kalerkantho


টিসিবির পণ্য বিক্রি

ক্রেতার ভিড় সামলাতে হিমশিম

চাহিদা বেশি তেল-চিনির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



ক্রেতার ভিড় সামলাতে হিমশিম

রাজধানীর তোপখানা রোডে টিসিবির গাড়ি ঘিরে নিত্যপণ্য কেনার জন্য ক্রেতার ভিড়। ছবি : শেখ হাসান

জিগাতলা মোড় থেকে একটু সামনে ট্রাকে করে বিক্রি হচ্ছে টিসিবির পণ্য। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা গেল লম্বা লাইন। নারী-পুরুষ সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে কিনছে তেল, চিনি, ছোলা ও ডাল। তিনজন বিক্রেতা ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

পাঁচ লিটার তেল ও চার কেজি চিনি কিনেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অফিসের ফাঁকে বাজার করতে এসেছি। কারণ দুপুর পার হলে আর পাওয়া যাবে না। আবার আরেক দিন লাইনে দাঁড়াতে হবে। এখানে বাজার মূল্যের চেয়ে বেশ কম দামে তেল-চিনি কিনতে পারছি বলে একটু স্বস্তি পাচ্ছি। ’

দুপুর আড়াইটার দিকে একই ট্রাকের সামনে গিয়ে দেখা গেল, মসুর ডাল ছাড়া সব কিছু বিক্রি হয়ে গেছে। তিন বিক্রেতা বেশ আয়েশ করে চা খাচ্ছেন।

অনেকেই পণ্য কিনতে এসে ফেরত যাচ্ছে। কেউ কেউ এ প্রতিবেদককে বলেন, কাল সকালে এসে লাইনে দাঁড়াবেন।

কোন পণ্যের চাহিদা বেশি জানতে চাইলে বিক্রেতা কামাল বলেন, তেল আর চিনিটাই বেশি নিচ্ছে। ছোলার মোটামুটি চাহিদা রয়েছে। বাজার মূল্যের সঙ্গে তেল ও চিনির মূল্যের বেশ পার্থক্য থাকায় এ দুটির চাহিদা বেশি।

এ বিক্রেতা বলেন, টিসিবি এখনো খেজুর দেয়নি। আর খেজুরে মানুষের আগ্রহ কম থাকে। কারণ খেজুরগুলো মানের দিক থেকে খুব একটা ভালো থাকে না।

নীলক্ষেত মোড়ের পাশ থেকে টিসিবির তেল, চিনি ও ছোলা কেনেন শাহনাজ বেগম। তিনি বলেন, ‘লাইনে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ ছাড়া কোনো সমস্যা নেই। আমার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য কিনতে পেরেছি। মান নিয়ে খুব একটা অসন্তোষ নেই। ’

সেখানকার বিক্রেতা জুয়েল জানান, চিনির চাহিদা খুব বেশি থাকায় এটা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তেল-ছোলারও বেশ চাহিদা রয়েছে। রমজানের বেশি দেরি নেই। তাই এসব পণ্যের চাহিদা বেশি।

চিনি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৮০ টাকা, সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা ও খেজুর ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা একসঙ্গে সর্বোচ্চ চার কেজি চিনি, তিন কেজি মসুর ডাল, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল, পাঁচ কেজি ছোলা ও এক কেজি খেজুর কিনতে পারছেন। গত সোমবার থেকে সারা দেশে টিসিবি এসব পণ্য বিক্রি শুরু করেছে।

সারা দেশে ১৮৫টি ট্রাক, ২৮১১ জন ডিলার ও নিজস্ব ১০টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ঢাকা শহরে ৩৩টি স্থানে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

ঢাকায় ট্রাকে বিক্রির স্থান : সচিবালয় গেট, প্রেস ক্লাব, কাপ্তানবাজার, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ ও পলাশীর মোড়, সায়েন্স ল্যাব মোড়, নিউ মার্কেট, শ্যামলী-কল্যাণপুুর, জিগাতলা মোড়, খামারবাড়ী, কলমীলতা বাজার, রজনীগন্ধা সুপারমার্কেট কচুক্ষেত, আগারগাঁও-তালতলা ও নির্বাচন কমিশন অফিস, আনসার ক্যাম্প, মিরপুর-১ মাজার রোড, শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ বাজার, বাসাবো বাজার, বনশ্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়, মহাখালী কাঁচাবাজার, শেওড়াপাড়া বাজার, দৈনিক বাংলা মোড়, শাহজাহানপুর বাজার, ফকিরাপুল বাজার ও আইডিয়াল স্কুল এলাকা, মতিঝিল বকচত্বর, খিলগাঁও-তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার, মিরপুর-১০ গোলচত্বর, আশকোনা হজ ক্যাম্প, মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার, দিলকুশা, মাদারটেক-নন্দীপাড়া কৃষি ব্যাংকের সামনে এবং কালশী মোড়।

গতকাল কিছু কিছু জায়গায় যেমন প্রেস ক্লাব, কারওয়ান বাজার, খামারবাড়ী মোড়ে দুপুরের আগেই ট্রাকের সব পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে যায়। অনেকে দুপুরের পর এসে ফিরে গেছে।


মন্তব্য