kalerkantho


রমজানের আগেই ভাস্কর্য সরানোর দাবি হেফাজতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ মে, ২০১৭ ০০:০০



রমজানের আগেই ভাস্কর্য সরানোর দাবি হেফাজতের

রোজার আগেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই আমরা আসন্ন রমজানের আগেই সেটি অপসারণের জোর দাবি জানাই। প্রধান বিচারপতির কাছেও আমাদের দাবি, বৃহত্তর তৌহিদি জনতার চাওয়াকে গুরুত্ব দিন এবং দেশে এই ইস্যুতে যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য মূর্তি অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নিন। অন্যথায় যথাসময়ে মূর্তি না সরালে আমরা আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হব। ’

গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম নেতারা বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, শিল্পকর্ম ও স্থাপত্যকলার বিরুদ্ধে আমরা নই। বরং মানুষের শিল্পবোধ ও মননশীলতার উন্নয়নে এগুলোর গুরুত্ব রয়েছে বলে আমরা মনে করি। আপনারা ইসলামী শিল্পকর্মের ইতিহাসের দিকে তাকান—আগ্রার তাজমহল, জেরুজালেমের ডোম অব দ্য রক, স্পেনের কর্ডোভায় খোদাইকৃত মুঘিরা কৌটা, কায়রোতে সেন্ট লুইয়ের ব্যাপ্টিস্টেয়ার—এগুলো মুসলমান কর্তৃক বিশ্বনন্দিত ইসলামী শিল্পকর্মের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। ’

বিবৃতিতে নেতারা আরো বলেন, ‘মূর্তি বা প্রতিমা নির্মাণ ব্যতীত এবং ইসলামের বিশ্বাসব্যবস্থা তথা তাওহিদ ও ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো শিল্পকর্ম ও স্থাপত্যকলায় ইসলামের আপত্তি নেই।   কাজেই আমাদেরও কোনো আপত্তি থাকতে পারে না। কিন্তু পাশ্চাত্যের মডার্নিজম তথা আধুনিকতাবাদ এবং ইউরোপীয় খ্রিস্টীয় সভ্যতার আলোকে ইসলাম তার শিল্পবোধ, নান্দনিকতাবোধ ও কলাজ্ঞান পরিমাপ করে না। সুতরাং ইসলাম প্রাচীন মূর্তিকেন্দ্রিক পৌত্তলিক জাহেলিয়াতকে শিল্পের নামে উপস্থাপন করারও বিরোধী। যেমন—আমাদের হাইকোর্টের সামনে রোমানদের প্রাচীন বিশ্বাসের অংশ ন্যায়ের দেবী থেমিসের মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন। ’

নেতারা বলেন, ‘গ্রিক দেবী মূর্তির পক্ষে যাঁরা আজ ওকালতি করছেন, হাদিস অনুযায়ী পরকালে তাঁদের হাশর হবে মূর্তি প্রস্তুতকারীগণের সঙ্গে। তা ছাড়া এই মূর্তির সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। তাই এটির অপসারণ শতভাগ যৌক্তিক এবং এটি ধর্মপ্রাণ গণমানুষের ঈমানের দাবিও বটে। ’


মন্তব্য