kalerkantho


সমতলে ফিরেছেন

এবার হেলিকপ্টার কম্পানির কাছে জিম্মি মুসা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



এবার হেলিকপ্টার কম্পানির কাছে জিম্মি মুসা

অবশেষে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন ওশেনিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কারস্টেনজ পিরামিড জয় করতে গিয়ে বেইস ক্যাম্পে আটকে থাকা মুসা ইব্রাহীম ও তাঁর দুই ভারতীয় সহযাত্রী। প্রায় সাত দিনের মতো আটকে থাকার পর তাঁরা সমতলে ফিরে আসেন।

গতকাল সোমবার ভোর ৫টা ৪৪ মিনিটে ফেসবুকে এই তিনজনের উদ্ধারের তথ্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এরপর সকাল ৬টা ৬ মিনিটে মুসা তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘এই মাত্র তিমিকা এয়ারপোর্টে (ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চল) পৌঁছলাম। ’ ৬টা ৩৭ মিনিটে তিন অভিযাত্রীর একটি ছবি পোস্ট করেন মুসার বন্ধু আশীফ এন্তাজ রবি। তবে সমতলে ফিরলেও এবার হেলিকপ্টার কম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন মুসা ইব্রাহীম।

গতকাল সকালেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীম ওশেনিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কারস্টেনজ পিরামিড জয়ের খবর দেন। সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করেন। তবে সেই আনন্দ সংবাদ দেওয়ার পরপরই নিজের ফেসবুক আইডিতে আরো একটি পোস্ট দেন মুসা, যেখানে হেলিকপ্টার কম্পানির কাছে আটকে থাকার খবর দেন।

ফেসবুক পোস্টে মুসা লেখেন, ‘আমাদের পাসপোর্ট অবৈধভাবে বাজেয়াপ্ত করে গৃহবন্দি করে রেখেছে তিমিকার হেলিকপ্টার কম্পানি এশিয়াওয়ান। উদ্ধার পেয়েছি বেইস ক্যাম্প থেকে, কিন্তু উদ্ধার হচ্ছি না হেলি কম্পানির হাত থেকে।

অ্যাডভেঞ্চার কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। যে হেলিকপ্টার কম্পানি এশিয়াওয়ান আমাদের বেইস ক্যাম্প থেকে নিয়ে এসেছে, তারা আমাদের পাসপোর্ট অবৈধভাবে বাজেয়াপ্ত করে গৃহবন্দি করে রেখেছে। তাদের দাবি, তাদেরকে তিনবার তিমিকা থেকে বেইস ক্যাম্প পর্যন্ত ফ্লাই করার খরচ দিতে হবে, যার পরিমাণ ১১ হাজার মার্কিন ডলার। কিন্তু গত রবিবার তারা নিজেরাই দেরি করে সকাল ১০টায় বেইস ক্যাম্পের দিকে গিয়েছিল। ততক্ষণে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গিয়ে হেলিকপ্টার ফিরে এসেছে তিমিকায়, যা কিনা পুরোটাই হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। কারণ আমরা সকাল ৬টা থেকে প্রস্তুত ছিলাম। ’

মুসা আরো লেখেন, ‘গতকাল সোমবার সকালে এশিয়াওয়ান কম্পানির হেলিকপ্টার আমাদের বেইস ক্যাম্পের পাশের একটা জায়গা থেকে প্রথমবার গিয়ে ফিরে আসে। আমরা দেখতে পেয়েছিলাম হেলিকপ্টার, কিন্তু তারা প্রথমবার উদ্ধার না করেই ফিরে আসে। দ্বিতীয়বার আমরা পতাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম যেন হেলিকপ্টার দেখামাত্রই তা উড়িয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি এবং তা করেছি। এখন হেলিকপ্টার কম্পানির কথা হলো, তাদেরকে পুরো তিনবারের টাকা দিতে হবে। ’

মুসা আরো বলেন, ‘সত্যরূপ সিদ্ধান্ত, নন্দিতা সিএন এবং আমি আট হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে রাজি হয়েছি এবং সে মোতাবেক ঋত্ধহশু কড়ধিধং-এর প্রতিষ্ঠান মানোডা অ্যাডভেঞ্চারকে টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া সত্যরূপ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে সাড়ে চার হাজার ডলার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হেলিকপ্টার কম্পানি এশিয়াওয়ানের জ্যাকবের দাবি তাদের পুরো টাকাটা (১১ হাজার ডলার) দিতে হবে। চিন্তা করছি যে, ফিরতে পারব তো দেশে???’

চার হাজার ৮৮৪ মিটার উচ্চতার মাউন্ট কারস্টেনজ পিরামিড জয় করতে গত ৩০ মে ঢাকা ছাড়েন মুসা ইব্রাহীম। ১ জুন থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৮ জুন। ১৩ জুন কারস্টেনজের চূড়া জয় করে ফেরার পথে বৈরী আবওহাওয়ায় মুখে বেইস ক্যাম্পে আটকে পড়েন মুসাসহ তিন অভিযাত্রী। এর মধ্যে তাঁদের খাবারও শেষ হয়ে যায়। তাঁদের উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করে আসিয়ান দপ্তর এবং ইন্দোনেশিয়ার বাংলাদেশ ও ভারতীয় দূতাবাস।


মন্তব্য