মুক্তামণির হাত থেকে তিন কেজি টিউমার কর্তন

বিরল রোগের শিকার সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামণির রোগাক্রান্ত হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়েছে গতকাল শনিবার। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এ জটিল অস্ত্রোপচারে এক দল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নেন।

তবে শিশুটির হাত শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবে—এমন আশা এখনো করতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে শিশু মুক্তামণির চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে গতকাল ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন। ডা. সামন্ত জানান, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার ফোন করেন এবং শিশুটির হাতটি না কেটে চিকিৎসা সম্ভব কি না জানতে চান।

গতকাল সকাল ৯টা থেকে প্রায় সোয়া ১১টা পর্যন্ত অপারেশনের পর মুক্তামণিকে অপারেশন পরবর্তী পর্যবেক্ষণ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর এক ব্রিফিংয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তামণির রোগাক্রান্ত হাতের বড় একটি অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। শিশুটির হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার কেটে বের করা হয়েছে। তবু শিশুটির ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কা আছে। এ ছাড়া শিশুটিকে আরো কয়েকটি অপারেশনের মুখে পড়তে হবে।

হয়তো প্রতি সপ্তাহে একটি করে অপারেশন হতে পারে।

ব্রিফিংয়ে বার্ন ইউনিটের অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই অপারেশনটি ছিল বড় ধরনের অপারেশন। আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে অপারেশনটি করেছি। এখনো শিশুটির আরো কিছু স্থানে সমস্যা রয়ে গেছে। সেগুলোও যত দ্রুত সম্ভব অপসারণ করতে হবে। এ ছাড়া শেষ পর্যন্ত হাতটি রাখা যাবে কি না সেটা এখনো অনিশ্চিত। ’

গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. জুলফিকার আলী লেনিন, অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খন্দকারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

৯-১০ বছর ধরে বিরল এক রোগে ভুগছে সাতক্ষীরার ওই শিশু। তার ডান হাত অস্বাভাবিক রকমের ফুলে পচন ধরে গেছে, যা বুকের একাংশসহ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে তার দিন পার হয়। একপর্যায়ে কালের কণ্ঠসহ আরো একাধিক গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উদ্যোগে ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় শিশু মুক্তামণির।


মন্তব্য