kalerkantho


অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণের তদন্ত বন্ধের ঘোষণা সুইডেনের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণের তদন্ত বন্ধের ঘোষণা সুইডেনের

ভিন্নধারার সংবাদমাধ্যম— উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণের তদন্ত বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে সুইডেন। দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন দপ্তর বলেছে, ধর্ষণের অভিযোগে তাঁকে নোটিশ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পরোয়ানা প্রত্যাহারের অনুরোধ করে আদালতে চিঠিও দিয়েছেন সুইডেনের পাবলিক প্রসিকিউশন দপ্তরের পরিচালক মেরিয়ান নি।

৪৫ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ বর্তমানে লন্ডনে অবস্থিত ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তাঁর আশঙ্কা, আত্মসমর্পণ করলে সুইডেন তাঁকে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। কারণ স্পর্শকাতর মার্কিন দলিল ফাঁসের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়।

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন নথি ফাঁস করে আলোচনায় আসেন উইকিলিকস ও অ্যাসাঞ্জ। একই বছর এক নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে স্টকহোমের আদালতে ধর্ষণ মামলা করে সুইডেন সরকার। তবে শুরু থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন অ্যাসাঞ্জ। পাশাপাশি গ্রেপ্তার এড়াতে ২০১২ সাল থেকে আছেন লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে।

এ অবস্থায় গতকাল শুক্রবার অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণের তদন্ত সমাপ্ত ঘোষণা করেন সুইডেনের পাবলিক প্রশিকিউশন দপ্তরের পরিচালক মেরিয়ান নি। কারণ হিসেবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সুইডেনের আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত যত অল্প সময়ে সম্ভব শেষ করতে হবে। আর এই মামলার ধারা অনুযায়ী, অভিযোগের ব্যাপারে অ্যাসাঞ্জকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ইকুয়েডর দূতাবাসের অসহযোগিতার কারণে আমরা তাঁকে অভিযোগের ব্যাপারে অবহিত করতে পারিনি। এ কারণে তদন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’

তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার হলেও আপাতত ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হতে পারছেন না অ্যাসাঞ্জ। কারণ লন্ডনের ‘মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্ভিস’ (এমপিএস) বলছে, ধর্ষণ ছাড়াও এখন অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ আছে। সেটি হলো, আদালতের নির্দেশের পরও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। এ অভিযোগে তাঁর এক বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

অ্যাসাঞ্জের সুইডিশ আইনজীবী পের স্যামুয়েলসন তদন্ত বন্ধের ঘোষণাকে তাঁর মক্কেলের ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে সুইডিশ সরকারের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন ধর্ষণের অভিযোগ আনা ওই নারী। তবে তিনি মামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার আগে সুইডেনের অনুরোধে যুক্তরাজ্য পুলিশ ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করেছিল। গ্রেপ্তারের ৯ দিন পর কয়েকটি শর্তে জামিন পান তিনি। এরপর যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত অ্যাসাঞ্জকে সুইডেনে হস্তান্তরের রায় দেন। ওই অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯ জুন ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য