kalerkantho


অর্থমন্ত্রী বললেন

সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলেও মধ্যবিত্তের ভয় নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলেও মধ্যবিত্তের ভয় নেই

ফাইল ছবি

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সুরক্ষা থাকছে। আর সুদহার কমায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও একই ব্যক্তির একাধিক স্থান থেকে দ্বিগুণ-তিন গুণ বিনিয়োগের রাস্তা বন্ধ করা হবে। তিন বছর মেয়াদি ও পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগের সুদের হারও কমানো হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে গত শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আমরা সব সময় মার্কেট রেটের (ব্যাংকে আমানতের সুদহার) চেয়ে বেশি রাখি। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের সুদের হার মার্কেট রেটের চেয়ে অনেক বেশি হলে তা মার্কেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এখন ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। সেখানে সঞ্চয়পত্রের ১১.৫ শতাংশ সুদহার অনেক বেশি। তবে সুদহার কমানো হলেও বিশেষ শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। আমরা সঞ্চয়পত্রের সুদহারে ভিন্নতা আনব। এটা কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণে একটি কমিটি আছে। সেই কমিটিতে বাণিজ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন। কমিটির একটি বৈঠক হয়েছে। বাজেট অধিবেশনে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার কমানো নিয়ে যেসব বিষয়ে আপত্তি উঠেছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুদহার কমার কারণে পেনশনার এবং নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা ক্ষতিগ্রস্ত যাতে না হয়, সেটি খেয়াল রাখা হবে। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। কে কোন ধরনের বিনিয়োগকারী তা কঠোরভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। পেনশনার, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের সুরক্ষা দিয়ে বাকিদের ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে। কেউ যাতে ক্রয়সীমার দ্বিগুণ-তিন গুণ কিনতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, সারা দেশে ১৭ হাজার আউটলেট থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। ফলে সঠিকভাবে সব বাছাই করা কঠিন।

শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির, সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমানের সঙ্গে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ চালুর উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। আগামী অর্থবছর থেকে এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে সংগঠিত বেসরকারি খাতগুলোকে এর আওতায় আনা হবে। অংশগ্রহণমূলক হোক বা না হোক, প্রতিটি কম্পানি তার কর্মীদের পেনশন দিতে বাধ্য থাকবে।   তিনি বলেন, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের পেনশন দিলে তাদের জন্য করে ছাড় দেওয়া হবে। এখন প্রভিডেন্ট ফান্ডে যে কর সুবিধা রয়েছে, সে ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, ‘আমাদের দেশে কাঙ্ক্ষিত মানের পুঁজিবাজার গড়ে ওঠেনি। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন না হলে দেশ এগোতে পারবে না। কারণ অন্তত একটা জায়গা থাকা উচিত, যেখানে মানুষ বিনিয়োগ করতে পারবে। ’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কাঙ্ক্ষিত বন্ড মার্কেটও নেই। তবে আমি খুবই খুশি যে কিছু ব্যবসায়ী বন্ড ইস্যু করতে চাচ্ছেন। তাঁরা যদি কোনো বিষয়ে ছাড় চান, আমরা তা বিবেচনা করব। ’


মন্তব্য